ইউপিআই’র মাধ্যমে লেনদেনে ০.৪ শতাংশ হারে মাশুল বসালো ন্যাশনাল পেমেন্টস কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়া। মঙ্গলবার দেশে ইউপিআই লেনদেন নিয়ন্ত্রক এই সংস্থা এনপিসিআই ঘোষণা করেছে যে ১৫ অক্টোবর থেকে নির্দিষ্ট কিছু 'পার্সন-টু-মার্চেন্ট' ইউপিআই লেনদেনের ক্ষেত্রে সরকার 'মার্চেন্ট ডিসকাউন্ট রেট' চালু করবে। এর আওতায়, ২,০০০ টাকার বেশি মূল্যের লেনদেনের ওপর ব্যবসায়ীদের ০.৪% হারে মাশুল দিতে হবে এবং ৭৫,০০০ টাকা বা তার বেশি মূল্যের পেমেন্টের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ফি ৩০০ টাকা মাশুল ধার্য করা হয়েছে।
অনলাইন লেনদেনে মাশুল বসানোর লক্ষ্য আগেই বেরিয়ে এসেছিল। বিভিন্ন অংশই এই মাশুল বসানোর বিরোধিতা করে। সরকারের তরফে তখন বলা হয়েছিল যে সাধারণ ক্রেতার ঘাড়ে বোঝা চাপবে না। কিন্তু ঘুরিয়ে সেই বোঝা চাপানো হয়েছে।
এপিসিআই জানিয়েছে যে এই পদক্ষেপের ফলে দৈনন্দিন ইউপিআই লেনদেনের সিংহভাগই নতুন চার্জ কাঠামোর আওতার বাইরে থাকছে।
তবে এই বক্তব্যের বিরোধিতা করেছেন সিপিআই(এম) সাংসদ জন ব্রিটাস। তিনি বলেছেন, রাজ্যসভায় ঠিক এই আশঙ্কাই জানানো হয়েছিল। সরকার বলেছিল এমন সিদ্ধান্ত হয়নি। বলা হয়েছিল সাধারণ ক্রেতাদের ঘাড়ে বোঝা চাপবে না। বিরোধীদের এড়িয়ে আইনটি পাশ করিয়ে নেওয়া হয়। এক মাসের মধ্যেই সরকারের উদ্দেশ্য স্পষ্ট হয়ে গেল।
কোনও কোনও বাজার বিশেষজ্ঞের হিসাব অনুযায়ী, যদি লেনদেন মূল্যের অর্ধেকের উপর ৪০ বেসিস-পয়েন্টের এমডিআর আরোপ করা হয়, তবে ২০২৮ অর্থবর্ষ নাগাদ ইউপিআই থেকে ২২,০০০ কোটি টাকার বার্ষিক রাজস্ব আয় হতে পারে।
বলা হয়েছে ২,০০০ টাকা পর্যন্ত লেনদেনে কোনো এমডিআর থাকবে না। ইউপিআই পেমেন্টের জন্য গ্রাহকদের কোনো চার্জ দিতে হবে না, পাশাপাশি পার্সন-টু-পার্সন ট্রান্সফারও বিনামূল্যে থাকবে। বলা হয়েছে এক ব্যক্তি থেকে আরেক ব্যক্তি লেনদেন বা ‘পার্সন টু পার্সন ট্রান্সফার’-এ ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা থাকবেন। ইউপিআই কিউআর কোডের মাধ্যমে মাসে ১ লক্ষ টাকা পর্যন্ত টাকা পেলেও এমডিআর থেকে সুরক্ষিত থাকবেন।
বলা হয়েছে রেলওয়ে, টেলিযোগাযোগ, বিমা এবং জ্বালানির মতো ক্ষেত্রগুলিতে ২,০০০ টাকার বেশি লেনদেনের ক্ষেত্রে সাধারণ ০.৪% হারের পরিবর্তে ৫ টাকার একটি নির্দিষ্ট এমডিআর প্রযোজ্য হবে।
মিউচুয়াল ফান্ড, স্টকব্রোকার এবং সিকিউরিটিজ ডিলারদের পেমেন্ট সহ লগ্নি বাজারের লেনদেনগুলোর ক্ষেত্রে এমডিআর-এর হার হবে ০.০২%, তবে এর সর্বোচ্চ সীমা হবে ৩০০ টাকা।
অনলাইন লেনদেন নিয়ন্ত্রক সংস্থা স্পষ্ট করেছে যে, এমডিআর ব্যবসায়ীদেরই বহন করতে হবে এবং এটি গ্রাহকদের উপর চাপানো যাবে না। এর অর্থ হলো, ইউপিআই ব্যবহার করার সময় গ্রাহকদের তালিকাভুক্ত মূল্যই পরিশোধ করতে হবে এবং ইউপিআই অ্যাপগুলো কোনো আলাদা লেনদেন বা প্ল্যাটফর্ম ফি আরোপ করবে না।
কিন্তু এই মাশুলে ছোট ব্যবসায়ী এবং সাধারণ ক্রেতার ওপর চাপের আশঙ্কা জানিয়েছে কংগ্রেসও। দলের তরফে বলা হয়েছে যে ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে ৩১৪ লক্ষ কোটি টাকা লেনদেন হয়ছে ইউপিআই-তে। তার ৬৬ শতাংশ বা ২০৭ লক্ষ কোটি টাকা মূল্যের লেনদেন হয়েছে এমন খরচ মেটাতে যেখানে অর্থমূল্য ২ হাজার টাকার বেশি। এই পুরো অর্থই মাশুলের আওতায় আনা হচ্ছে।
UPI transactions fall under charges
মাশুলের আওতায় ইউপিআই’র ৬৬% লেনদেনই
×
Comments :0