বুধবার ১২ আগস্ট বিশ্ব হাতি দিবস। তার আগে মঙ্গলবার বিশ্ব হাতি দিবস উপলক্ষে গরুমারা গাছবাড়ি পিলখানার ধূপঝোড়া বিটে বিশেষভাবে তৈরি ফ্রুট কেক কেটে হাতি দিবস পালন করা হলো। এদিন গাছবাড়ি পিলখানার কুনকি হাতিদের দ্বারা ওই বিশেষ ফ্রুট কেক কাটা হয়। কুনকি হাতিদের সাথে ছিলেন গরুমারার বনধিকারিক সহ বনকর্মীরা। গরুমারার কুনকি ভিম, কৃষ্ণকলি, শ্রাবণী এদিন ওই বিশেষ কেক নিজেদের শুড় দিয়ে কাটে। পাশাপাশি এদিন পাতা ওয়ালা ও হাতির মাহুদের জন্য স্বাস্থ্য পরীক্ষা শিবির ও খুদেদের নিয়ে অঙ্কন প্রতিযোগিতা করা হয়। স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা জুমবো ট্রুপ এর সহায়তায় এই কর্মসূচি করা হয়। গরুমারার এডিএফও বলেন, কলা, শসা, কুমড়ো, তরমুজ, ডাল সহ হাতিদের প্রিয় খাবারের বিভিন্ন ফলমূল দিয়ে এদিন কলাপাতার উপরে ওই বিশেষ ফ্রুট কে তৈরি করা হয়। কুনকি হাতিদের দ্বারাই এদিন ওই কেক কেটে বিশ্ব হাতি দিবস পালন করা হয়। পাশাপাশি মাটিয়ালী ব্লক স্বাস্থ্য দপ্তরের সহযোগিতায় এদিন পাতা ওয়ালা ও হাতির মাহুতদের নিয়ে স্বাস্থ্য পরীক্ষা শিবিরও করা হয়।হয় অঙ্কন প্রতিযোগিতাও। জুমবো ট্রুপ এর প্রজেক্ট ইনচার্জ রিকজ্যোতি সিংহ রায় বলেন, বিশ্ব হাতি দিবসের দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখার জন্যই এই বিশেষ উদ্যোগ।
জনসচেতনতা বাড়াতে ২০১২ সালে কানাডিয়ান চলচ্চিত্র নির্মাতা প্যাট্রিসিয়া সিমস, মাইকেল ক্লার্ক ও থাইল্যান্ডের এলিফ্যান্ট রিইন্ট্রোডাকশন ফাউন্ডেশনের প্রধান শিভাপর্ন দারদারানন্দ বিশ্ব হাতি দিবস পালন করা শুরু করেন। এরপর থেকে প্রতি বছরের ১২ আগস্ট বিশ্ব হাতি দিবস পালিত হয়ে আসছে। চোরাশিকার, বাসস্থান ধ্বংস, মানুষের সাথে সংঘাত এবং বন্দিদশায় নির্যাতন হলো আফ্রিকান ও এশীয় হাতিদের কয়েকটি প্রধান হুমকি।
বন্য হাতিদের আরও ভালোভাবে সুরক্ষা প্রদান এবং উন্নততর প্রয়োগ নীতির লক্ষ্যে কাজ করাই প্রতি বছর বিশ্ব হাতি দিবস উদযাপনের অন্যতম প্রধান কারণ। একটা সময় পৃথিবীজুড়ে কয়েকশো প্রজাতির হাতি থাকলেও, কমতে কমতে এখন তা নেমে এসেছে মাত্র চারটিতে। এর মধ্যে দুটি আবার বিলুপ্তপ্রায়। তাই বিশ্বে দু'রকমের হাতি পাওয়া যায় - একটি আফ্রিকান এবং অন্যটি এশিয়ান। কানের আকারগত তফাতের মাধ্যমে এই দুই প্রজাতিকে আলাদা করে চেনা যায়।
বিশ্ব হাতি দিবস হলো মানুষের প্রতি একটি আহ্বান, যেন তারা সেইসব সংস্থাকে সমর্থন করে যারা হাতির দাঁত ও অন্যান্য বন্যপ্রাণী পণ্যের অবৈধ চোরাশিকার ও ব্যবসা বন্ধ করতে, বন্য হাতির বাসস্থান রক্ষা করতে এবং গৃহপালিত হাতিদের স্বাধীনভাবে বসবাসের জন্য অভয়ারণ্য ও বিকল্প বাসস্থান প্রদানে কাজ করছে। পৃথিবীর এই আশ্চর্যজনক এবং অত্যন্ত বুদ্ধিমান প্রাণীগুলোর সংরক্ষণের বৈশ্বিক বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য প্রতি বছর ১২ আগস্ট বিশ্ব হাতি দিবস পালন করা হয়। এই প্রাণীগুলো সহানুভূতি, আত্মসচেতনতা এবং সামাজিক বুদ্ধিমত্তার মতো মানুষের মতো গুণাবলী প্রদর্শন করতে সক্ষম।
World Elephant Day
ফ্রুট কেক কেটে হাতি দিবস পালন গরুমারায়
×
Comments :0