"আন্দোলনের চাপেই ধর্মেন্দ্র প্রধানকে পদত্যাগ করতে হয়েছে। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকেও পদত্যাগ করে জেলে যেতে হবে। সেইসঙ্গে, ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার মতো গর্হিত কাজের সঙ্গে যারা যুক্ত তাদের সবার বিরুদ্ধে দেশদ্রোহের আইন প্রয়োগ করতে হবে।" মঙ্গলবার দিল্লিতে জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে বিরোধী দলগুলির মিছিলে অংশ নিয়ে এমনটাই বললেন অমরা রাম।
এসআইআর'র বিরুদ্ধে এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অবিলম্বে পদত্যাগের দাবিতে সংসদ থেকে নির্বাচন কমিশনের কার্যালয়ের দিকে এদিন মিছিল করে সিপিআই(এম) সহ বিরোধী দলগুলি। ওই সময় সিপিআই(এম)-এর পলিট ব্যুরো সদস্য ও লোকসভা সাংসদ অমর রাম সহ অন্যান্য বিরোধী দলের নেতাদের আটক করে দিল্লি পুলিশ।
অমরা রাম বলেন, "আন্দোলনের চাপেই ধর্মেন্দ্র প্রধানকে পদত্যাগ করতে হয়েছে। জ্ঞানেশ কুমারকেও পদত্যাগ করে জেলে যেতে হবে। মোদী সরকার এমন আইন পাশ করিয়েছে যে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে কোনও মামলা করা যাবে না। এই আইন পাশ করিয়ে তারপর এসআইআর প্রক্রিয়া চালু করে। এর মধ্যে দিয়ে মোদী ও জ্ঞানেশ কুমার একসঙ্গে মিলে ১৩ কোটি বৈধ ভোটারের নাম কেটেছে। আর এই বৈধ ভোটারই যখন ট্রাইবুনালে যাচ্ছে, তখন তাদের বলা হচ্ছে যে পরের বার ভোট দিয়ে দেবেন! ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া, গণতন্ত্রকে হত্যা, সাংবিধানিক অধিকারকে হত্যা করেছে এই সরকার। এই গোটা প্রক্রিয়াটিতে যিনি সাহায্য করেছেন সেই জ্ঞানেশ কুমারকে পদত্যাগ করতে হবে। আর যারা এই গর্হিত কাজ করেছেন তাদের সবার বিরুদ্ধে দেশদ্রোহের আইন প্রয়োগ করে শাস্তি দিতে হবে। বাদ যাওয়া সকলের ভোটাধিকার ফিরিয়ে দিতে হবে।"
এদিন রাতেও লোকসভার বিরোধী দলনেতা কংগ্রেসের রাহুল গান্ধী, দলের অন্যতম নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধী সহ বিরোধী সাংসদদের আটক করলো দিল্লি পুলিশ। নির্বাচন কমিশনের কার্যালয়ের দিকে মিছিল করতে বাধা দেওয়া হলে লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী এবং কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধী আকাশবাণী ভবনের বাইরে তাঁদের অবস্থান বিক্ষোভ চালিয়ে যাচ্ছেন। এর আগেই, তাঁরা আকাশবাণী ভবনে প্রবেশের চেষ্টা করছেন এমন অভিযোগে পুলিশ বেশ কয়েকজন এনএসইউআই ও যুব কংগ্রেস কর্মীকেও আটক করেছে।
বিরোধী নেতারা সাফ জানিয়েছেন যে, জ্ঞানেশ কুমার পদত্যাগ না করা পর্যন্ত তাঁদের এই বিক্ষোভ কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। এদিন রাহুল গান্ধী বলেন যে তাঁরা শুধুমাত্র মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের সঙ্গেই দেখা করবেন।
রাহুল বলেন, "সাংসদরা মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে দেখা করবেন। দেশের কণ্ঠস্বরকে অপমান করা হয়েছে। আমরা কেবল সিইসি-র সাথে দেখা করে তাঁকে জানাতে চাই যে আপনারা ভোট চুরি করেছেন। এখানে বসে থাকতে আমাদের কোনো সমস্যা নেই। যতদিন প্রয়োজন হবে, আমরা ততদিনই এখানে বসে থাকব। আপনারা যদি না চান যে আমরা এখানে বসি, তবে দিল্লির যে কোনও জায়গার কথা আমাদের বলুন, আমরা সেখানেই গিয়ে বসব।"
অপরদিকে, আন্দোলনের চাপে দিল্লি পুলিশের এসপি বিবেক ভগতের পদোন্নতি আটকে গিয়েছে। মহিলা সাংবাদিককে যৌন হেনস্তার অভিযোগ তাঁর বিরুদ্ধে। তিনি অতিরিক্ত ডিসিপি পদে পদোন্নতি পেয়েছিলেন। কিছু অংশ থেকে বলা হয়েছে যে এই আধিকারিক নিজেই
তাঁর পদোন্নতির আদেশটি স্থগিত রাখার অনুরোধ জানিয়েছেন।
তাঁর বিরুদ্ধে এক মহিলা সাংবাদিকের যৌন হেনস্থা করার অভিযোগে ‘ক্রাইম ব্রাঞ্চ’-এর বিভাগীয় তদন্ত চলছে। তবে ঘটনার দিন, শনিবার, মহিলা সাংবাদিক থানায় অভিযোগ জানাতে গেলে পুলিশ এফআইআর গ্রহণ করেনি। গত রবিবার পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানার সামনে বামপন্থী এবং সিজেপি যৌথ বিক্ষোভ দেখায়।
Amra Ram on Gyanesh Kumar
ফের আটক রাহুলরা, আন্দোলনের চাপেই পদত্যাগ করতে হবে জ্ঞানেশকেও, বললেন অমরা রাম
দিল্লির বিক্ষোভে অমরা রাম।
×
Comments :0