Cooch Behar Zilla Parishad

অচলাবস্থা, আরও জটিল হচ্ছে কোচবিহার জেলা পরিষদ

জেলা

জেলা পরিষদের সভাধিপতি, ও সহ সভাধিপতিকে অপসারণের জন্য তৃণমূলেরই ১৯ জন সদস্য অনাস্থা প্রস্তাব এনেছিলেন। তার জেরে সভাধিপতির বিরুদ্ধে অনাস্থা আনতে বুধবার তলবি সভা। সহ সভাপতিকে সরাতে ১৮ সেপ্টেম্বর তলবি সভা।
প্রশ্ন উঠেছে তলবি সভার আগেই কি সভাধিপতি সুমিতা বর্মন ও সহ- সভাধিপতি আব্দুল জলিল আহমেদ সরে দাঁড়াবেন! নাকি দলের বিক্ষুব্ধ ১৯ জন তাদের অনাস্থা এনে সরাবেন? জেলা পরিষদের অভ্যন্তরে প্রশ্ন উঠেছে, এদিন সভাধিপতির বিরুদ্ধে অনাস্থা পাশ হচ্ছেই। কিন্তু তারপর কি হবে? গ্রাম পঞ্চায়েত এবং পঞ্চায়েত সমিতি দখল নিয়েছে বিজেপি। কিন্তু কোচবিহার, মাথাভাঙার মত বেশ কিছু পৌরসভায় প্রশাসক বসেছে। তবে কি জেলা পরিষদের ক্ষেত্রেও প্রশাসক বসতে চলেছে? তৃণমূলের যে ১৯ জন জেলা পরিষদ সদস্য অনাস্থা এনেছেন তারা মরিয়া চেষ্টা করছেন, বিজেপির সাথে মিশে গিয়ে বোর্ড গড়তে। তলবি সভার ২৪ ঘন্টা আগেও মুখ খোলে নি জেলার বিজেপি নেতারা।
উল্লেখ্য ১৯ তৃণমূলের জেলা পরিষদ সদস্য গত ২৫আগষ্ট প্রথমে জেলা শাসকের কাছে, পরে জলপাইগুড়িতে ডিভিশনাল কমিশনার কাছে গিয়ে অনাস্থা প্রস্তাব জমা দিয়েছিল। গত পঞ্চায়েত ভোটে কোচবিহার জেলা পরিষদের ৩৪ টি আসনের মধ্যে ৩২ টি তৃণমূল ও মাত্র ২ টি আসন বিজেপির দখলে ছিল। বিজেপি প্রকাশ্যে বলছে এই অনাস্থা প্রস্তাবের সাথে তাদের দলের কোন সম্পর্ক নেই। তৃণমূলের যে সদস্যরা অনাস্থা এনেছেন তাদের বক্তব্য, গত ৪ মে বিধানসভা ভোটের ফল প্রকাশের পর থেকে সভাধিপতি বা সহ- সভাধিপতি কেউই আমাদের সাথে যোগাযোগ করে নি। প্রায় ৪ মাস জেলা পরিষদ অচল হয়ে আছে। উন্নয়নের কোন কাজ হচ্ছে না। সে কারণেই অনাস্থা আনা হয়েছে। এক প্রশ্নের উত্তরে অনাস্থার স্বাক্ষর করা পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ কুমার প্রশান্ত নারায়নের মন্তব্য, মানুষের হয়ে কাজ করতে চাই। সে কারণেই এই সিদ্ধান্ত।
তলবি সভা প্রসঙ্গে সভাধিপতি সুমিতা বর্মন বলেন, আমি দায়িত্ব নেবার পর থেকে নিয়ম মেনে কাজ করেছি। তারপরেও আমার সঙ্গীরাই আমার বিরুদ্ধে অনাস্থা এনেছে। এতে আর আমার কি বলার আছে। তলবি সভার আগেই কি পদত্যাগ করছেন? এই প্রশ্নের উত্তর অবশ্য মেলে নি। তবে অনাস্থা আনা সদস্যরা নিজেরাই সভাধিপতি নির্বাচন করবেন নাকি বিজেপির দুজনকে সভাধিপতি ও সহ সভাধিপতি হতে সমর্থন করবেন সে বিষয়ে প্রকাশ্যে কিছু বলেননি মঙ্গলবারেও। পঞ্চায়েত আইন অনুযায়ী তলবি সভায় যদি সভাধিপতি নিজের পক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রমান দিতে না পারেন সে ক্ষেত্রে নতুন সভাধিপতি গঠনের জন্য ডিভিশনাল কমিশনারের তরফে নির্দেশ আসবে জেলাপরিষদের আধিকারিকদের কাছে। সেই নির্দেশের ৩০ দিনের মধ্যে নতুন সভাধিপতি নির্বাচিত করবেন সদস্যরা। অন্যথায় সরকার প্রশাসকও বসাতে পারে। সব মিলিয়ে তলবি সভার আগে কোচবিহার জেলা পরিষদে অচলাবস্থা আরও জটিল হয়েছে। তলবি সভায় অনাস্থা গৃহীত হবার পর দেখার বিজেপি প্রশাসক বসিয়ে জেলা পরিষদ চালায় নাকি নিজেরাই তাদের মাত্র দুই সদস্যকে সভাধিপতি ও সহ সভাধিপতি করে তৃণমূলের ১৭ জনের সমর্থনে জেলা পরিষদের দখল নেয়।

Comments :0

Login to leave a comment