Protest

নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে দেশ জুড়ে প্রতিবাদে পথে বিরোধীরা

জাতীয়

দিল্লির যন্তর মন্তর সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবি বিক্ষোভ বিরোধীদের। দিল্লির যন্তর মন্তরে বামপন্থী রাজনৈতিক দল গুলোর পক্ষ থেকে বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়। দিল্লি পুলিশের পক্ষ থেকে অতিসক্রিয়তা লক্ষ করা যায় বিক্ষোভ দমন করতে। সিপিআই(এম-এল) লিবারেশনের সাধারণ সম্পাদক দীপঙ্কর ভট্টাচার্য সহ একাধিক বামপন্থী নেতা।
বিহার, আসাম সহ দেশের অন্য প্রান্তেও হয় বিক্ষোভ। নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে চলা এই বিক্ষোভকে দমাতে একাধিক রাজ্য বল প্রয়োগ করেছে পুলিশ। ব্যবহার করা হয়েছে জমকামান। 
সম্প্রতি ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, গত ১০ মাসে অন্তত ১৪ বার নির্বাচন কমিশনের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়ে আপত্তি জানিয়েছিলেন দুই নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু ও বিবেক যোশী। ওই প্রতিবেদন প্রকাশ্যে আসার পরই নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে বিরোধী দলগুলি।
তবে বিষয়টি নিয়ে নির্বাচন কমিশন সূত্রের বক্তব্য, কোনও নির্বাচন কমিশনারই আনুষ্ঠানিকভাবে ডিসেন্ট বা ভিন্নমত নথিভুক্ত করেননি। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে তারা কিছু পর্যবেক্ষণ জানিয়ে ছিলেন এবং কমিশন সেই বিষয়গুলি খতিয়ে দেখেছে বলেই দাবি সূত্রের। কমিশনের সমস্ত সিদ্ধান্তেই মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার এবং দুই নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু ও বিবেক যোশীর স্বাক্ষর রয়েছে বলেও জানানো হয়েছে।
কমিশন সূত্রের দাবি, তিন সদস্যের কমিশনে কোনও বিষয়ে দুই সদস্য একমত হলে সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা বলা রয়েছে। সূত্রের বক্তব্য, বিশেষ করে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর-সহ নির্বাচন কমিশনের সমস্ত সিদ্ধান্তই সর্বসম্মতভাবে এবং তিন কমিশনারের অনুমোদন নিয়েই নেওয়া হয়েছে।
তবে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ভোটার তালিকার ফর্ম-৬ পরিবর্তন এবং ভোটার তালিকার তথ্য কেন্দ্রীয়ভাবে একত্রিত করার মতো বিষয় নিয়ে দুই নির্বাচন কমিশনার একাধিকবার আপত্তি তুলেছিলেন। ফর্ম-৬-এ পরিবর্তনকে তারা অবৈধ ও অননুমোদিত বলে উল্লেখ করেছিলেন বলেও প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। তাদের বক্তব্য ছিল, ১৯৬০ সালের Registration of Electors Rules সংশোধন না করে আইনি বা বিধিবদ্ধ ফর্মে পরিবর্তন আনা যায় না। পরে আপত্তি সত্ত্বেও ওই পরিবর্তন বহাল রয়েছে বলে সান্ধু নথিভুক্ত করেছিলেন বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
এই ঘটনা নির্বাচন কমিশনের এসআইআরকে ঘিরে চলা রাজনৈতিক সংঘাতকে আরও তীব্র করেছে। বিরোধীদের অভিযোগ, ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে এমন একটি প্রক্রিয়া চালানো হচ্ছে, যার মাধ্যমে বিপুল সংখ্যক ভোটারের নাম বাদ পড়তে পারে। বিজেপির রাজনৈতিক সুবিধার জন্যই এই প্রক্রিয়া ব্যবহার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ বিরোধীদের। যদিও এই অভিযোগের সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের বক্তব্যের পার্থক্য রয়েছে।

Comments :0

Login to leave a comment