Shahida Fakir

দেশে ফিরতে চাইছেন অনিশ্চয়তায় দিন কাটানো সাহিদা ফকির

আন্তর্জাতিক

মীর আফরোজ জামান: সাতক্ষীরা
মুম্বাইয়ে নিজের সন্তানদের কাছে ফিরতে চান বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়া সাহিদা ফকির(৫০)। বিএসএফ তাঁকে মুম্বাইয়ে আটক করে আসাম সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে পুশইন করে। বর্তমানে তিনি সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার সোনাবাড়িয়া ইউনিয়নের ভাদিয়ালি গ্রামের আব্দুল মালেকের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন। সেখানে তিনি অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। তিনি তাঁর সন্তানদের কাছে ফিরতে চাইছেন।  
সাহিদা ফকির এদিন দাবি করেছেন, বাংলায় কথা বলার জন্য তাঁকে বাংলাদেশি হিসেবে চিহ্নিত করে জোরপূর্বক মুম্বাইয়ের চেম্বুর ডিটেনশন ক্যাম্পে নিয়ে চার দিন আটকে রাখা হয়। তাঁর অভিযোগ আটক করার পর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ দেওয়া হয়নি তাঁকে। সাহিদার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত ২০ বছর ধরে তিনি মুম্বাইয়ে পরিবারের সঙ্গে বসবাস করেন। উত্তর ২৪পরগনার স্বরূপনগর ব্লকের গোবিন্দপুরের বাসিন্দা সাহিদা ফকির জানলেন, গত ১৯ জুলাই রাতে বাজার থেকে সবজি কিনে বাড়ি ফেরার পথে সিআইডি পরিচয়ে চার-পাঁচজন ব্যক্তি তাকে আটক করে মোবাইল ফোন কেড়ে নেন। এরপর মুম্বাইয়ের চেম্বুর ডিটেনশন ক্যাম্পে নিয়ে চার দিন আটকে রাখেন। তাঁর পরিবার সরকারি নথিপত্র নিয়ে মুম্বাই পুলিশের কাছে গেলেও তাকে ছাড়া হয়নি। চারদিন পর ডিটেনশন ক্যাম্প থেকে তাঁকে বিমানে করে আসাম সীমান্তে নিয়ে যায়। ফেনী সীমান্ত দিয়ে জোরপূর্বক বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। ফেনী সীমান্ত থেকে স্থানীয় প্রশাসনের লোকজন তাকে অন্য ৫-৬ জনের একটি দলের সঙ্গে গাড়িতে করে বেনাপোলে পাঠিয়ে দেন। ওই দলের সবাই বাংলাদেশের নাগরিক হওয়ায় তারা যার যার মতো চলে গেছেন। কিন্তু তার কোনো যাওয়ার জায়গা না থাকায় অসহায় হয়ে বেনাপোলে পড়ে ছিলেন তিনি। শারীরিকভাবেও অসুস্থ হয়ে পড়েন। সাহিদা জানান, ভারতে তার ২৩ ও ১৪ বছর বয়সী দুই সন্তান রয়েছে। তিনি দ্রুত নিজের দেশে সন্তানদের কাছে ফিরেতে চাইছেন। 
সোনাবাড়িয়া এলাকার গৃহবধূ আরিফা বেগম এদিন বলেন, তাঁর স্বামী আবুল বাশার ভারত থেকে ফেরার সময় বেনাপোলে কাদা-মাটি মাখা অবস্থায় কান্নাকাটি করতে থাকা সাহিদা ফকিরকে দেখতে পান। মানবিক দিক বিবেচনা করে তিনি তাঁকে বাড়িতে নিয়ে আসেন। পাঁচ দিন ধরে সাহিদা বর্তমানে বাড়ির পাশে আব্দুল মালেকের বাড়িতে রয়েছেন।
সোনাবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নাজমা বেগম বলেন, ‘‘ভারত থেকে  আসা মহিলা ভাদিয়ালি গ্রামে আশ্রয় নেওয়ার ঘটনা সত্য। তিনি বিষয়টি স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনকে জানিয়েছেন।’’ 
কলারোয়া থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক এইচ এম শাহীন বলেন, বিষয়টি জানার পরপরই ওই বাড়িতে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এই প্রসঙ্গে বিজিবির পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোন মতামত পাওয়া যায়নি। বাংলাদেশের বিশিষ্ট মানবাধিকার কর্মী অ্যাডভোকেট এলিনা খান গণশক্তিকে বলেন, ‘‘বাংলা ভাষায় কথা বলার কারণে ভারত তাদের দেশের নাগরিকদেরই অমানবিকভাবে বাংলাদেশে ঠেলে দিচ্ছে। তিনি বলেন, বাংলা ভাষাভাষী মানুষদের উপর চরম জুলুম ও নির্যাতন।’’
বাংলার পরিযায়ী শ্রমিকরা ভিনরাজ্যে কাজে গিয়ে নানান সমস্যার সম্মূখিন হচ্ছেন। বাংলায় কথা বলার জন্য কোথাও থানায় আটক করা হচ্ছে। কোথাও পরিচয়পত্র দেখালেও ‘বাংলাদেশী’ তকমা দেওয়া হচ্ছে। বাংলাদেশী তকমা দিয়ে কয়েকজনকে বাংলাদেশ পুশব্যাক করার ঘটনাও ঘটেছে। বিজিবি’র তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৭ মে থেকে চলতি বছরের ২৬ জানুয়ারি পর্যন্ত আট মাসে বিএসএফ ২ হাজার ৪৭৯ জনকে বাংলাদেশে পুশ ইন করেছিল। তাঁদের মধ্যে ১২০ জন ছিলেন ভারতীয় নাগরিক। তবে গত মে মাস থেকে আবার সীমান্তে পুশ ইনের চেষ্টা বাড়তে থাকে। ২০২৬ সালের ১ জুন থেকে এখন পর্যন্ত ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী ২১টি পুশইনের চেষ্টা প্রতিহত করেছে। এই ২১ টি ঘটনায় শিশুসহ ২০০ জনের বেশি মানুষকে বাংলাদেশের সীমান্ত জেলাগুলোতে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। এদিন সাহিদা ফকির অভিযোগ করে বলেছেন, তদন্ত হয়নি, কোনো নোটিশও তাঁকে দেওয়া হয়নি। আদালতেও তাঁকে তোলা হয়নি। আদালতের নির্দেশ ছাড়াই তাঁকে বাংলাদেশি তকমা দিয়ে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। 

Comments :0

Login to leave a comment