লাল ঝান্ডার ওপর, সিপিআই(এম)’র ওপর হুমকি হামলা হলে তার পালটা এমন প্রতিবাদ আন্দোলন হবে যে বিজেপি’কে তা দীর্ঘদিন মনে রাখতে হবে। কোনোভাবেই মাথা নত করানো যাবে না সিপিআই(এম) কর্মীদের। সোমবার উল্টোডাঙার এক জনসভায় সিপিআই(এম) রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম এই মন্তব্য করে বলেন, সরকারের কাজ সাধারণ মানুষের স্বার্থ রক্ষা করা, ভাঙচুর-দখল-হাঙ্গামাকে প্রশ্রয় দেওয়া নয়। এ রাজ্যে তো ২১ শে আইন জারি হচ্ছে ক্রমশ। রাজ্য যদি এভাবেই চলতে থাকে বিজেপি’র অবস্থাও তৃণমূলের মতোই হবে।
এদিন উল্টোডাঙা মুচিবাজারে প্রতিরোধের জনসভার ডাক দেয় সিপিআই(এম)। এলাকায় গণশক্তির বোর্ডের ওপর হামলা, বোর্ডের স্থান দখল এবং অঞ্চলের পার্টি নেতৃবৃন্দকে হেনস্তার ঘটনা ঘটে সম্প্রতি। প্রতিবাদ করতে গেলে তাঁদের মোবাইল ফোন ভেঙে দেওয়া হয়। বিজেপি’র প্রত্যক্ষ মদতে এই ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ। এর বিরুদ্ধে আরও তীব্র প্রতিরোধ গড়ে তোলার ডাক দেয় সিপিআই(এম)। বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতীরা সভার মাইক লাগাতেও বাধা দেয় বলে বক্তব্য পার্টি কর্মীদের। এদিনের প্রতিবাদের জনসভায় যোগ দেন এলাকার অসংখ্য সাধারণ শ্রমজীবী মানুষ। মহম্মদ সেলিম ছাড়াও বক্তব্য রাখেন সিপিআই(এম) কলকাতা জেলার সম্পাদক কল্লোল মজুমদার সহ রূপা বাগচী, রাজীব মজুমদার, বাবুমনি ঘোষ, সাগ্নিক সেনগুপ্ত, তুলানন্দ ঠাকুর, বিরতি দত্ত প্রমুখ। সভাপতিত্ব করেন বিজয় মাইতি।
মহম্মদ সেলিম বলেন, বিজেপি’র রাজনীতিতে অতিষ্ট হয়ে উঠছে সাধারণ মানুষ। বাক্ স্বাধীনতা থেকে ধর্মীয় স্বাধীনতা— সবেতেই ফতোয়া জারি করছে, হিংসার রাজনীতি চলছে। এটা দেশপ্রেম নয়। কেন মানুষ অভুক্ত আছে, কেন স্কুল শিক্ষা বন্ধ হয়ে আছে, কেন বেকার যুবকদের কাজ হচ্ছে না— সেসব দেখার কথা একটা সরকারের। কিন্তু বিজেপি সরকার তা সম্পূর্ণ এড়িয়ে যাচ্ছে। উলটে গরিব মানুষের ওপর জুলুম চলছে, হকারদের রুজি রোজগার কেড়ে নিচ্ছে। আজকে মানুষ প্রশ্ন তুলছেন দুর্নীতিগ্রস্ত তৃণমূলের এমপি এমএলএ-রা কি করে এবং কেন বিজেপি’র বাক্সে জমা হয়ে যাচ্ছেন-কত টাকা ঘুষ দিলেন— কি জবাব দেবেন শুভেন্দু অধিকারী বা শমীক ভট্টাচার্য, কিংবা অমিত শাহ অথবা নরেন্দ্র মোদী।
সেলিম বলেন, আসলে কালো টাকা ধরা হবে বলে মানুষকে এক সময়ে বোকা বানিয়েছিলেন নরেন্দ্র মোদী, নোটবন্দির নামে তিনি তামাশা করেছিলেন দেশবাসীর সঙ্গে। তিনি বলেছিলেন দুর্নীতি বন্ধ করবেন। এখন আবার এসআইআর’র নামে ঠিক একই কাজ করছেন। বছরে ২ কোটি চাকরির মিথ্যা প্রতিশ্রুতি তো আগেই দিয়েছেন, ওদিকে বিভিন্ন ধাম থেকে ধর্মীয় গুরুদেব ধরে এনে মানুষ কি খাবে, কি পরবে তার নির্দেশ দিচ্ছে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। ওদিকে বিভিন্ন হাঙ্গামায় উৎসাহ দিচ্ছেন বিজেপি নেতা মন্ত্রীরা। এই রাজনীতি ভয়াবহ রাজনীতি। মানুষ এসব চায় না। তারা শান্তিতে বাস কতে চায়, একটা কাজ চায়, সংসারটা ভালোভাবে চলুক— এটা চায়। আর বিজেপি’র লালিত আম্বানি আদানিরা কৃষি, ব্যবসা বাণিজ্য, পরিবহণ, জ্বালানি সব নিজেদের হাতের মুঠোয় নিতে চায়। সিপিআই(এম) এসব হতে দেবে না, লাল ঝান্ডা তিল তিল করে মানুষের অধিকারের রাস্তা তৈরি করে। তাই বিজেপি’র আক্রোশ এই লাল ঝান্ডার প্রতি। লাল ঝান্ডা সবসময়েই মানুষের সঙ্গে আছে, থাকবে।
কল্লোল মজুমদার তাঁর বক্তব্যে বলেন, সবাইকে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার দেওয়া থেকে শুরু করে জিনিসপত্রের মূল্যবৃদ্ধি, গ্যাসের দাম কমানো, ২০০ ইউনিট বিদ্যুৎ ফ্রি— এসব যে মিথ্যা প্রতিশ্রুতি ছিল তা এখন মানুষ বুঝতে পারছেন। এসব কিছু করে উঠতে পারবে না জেনেই এখন মানুষকে নানাভাবে বিভ্রান্ত করে চলেছে বিজেপি। আসছে হুমকি, হামলা হচ্ছে। তাই আমাদেরও পালটা পথে নামতে হচ্ছে। অতীতের অনেক লড়াইয়ের অভিজ্ঞতা আছে সিপিআই(এম) তথা বামফ্রন্টের। এই লড়াই আগামী দিনে আরও তীব্র হবে।
Md Salim
হুমকি, হামলা দিয়ে সিপিআই(এম)’র মাথা নত করানো যাবে না: সেলিম
উল্টোডাঙ্গার সমাবেশ, বলছেন মহম্মদ সেলিম।
×
Comments :0