Election Commission of India

আজ বৈঠকে কমিশন, দ্বিতীয় সপ্তাহে দিন ঘোষণার ইঙ্গিত

রাজ্য

ভোটার তালিকা প্রকাশের ৪৮ ঘণ্টার ফারাকে রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের চূড়ান্ত প্রস্তুতির কাজ খতিয়ে দেখতে বৈঠক ডেকে দিল নির্বাচন কমিশন। 
শনিবার রাজ্যের চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করে কমিশন। মাঝে রবিবার ছুটি। সোমবার সকাল ১১ টা থেকে রাজ্যের বিধানসভা ভোট প্রস্তুতির কাজ নিয়ে বৈঠক ডেকে দিয়েছে কমিশন। কমিশনের শীর্ষ আধিকারিকরদের সঙ্গে সেই বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন নির্বাচন সদনের শীর্ষ আধিকারিকরা। রাজ্যের তরফে বৈঠকে পুলিশের আইজি, ডিআইজি, পুলিশ সুপার, পুলিশ কমিশনারদের যোগ দিতে বলা হয়েছে। জেলাশাসক(জেলা নির্বাচনী আধিকারিক)রাও বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন। 
কমিশন সূত্রের খবর, দোল ও হোলি মিটে যাওয়ার পর কমিশনের ফুল বেঞ্চ রাজ্য সফরে আসতে চলেছে। ফলে চলতি মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহ পার করে রাজ্যে বিধানসভার ভোট ঘোষণা হতে পারে। আবার আরও একটি সূত্র জানাচ্ছে, রাজ্য বিজেপি-র রথযাত্রার কর্মসূচির শেষ হবে কলকাতার ব্রিগেড ময়দানে। সেই সভায় প্রধানমন্ত্রীর থাকার কথা। সেই সভা পার করে রাজ্যে বিধানসভার ভোট ঘোষণা হতে চলেছে।
ভোট ঘোষণার আগে কমিশনের চূড়ান্ত প্রস্তুতির মধ্যে অন্তহীন প্রতীক্ষায় রাজ্যের ৬০ লক্ষ ৬ হাজার ভোটার। মূলত রাজ্যের সংখ্যালঘু নিবিড় জেলার মানুষও সর্বোচ্চ সংখ্যায় এখন লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির গেরোয় আটকে আছে। মুর্শিদাবাদ, মালদহ ও উত্তর দিনাজপুর এই তিন জেলায় প্রায় ৪০ শতাংশ ভোটারের ভবিষ্যত এখন অনিশ্চিত। মুর্শিদাবাদে ১১ লক্ষ, মালদহ জেলায় ৮ লক্ষাধিক ও উত্তর দিনাজপুর জেলায় ৪ লক্ষ ৮০ হাজার ভোটারের নাম চূড়ান্ত তালিকায় থাকলেও তাঁরা এখন বিচার বিভাগের অধীনে। তাঁদের নথি কমিশন নির্ধারিত ডকুমেন্টের সঙ্গে মিললেই তবে অতিরিক্ত তালিকায় ভোটার হিসাবে নাম উঠবে। সংখ্যালঘু নিবিড় এই তিন জেলার বাইরেও পূর্ব বর্ধমানে ৩ লক্ষ ৬৫ হাজার, হাওড়ার সংখ্যালঘু নিবিড় বিধানসভাগুলিতে ২ লক্ষ ৮৯ হাজার ও কোচবিহারে ২ লক্ষ ৩৮ হাজার ভোটার বিবেচনাধীন অবস্থায় পড়ে আছে। দক্ষিণবঙ্গের অন্যতম সীমান্ত জেলা উত্তর ২৪ পরগনায় ৫ লক্ষ ৯১ হাজার ভোটারদের ভোটাধিকারি এখন বিচার বিভাগের হাতে। রাজ্যের অন্যতম সংখ্যালঘু অধ্যুষিত জেলা দক্ষিণ ২৪ পরগনায় এই সংখ্যা ৫ লক্ষ ২২ হাজার। বীরভূমও সংখ্যালঘু মানুষের বাস। সেখানেও ২ লক্ষ ভোটারের সিদ্ধান্ত বিচার বিভাগের বিবেচনাধীন। যার অর্থ বাছাই করে সংখ্যালঘু ভোটারদেরই ভোটার তালিকায় টার্গেট করে নেওয়া হয়েছে। 
রাজ্য প্রশাসনের একটি সূত্রে জানা গেছে, ভোটার তালিকা প্রকাশের পরই বিচার বিভাগীয় আধিকারিকদের নথি যাচাইয়ে ব্যবহৃত পোর্টাল অস্বাভাবিক ধীর গতি হয়ে গেছে। দিনে সর্বোচ্চ ২৫০ থেকে ৩০০ ভোটারদের নথি যাচাই করে নিষ্পত্তি করা সম্ভব হচ্ছে। ফলে যত সময় যাচ্ছে তাতে পরিষ্কার হচ্ছে ৬০ লক্ষ ভোটারের ভবিষ্যত বিশ বাঁও জলে।
রবিবারই কমিশনের সচিবের চিঠি আসে রাজ্যের সিইও’র কাছে। সেই চিঠিতে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, সোমবার দিনভর বৈঠকের পরদিন, মঙ্গলবারও নির্বাচন কমিশনের শীর্ষ আধিকারিকরা বৈঠক করবেন রাজ্যের সিইও, এসএনপিও( স্টেট নোডাল পুলিশ অফিসার) ও কেন্দ্রীয় এজেন্সির শীর্ষকর্তাদের সঙ্গে। ইনকাম ট্যাক্স, রাজস্ব মন্ত্রক, নারকোটিক ব্যুরো, জিএসটি’র আধিকারিকরা দ্বিতীয় দিনের বৈঠকে যোগ দিতে চলেছেন। সোমবার ও মঙ্গলবার দু’দিন ব্যাপি বৈঠকে নয়াদিল্লির নির্বাচন সদনের কর্তারা ভার্চুয়ালি যোগ দেবেন।
সাধারণভাবে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের বিধানসভা নির্বাচনের সামগ্রিক প্রস্তুতি বৈঠকের পর যে কোনও দিন কমিশন রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের দিন ঘোষণা করে দেয়। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের পর বিধানসভা ভোটের প্রস্তুতি বৈঠকের আয়োজন বুঝিয়ে দিচ্ছে, মার্চের দ্বিতীয় সপ্তাহে যে কোনও দিন রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের দিন ঘোষণা হতে চলেছে। 
অতীতে বিধানসভা নির্বাচনের আগে প্রস্তুতির কাজ খতিয়ে দেখতে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার সহ কমিশনের ফুল বেঞ্চ রাজ্য সফরে আসে। রাজ্যে এসে জেলাশাসক, পুলিশকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে ফিরে যেতেন। তারপরও সেই রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের দিন ঘোষণার রেওয়াজ ছিল। ফলে বিধানসভা নির্বাচনের প্রস্তুতি বৈঠক সেরে নেওয়ার পর মুখ্য নির্বাচন কমিশনার সহ কমিশনের ফুল বেঞ্চ রাজ্য সফর করে যাওয়ার পরই রাজ্যে ভোট ঘোষণা হতে চলেছে।
ভোটের প্রস্তুতি বৈঠকের পর দিন ঘোষণার দিকে কমিশনের এগিয়ে যাওয়ার ফল শেষ পর্যন্ত ভুগতে চলেছেন ৬০ লক্ষ অনিশ্চিত ভোটার। যাঁদের ভোটাধিকারের সিদ্ধান্ত এখন বিচার বিভাগীয় আধিকারিকদের হাতে। আগামী সাত থেকে ১০ দিনের মধ্যে ভোট ঘোষণা হয়ে গেলে ৬০ লক্ষ ৬ হাজার ভোটারদের ভবিষ্যত আরও অনিশ্চয়তার দিকে চলে গেল বলেই মনে করা হচ্ছে। বিপুল সংখ্যায় ভোটারদের ৯৫ শতাংশই রাজ্যের সংখ্যলঘু সম্প্রদায়ের বৈধ ভোটার। পারিবারিক সূত্র দিয়ে এনিউমারেশন ফরম পূরণ করে জমা দেওয়া ভোটারদের একাধিক অসঙ্গতি চিহ্নিত করেছিল কমিশন। অভিভাবকের সঙ্গে ১৫ বছরের কম বয়সের ফারাক, এক ব্যাক্তি ছয় জন ভোটারের সঙ্গে অভিভাবক হিসাবে লিঙ্ক করা ও ৫০ বছর পার করা ভোটার, যাঁরা পারিবারিক সূত্র দিয়ে ফরম পূরণ করেছিলেন তাঁদের শুনানিতে ডাক পড়েছিল। চরম হয়রানির মুখে শুনানিতে হাজির হয়ে জমা দিয়ে এসেছিলেন একাধিক নথি। আপলোড হওয়া সেই নথি ‘টু বি রিভিউড’ বলে ফেরত পাঠায় মাইক্রো অবজার্ভাররা। শীর্ষ আদালতের নির্দেশে সেই নথি যাচাই করে নিষ্পত্তি করার দায়িত্ব পালন করতে শুরু করেছেন বিচার বিভাগীয় আধিকারিকরা। 
এমনিতেই ৬০ লক্ষ ভোটার এখন বিবেচনাধীন। সূত্রের খবর, এখন কমিশন শুনানিতে অনুপস্থিত প্রায় ৬ লক্ষ ভোটারকে ফের একবার সুযোগ দিতে পারে। তাঁদেরও ‘অ্যাডজুডিকেটেড’ তকমা দিয়ে বিবেচনা করার সুযোগ দিতে চলেছে কমিশন।

Comments :0

Login to leave a comment