Dinhata

দিনহাটায় আরও এক শ্রমিকের মৃত্যু , ক্ষতিপূরণ দাবি সিপিআই(এম)’র

জেলা

দিনহাটায় দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শনে সিপিআই(এম)’র প্রতিনিধি দল। ছবি -অমিত কুমার দেব।

দিনহাটায় বিদ্যুৎপৃষ্ট হয়ে পাথর কারখানার শ্রমিক মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬জন। রবিবার মৃত্যু হয় মুকুল বর্মন(২৯), রাশু সেন(৩৩), সঞ্জয় বর্মন(৩৩), মিঠুন পাল(৩৩), সুমন বর্মন(৩২) নামে পাঁচজন শ্রমিকের। সোমবার চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় রঞ্জন বর্মন(২৫) নামে আরও এক শ্রমিকের।
সোমবার সিপিআই(এম) কোচবিহার জেলা সম্পাদক অনন্ত রায়ের নেতৃত্বে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান পার্টি নেতা তারাপদ বর্মন, মহানন্দা সাহা, পার্টির রাজ্য নেতৃত্ব প্রণয় কার্যী, সিআইটিইউ কোচবিহার জেলা সভাপতি প্রবীর পাল, যুব নেতা ইউসুফ আলি, মানস বর্মন, সুমনা আহমেদ, শুভ্রালোক দাস প্রমূখ।
মানা হয়নি সরকারি নিয়মকানুন, এরপরও কিভাবে ছাড়পত্র মিলল এই পাথর কারখানার? দিনহাটা ভিলেজ-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের ভাগ্নি দ্বিতীয় খন্ড কোয়ালিদহ এলাকায় বিদ্যুৎপৃষ্ট হয়ে পাথর কারখানার ৬ জন শ্রমিক মৃত্যুর ঘটনার পর এই প্রশ্নই তুলল সিপিআই(এম)। সোমবার ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পর এই প্রশ্ন সামনে আনার পাশাপাশি মৃত শ্রমিক পরিবার প্রতি ১০ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ এবং তাদের প্রত্যেকের পরিবারের একজনকে সরকারি চাকরিতে নিয়োগের দাবি তুললেন সিপিআই(এম) কোচবিহার জেলা সম্পাদক অনন্ত রায়।
রবিবার বিকেলে এই পাথর কারখানায় ব্যবহৃত মিক্সিং মেশিনের লিফট পার্শ্ববর্তী জায়গায় সরিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন প্রায় ৯ জন নির্মাণ শ্রমিক। হঠাৎই দীর্ঘ এই লিফট কারখানার জমির ওপর দিয়ে যাওয়া ১১ হাজার ভোল্টের উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন তারের সংস্পর্শে আসে। সঙ্গে সঙ্গে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মাটিতে পড়ে যান কর্মরত শ্রমিকরা। বিপদ বুঝতে পেরে স্থানীয়রা ছুটে আসেন। খবর পেয়ে দমকল বাহিনী তাদের গাড়ি করে শ্রমিকদের দিনহাটা মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে এলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাঁদের মধ্যে ৫ জনকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। একজন গুরুতর অবস্থায় চিকিৎসাধীন ছিলেন, সোমবার মৃত্যু হয় তার।
প্রায় ৬ মাস আগে এই কোয়ালিদহ এলাকায় প্রায় ১৫ বিঘা এলাকাজুড়ে ওই পাথরের কারখানা তৈরি হয়। এখান থেকেই বিভিন্ন রাস্তা নির্মাণের কাজে পাথর সরবরাহ করা হত। এখানে কর্মরত ছিলেন প্রায় ১৫জন শ্রমিক।
যে জমিতেই পাথর কারখানা গড়ে উঠেছে সংশ্লিষ্ট এই জমিতে মূলত কৃষি জমি। এই কৃষি জমি কমার্শিয়াল জমিতে কনভার্ট না করেই এখানে এই কারখানা গড়ে তোলা হয়েছে অবৈধ ভাবে বলেও অভিযোগ। শুধু তাই-ই নয়, এই জমির ওপর অনেক আগে থেকেই রয়েছে বিদ্যুৎ সরবরাহের ৩৩ হাজার এবং ১১ হাজার হাই ভোল্টেজ উচ্চতা ক্ষমতা সম্পন্ন বৈদ্যুতিক তার। এরপরও কিভাবে এই জমিতে এই পাথর কারখানা গড়ে তোলার অনুমোদন মিললো? তা নিয়ে উঠতে শুরু করেছে প্রশ্ন।
এদিন ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পর অনন্ত রায় বলেন, এই শ্রমিক মৃত্যুর ঘটনা অত্যন্ত বেদনাদায়ক ও মর্মান্তিক। এই কৃষি জমিকে কিভাবে কনভার্ট করে কারখানা করতে দেওয়া হলো, এটা তদন্ত করে দেখা উচিত। এই দুর্নীতির সাথে ভূমি ও ভূমি রাজস্ব দপ্তর, বিদ্যুৎ দপ্তর, স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েত প্রশাসন যুক্ত রয়েছে এবং এদের মাথার ওপর কোন বড় হাত রয়েছে। তিনি বলেন, ৬জন তরতাজা যুবকের মৃত্যুর দায় এই প্রত্যেকটি দপ্তরের। এই মৃত্যুর ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি সহ এই অবৈধ কারখানাটি যাতে কোনো ভাবেই আর খোলা না হয়, এই ব্যবস্থা গ্রহণ জানানোর পাশাপাশি মৃত শ্রমিক পরিবার প্রতি ১০ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ এবং তাদের প্রত্যেকের পরিবারের একজনকে সরকারি চাকরিতে নিয়োগের এদিন দাবি জানান অনন্ত রায়। এদিন সকালেই এই ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান ডিওয়াইএফআই নেতৃত্বরা। ঘটনাস্থলে গিয়ে তারা দেখেন দুর্ঘটনাস্থলটি ব্যারিকেড পর্যন্ত করেনি পুলিশ। এনিয়ে পুলিশকে প্রশ্ন করলে উত্তর দিতে পারেননি পুলিশকর্তারা। পরবর্তীতে ডিওয়াআইএফআইয়ের দাবি মতো দুর্ঘটনাস্থল ঘিরে দেওয়া হয় পুলিশের পক্ষ থেকে। এদিন এই মৃত শ্রমিকদের পরিবারগুলিকে ক্ষতিপূরণ এবং এই মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবিতে কোচবিহার সদর মহকুমা শাসককে ডেপুটেশন দেয় সিআইটিইউ।

Comments :0

Login to leave a comment