অনিল কুণ্ডু, সাগর দ্বীপ
- সরকার পালটেছে, কিন্তু পুলিশের ভূমিকা পালটায়নি। তৃণমূল আমলে থানায় অভিযোগ জানাতে গেলে গ্রেপ্তার হতে হতো, বিজেপি সরকারের আমলেও একই ছবি দেখা যাচ্ছে— শনিবার সাগর দ্বীপের রুদ্রনগরে এক সমাবেশে এমনই অভিযোগ করলেন সিপিআই(এম)’র কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মীনাক্ষী মুখার্জি।
সিপিআই(এম) সাগর এরিয়া কমিটির উদ্যোগে বারুইপুরের সূর্যপুরকাণ্ডে সিপিআই(এম) নেতা লাহেক আলির গ্রেপ্তারের প্রতিবাদ এবং বিভিন্ন গণদাবিতে এই সমাবেশের আয়োজন করা হয়। উপস্থিত ছিলেন সায়ন বন্দ্যোপাধ্যায়, বিধান দাস, স্বপন সিংহ সহ জেলা ও স্থানীয় নেতৃত্ব। সভায় সভাপতিত্ব করেন পার্টি নেতা মিলন পড়ুয়া।
মীনাক্ষী মুখার্জি বলেন, "বামপন্থার পথ কঠিন, দক্ষিণপন্থার পথ সহজ। অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করলেই এখন গ্রেপ্তার হতে হচ্ছে। সূর্যপুরে নাবালিকাকে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনার প্রতিবাদ করায় লাহেক আলিকে মিথ্যা মামলায় জেলে পাঠানো হয়েছে। পুলিশের সামনেই প্রতিবাদকারীদের ওপর হামলা হচ্ছে।"
তাঁর অভিযোগ, গত ১৫ বছরে তৃণমূল আমলে বিরোধীদের বিরুদ্ধে যে দমননীতি চলেছে, বিজেপি সরকারও একই পথ অনুসরণ করছে। "১৯৭৭ সালে বামফ্রন্ট সরকার ক্ষমতায় এসে রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তি দিয়েছিল। আর এখন মিথ্যা মামলা দিয়ে বিরোধীদের জেলে পুরে রাখা হচ্ছে," বলেন তিনি।
চাকরির প্রতিশ্রুতি নিয়েও বিজেপি’কে কটাক্ষ করেন মীনাক্ষী। তাঁর দাবি, ভোটের আগে স্থায়ী চাকরির আশ্বাস দেওয়া হলেও বাস্তবে কর্মসংস্থান বাড়েনি, বরং সারা দেশে লক্ষ লক্ষ মানুষের চাকরি গিয়েছে। ‘চাকরি না দিয়ে ভাতা দিয়ে ক্ষোভ চাপা দেওয়ার চেষ্টা চলছে। আমরা ভাতা নয়, কাজ চাই,’ বলেন তিনি।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, রাজ্যে শিল্পায়নের বদলে একের পর এক কারখানা বন্ধ হচ্ছে। ধর্ম ও জাতপাতের রাজনীতি করে মানুষের প্রকৃত সমস্যা আড়াল করার চেষ্টা চলছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর কথায়, ‘শুভেন্দু অধিকারী হিন্দুদের এক হওয়ার ডাক দিচ্ছেন, আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুসলিম তোষণের রাজনীতি করতেন। এই বিভাজনের রাজনীতির বিরুদ্ধে মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।’
ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধন এবং রেশন তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ার প্রসঙ্গ তুলে মীনাক্ষী বলেন, কোটি কোটি মানুষের নাগরিক ও গণতান্ত্রিক অধিকার খর্ব করার চক্রান্ত চলছে। তিনি মহিলাদের উদ্দেশে আহ্বান জানান, এলাকায় এলাকায় তালিকা তৈরি করে পঞ্চায়েতের মাধ্যমে দাবি আদায় করতে হবে।
সমাবেশে সিপিআই(এম) নেতা সায়ন বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, "তৃণমূলের দুর্নীতিগ্রস্ত নেতারাই এখন বিজেপিতে আশ্রয় নিয়েছে। সরকার এমন আইন আনতে চাইছে, যাতে বিনা বিচারে মানুষকে দীর্ঘদিন জেলে রাখা যায় এবং প্রতিবাদের কণ্ঠস্বর স্তব্ধ করে দেওয়া যায়।"
রুদ্রনগরের সমাবেশে বিপুল সংখ্যক মানুষের উপস্থিতি ছিল।
Comments :0