মুক্তধারা
অন্যকথা
শরতের দেশ
তপন কুমার বৈরাগ্য
১০ আগস্ট ২০২৬ | ৪র্থ বর্ষ
আমাদের দুই বাংলায় শরতের রূপের শেষ নেই।কিন্তু পৃথিবীর একমাত্র দেশ যাকে বলা হয় শরতের দেশ।
দেশটার নাম এশিয়া মহাদেশে অবস্থিত জাপান।জাপান শরৎ ঋতুতে যেন এক নিজস্ব মহিমায়
উদ্ভাসিত হয়ে ওঠে।জাপানে যেমন চন্দ্রমল্লিকা এবং চেরির এক বিরাট অবদান আছে, তেমনি জাপানে
লাল ম্যাপেলের দান অপরিসীম।আমাদের দেশে যেমন সেপ্টেম্বর মাস থেকে শরতের শুরু ওখানেও শরতের শুরু সেপ্টেম্বর
মাস থেকে। ভারতের চেয়ে জাপানের সময় ৩ঘন্টা ৩০ মিনিট এগিয়ে থাকে।জাপানেই প্রথমে সূর্যোদয় হয়।তাই জাপানকে
উদীয়মান সূর্যের দেশ বলা হয়।এখানকার লাল ম্যাপল গাছ সত্যিই এক আশ্চর্য গাছ।সেপ্টেম্বর মাসে এখানে একটু গরম
থাকে।তখন এই দীর্ঘদেহী গাছের পাতার রঙ সবুজ হয়। এই গাছ ১৮থেকে ২৭মিটার লম্বা হয়।এই গাছের পাতার তিনটে
বা পাঁচটা খন্ড থাকে।অক্টোবর মাসে একটু করে শীতপড়ে এবং এই গাছের পাতা একটু একটু করে লাল হতে থাকে।তারপর
নভেম্বর মাসে গাছের কান্ড ফুল সব উজ্জ্বল লাল বা কমলা রঙধারণ করে।এ এক বড় আশ্চর্যের ব্যাপার।
চোখে না দেখলে বিশ্বাসই করা যায় না।এই গাছগুলো কিয়োটো এবং নিক্কোর মন্দিরের চারপাশে দেখা যায়।জাপানে দুই ধরনের মন্দির
দেগা যায়। বৌদ্ধ মন্দির এবং প্রাচীন ধর্মের মন্দির শিন্টো। এই মন্দিরগুলোকে কেন্দ্র করে এখানে শরৎকালে বিভিন্ন
উৎসব হয়।সেপ্টেম্বরে মাসে এখানে হয় সুকিমি উৎসব।পূর্ণিমার রাতে চাঁদকে দেখার জন্য এই উৎসব অনুষ্ঠিত হয়।আমাদের
দেশের দুর্গাপুজো তেমনি জাপানের সবচেয়ে বড় উৎসব মাতসুরি। তিনমাস ধরে এই উৎসব চলে।জাপানের আর একটা বড় উৎসব
তাকায়ামা শরৎ উৎসব।অক্টোবর মাসের ৯এবং১০তারিখে এই উৎসব হয়।কাঠের সুন্দর সুন্দর রথ তৈরি করা হয়।ঠিক আমাদের
দেশের রথযাত্রা উৎসবের মতন।তাছাড়া এই সময় বিভিন্ন অঞ্চলে পুতুলনাচ উৎসব হয়।জাপানে আর একটা শরৎকালের খুব
সুন্দর উৎসব কুরামা ফায়ার উৎসব ।২২শে অক্টোবর এই উৎসব হয়।মশাল জ্বালিয়ে এই উৎসব হয়।
শরতের আর একটা সুন্দর উৎসব সিসি গো মান। শিশুদের নিয়ে এই উৎসব হয়।নভেম্বর মাসের৩,৫,৯তারিখে ছোট ছোট
শিশুদের বৌদ্ধ এবং শিন্টো মন্দিরে তাদের পিতামাতা নতুন পোশাক পরিয়ে নিয়ে যায় এবং তাদের উদ্দেশে পিতামাতা মন্দিরে
প্রার্থনা করেন সুন্দর স্বাস্থ্য এবং উজ্জ্বল ভবিষ্যতের জন্য।
Comments :0