ঋতুরাজের আগমনী বার্তায় ইতিমধ্যেই রঙিন হয়ে উঠছে চারদিক। ক্যালেন্ডারের পাতায় বসন্তের আগমন ঘটে গিয়েছে আগেই, এখন অপেক্ষা শুধু রঙের উৎসবে মেতে ওঠার। হাতে আর মাত্র এক দিন, তার আগেই ধূপগুড়ি শহরে জমজমাট রঙের বাজার। শহরের অলিতে-গলিতে এখন শুধুই আবির আর রঙের মেলা। বিশেষ করে ধূপগুড়ি শহরের চুড়িপট্টি এলাকায় সারি সারি রঙের দোকানে এখন তিল ধারণের জায়গা নেই। ৮ থেকে ৮০—সব বয়সের মানুষের ভিড় জানান দিচ্ছে, বাঙালির প্রিয় বসন্তোৎসবের প্রস্তুতিতে কোনও খামতি নেই।
এবারের বাজারের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো স্বাস্থ্যসচেতনতা। রাসায়নিক রঙের ক্ষতিকারক প্রভাব থেকে বাঁচতে ক্রেতাদের প্রথম পছন্দ ভেষজ আবির ও হার্বাল গুলাল। ক্রেতাদের মতে, রাসায়নিক রং ব্যবহার করলে চর্মরোগের সম্ভাবনা থাকে এবং তা তোলাও বেশ কষ্টসাধ্য। তাই শরীর ও ত্বকের সুরক্ষায় ভেষজ রঙেই ভরসা রাখছেন তাঁরা। ছোটদের পাশাপাশি বড়দের মন টানতে দোকানিরা সাজিয়েছেন রকমারি পসরা। বাজারে এখন আকর্ষণ বিশাল আকৃতির রঙিন চশমা, বেসবল ব্যাট পিচকারি, গদা পিচকারি, মজার সব মাস্ক ও উইগ। প্রতিদিনের পরিচিত জিনিসকে মজার রূপ দেওয়াতেই ক্রেতাদের আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কেউ বন্ধুকে অবাক করতে কিনছেন অভিনব পিচকারি, কেউ আবার পরিবারের সঙ্গে হালকা হাসি-ঠাট্টায় মেতে ওঠার জন্য বেছে নিচ্ছেন রঙ। ব্যবসায়ীদের চোখেমুখেও খুশির ঝলক। তাঁদের একাংশের দাবি, গত বছরের তুলনায় এ বছর বিক্রি অনেকটাই ভালো। আবিরের চাহিদাই সবচেয়ে বেশি হলেও সমানতালে বিকোচ্ছে নানা রঙের গুলাল ও আধুনিক ডিজাইনের পিচকারি। চুড়িপট্টির এক রঙ বিক্রেতা জানান, "সকাল থেকেই ক্রেতাদের ভিড় উপচে পড়ছে। ভেষজ রঙের স্টক দ্রুত ফুরিয়ে যাচ্ছে।"
বাঙালি মানেই বারো মাসে তেরো পার্বণ, আর সেই তালিকায় বসন্তোৎসব বা দোল এক বিশেষ জায়গা জুড়ে থাকে। বিভেদ ভুলে একে অপরকে রাঙিয়ে দেওয়ার এই চিরাচরিত উৎসবে শামিল হতে এখন পুরোপুরি প্রস্তুত ধূপগুড়িবাসী। কারণ যাই হোক, বসন্তের এই রঙ যেন মানুষের মনেও আনন্দের ছোঁয়া দিয়ে যাচ্ছে।
Basanta Utsab
রঙের বাজার জমজমাট ধূপগুড়ি শহরে
×
Comments :0