Birth Death Registration Bill

জন্ম-মৃত্যুর নথিভুক্তি বিল পেশ লোকসভায়

জাতীয়

 জন্ম-মৃত্যুর বিলম্বিত নথিভুক্তির নিয়ম আরও কঠোর করতে বুধবার লোকসভায় জন্ম- মৃত্যু নথিভুক্তি (সংশোধন) বিল, ২০২৬ পেশ করল কেন্দ্রীয় সরকার। প্রস্তাবিত সংশোধনী অনুযায়ী, কোনও জন্ম বা মৃত্যুর ঘটনা ঘটার দু’বছরেরও বেশি সময় পরে তা নথিভুক্ত করতে হলে প্রথম শ্রেণির বিচারবিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেটের (জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ফার্স্ট ক্লাস) অনুমোদন বাধ্যতামূলক হবে।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহকে প্রশ্নপত্র ফাঁস-বিরোধী বিল নিয়ে আলোচনার সময় সংসদে উপস্থিত থাকার দাবিতে বিরোধীদের বিক্ষোভের মধ্যেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নিত্যানন্দ রাই বিলটি লোকসভায় পেশ করেন।
লোকসভার নিয়ম অনুযায়ী স্পিকার ওম বিড়লা বিরোধী সদস্যদের বিলটির বিরোধিতার সুযোগ দিলেও কেউ বক্তব্য না রাখায় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বিলটি আনুষ্ঠানিকভাবে পেশ করেন।
গত ২০ জুলাই কেন্দ্রীয় মন্ত্রীসভার অনুমোদন পাওয়া এই বিলের মাধ্যমে জন্ম ও মৃত্যু নথিভুক্তি আইন, ১৯৬৯-এর (২০২৩ সালের সংশোধিত রূপ) ১৩(৩) ধারা আরও সংশোধনের প্রস্তাব আনা হয়েছে। সরকারের বক্তব্য, বিলম্বিত নথিভুক্তির বিধান আরও কঠোর করলে জন্ম ও মৃত্যুর ঘটনা সময়মতো জানাতে মানুষ উৎসাহিত হবেন।
বর্তমান আইনে কোনও জন্ম বা মৃত্যু এক বছরের বেশি দেরিতে নথিভুক্ত করতে হলে জেলা শাসক (ডিএম), মহকুমাশাসক (এসডিএম) অথবা ক্ষমতাপ্রাপ্ত এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশ প্রয়োজন হয়।
নতুন বিলে বলা হয়েছে, ঘটনা ঘটার এক বছর থেকে দু’বছরের মধ্যে নথিভুক্তির আবেদন করলে আগের মতোই ডিএম, এসডিএম বা অনুমোদিত এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশ লাগবে। সংশ্লিষ্ট আধিকারিককে ঘটনার সত্যতা যাচাই করে নির্ধারিত ফি-র ভিত্তিতে নথিভুক্তির অনুমতি দিতে হবে।
তবে দু’বছরের বেশি দেরিতে আবেদন করা হলে বিচারবিভাগীয় পর্যায়ে অতিরিক্ত নজরদারির ব্যবস্থা করা হয়েছে। সে ক্ষেত্রে প্রথম শ্রেণির বিচারবিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশ ছাড়া নথিভুক্তি করা যাবে না।
১৯৬৯ সালের আইন অনুযায়ী জন্ম ও মৃত্যুর নথিভুক্তি বাধ্যতামূলক। এই আইনে ইস্যু হওয়া শংসাপত্র কোনও ব্যক্তির আইনি পরিচয়ের গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসাবে গণ্য হয় এবং জন্ম বা মৃত্যুর প্রমাণ হিসাবে আদালতেও গ্রহণযোগ্য।
২০২৩ সালে আইনটি সংশোধন করা হয়েছিল এবং সেই সংশোধিত বিধান ওই বছরের ১ অক্টোবর থেকে কার্যকর হয়। সরকারের দাবি, নতুন সংশোধনীর লক্ষ্যও জন্ম ও মৃত্যুর তথ্য সময়মতো নথিভুক্ত করার প্রবণতা বাড়ানো।
বিলের আর্থিক স্মারকে জানানো হয়েছে, এই সংশোধনী কার্যকর করতে ভারতের সঞ্চিত তহবিল থেকে অতিরিক্ত কোনও ব্যয়ের প্রয়োজন হবে না।
এছাড়া, ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা, ২০২৩-এর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আইনে ব্যবহৃত “এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট” সংক্রান্ত সংজ্ঞাও হালনাগাদ করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। এর ফলে ১৯৭৩ সালের ফৌজদারি কার্যবিধির (সিআরপিসি) পরিবর্তে নতুন আইন অনুযায়ী পরিভাষা ব্যবহার করা হবে। 

Comments :0

Login to leave a comment