জেএনইউ’র উপাচার্য পদের জন্য শান্তিশ্রী ধুলিপুড়িকে নির্বাচন করার আগে আরএসএস’র অতি ঘনিষ্ট সনাতনী শিক্ষাবিদ—এই যোগ্যতা ছাড়া আর কোনও যোগ্যতা আছে কিনা সেটা যাচাই করার প্রয়োজন বোধ করেনি মোদী-শাহ-দের সরকার। সারা বিশ্বে পরিচিত ভারতের সেরা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হবার মতো যথাযথ যোগ্যতা থাকত তাহলে জাতপাত নিয়ে এমন কুৎসিত ও কুরুচিকর মন্তব্য করার আগে অন্তত দশবার ভাবতেন। সঙ্ঘের হিন্দুত্ববাদী যুক্তিহীন অন্ধজ্ঞানে তিনি এতটাই বুঁদ হয়ে আছেন যে নির্দ্বিধায় সমাজের জাত বৈষম্য, দলিত-আদিবাসীদের উপর সামাজিক ও জাতিগত শোষণ-বঞ্চনা নিপীড়নের নির্মম বাস্তবতাকে অস্বীকার করে আরএসএস’র ঘরানার উগ্রজাতি বিদ্বেষী ভাষ্য সগৌরবে আওড়াতে পারলেন। সঙ্গত কারণেই তাঁর এই ভাষ্যের ও মতামতের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ ধ্বনিত হয়েছে দেশের সর্বত্র নানা মহল থেকে। ধিক্কার জানিয়েছেন গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও প্রগতিশীল চেতনার মানুষ। জেএনইউ’র নির্বাচিত ছাত্র সংসদ এবং ছাত্র ও শিক্ষকরা একবাক্যে উপাচার্যের পদত্যাগ এবং প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
জাতিভিত্তিক বৈষম্য ঠেকাতে ইউজিসি যে নতুন বিধি চালু করছে সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তার বিরুদ্ধে সরাসরি অবস্থান নেন শান্তিশ্রী। তিনি এই উদ্যোগকে অপ্রয়োজনীয়, অযৌক্তিক ও প্রগতিশীলতার ভণ্ডামি বলেই শুধু কটাক্ষ করেননি একই সঙ্গে এদেশে দলিত আদিবাসীরা সারা জীবন শোষিত ও বঞ্চিত থাকার ভণিতা করে বা ভিক্টিম কার্ড দেখিয়ে বাড়তি সুবিধা আদায় করে জীবনে উন্নতি করতে চায় বলে মন্তব্য করেন। তাঁর মতে পশ্চিমী দুনিয়ায় কৃষ্ণাঙ্গরা যেভাবে শোষিত সাজার চেষ্টা করে তার অনুকরণে এখানেও দলিত আদিবাসীরা শোষিতের ভণ্ডামি করে। একজন উপাচার্য এমন জঘন্য মতামত ব্যক্ত করতে পারেন তারা যায় না।
মুক্তচিন্তার শ্রেষ্ঠ আধার হিসাবে বিশ্বজুড়ে বিশ্ববিদ্যালয়গুলি পরিচিত। ভারতে জেএনইউ তার সেরা উদাহরণ। সেই বিশ্ববিদ্যালয়গুলি তথা উচ্চ শিক্ষা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলিকে হিন্দুত্ববাদী অন্ধ কুসংস্কার আর মৌলবাদী চিন্তার বদ্ধ জলায় পরিণত করতে চায় মোদী সরকার। তাই যাবতীয় কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও উচ্চশিক্ষার প্রতিষ্ঠানগুলির শীর্ষপদে বেছে বেছে বসানো হচ্ছে আরএসএস’র চিন্তার অনুগামী লোকজনদের। বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতেও চলছে এই একই ধারা। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে করতে চাইছে হিন্দুত্ববাদীদের আখড়া। তথ্য প্রমাণভিত্তি ইতিহাসকে বাতিল করে অসত্য, অর্ধসত্য ও বিকৃত ইতিহাসকে পাঠ্যসুচিতে যোগ করছে। ধর্মীয় গালগল্প, পুরান ইত্যাইদিকে বিশ্বাসের তকমা দিয়ে ইতিহাস হিসাবে চালানো হচ্ছে। মনুবাদকে প্রাধান্য দিয়ে সমাজে জাতপাত ও বর্ণপ্রথাকে বৈধতা দিচ্ছে। সমাজে নারীর অবস্থান সঙ্কুচিত করে পুরুষতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। সমাজে নারী-পুরুষের সমান অধিকার, সমান মর্যাদা অস্বীকার করা হচ্ছে। শান্তিশ্রী এমন পশ্চাৎপদ ভাবনার উপাদানেই তৈরি। তাঁর মুখে এমন কদর্য উচ্চারণ তাই অস্বাভাবিক কিছু নয়। জেএনইউ’র জন্য তিনি উপযুক্ত নন। নাগপুরই তাঁর জন্য ঠিক জায়গা।
JNU
জেএনইউ’র অনুপযুক্ত
×
Comments :0