Nandigram By Election

নন্দীগ্রাম: ছাপ্পা, ভোটে বাধা, পুলিশের হুমকি, তবু বুথে থাকলেন বামফ্রন্টের একাধিক এজেন্ট

রাজ্য জেলা

ভোট দিতে না পেরে ক্ষোভ নন্দীগ্রামের নাগরিকদের। ছবি শ্যামল মজুমদার।

সিপিআই প্রার্থীর পোলিং এজেন্ট যাতে না বসতে পারে তার জন্য এক মহিলা বামফ্রন্ট কর্মীকে তাঁর বাড়ি গিয়ে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ এবং হেনস্থা করার ঘটনা ঘটেছে। আর এ কাজ করেছে পুলিশ। এদিন নন্দীগ্রামের বামফ্রন্ট নেতৃবৃন্দ এমনই অভিযোগ জানয়েছেন।
স্কুল শিক্ষিকা মৌসুমী মন্ডল সিপিআই(এম)'র জেলা কমিটির সদস্য। সিপিআই প্রার্থীর পোলিং এজেন্ট নিজের বুথে বসেছিলেন। কিন্তু হরিপুরের দেবীপুরে রাত ১টা নাগাদ পুলিশ বাহিনী গিয়ে মৌসুমী মন্ডলের বাড়িতে পৌঁছায়। অভিযোগ, পুলিশ তাঁকে দরজা খুলতে বলে। কোনোভাবেই মৌসুমী মন্ডল দরজা খুলতে রাজি না হওয়ায় পুলিশ দরজায় লাথি মেরে দরজা ভাঙার চেষ্টা করে। হুমকি দিতে থাকে, ‘কতদিন বাড়িতে লুকিয়ে থাকবে’। এছাড়াও অকথ্য ভাষায় গালিগাল চলে, মৌসুমী মণ্ডল জিজ্ঞাসা করেন যে তাঁর অপরাধ কী? পুলিশ সরাসরি বলে কেন পোলিং এজেন্ট বসবেন। বলে যে তাঁর নামে কেস আছে। প্রায় আধ ঘন্টা ধরে এমন ঘটনা চলতে থাকে মৌসুমী মন্ডলের বাড়ির সামনে। তবে কোনওমতেই তিনি দরজা না খুলে এই পুরো ঘটনাটি রেকর্ড করেছেন। এমনকি এত সত্ত্বেও নিজের বুথে পোলিং এজেন্ট বসেছিলেন তিনি।
এদিকে নন্দীগ্রামে ছড়িয়ে পড়া অডিও ক্লিপ নিয়ে শুরু হয়েছে শোরগোল। অডিও কি্লপের সত্যতা যাচাই করতে পারেনি ‘গণশক্তি ডিজিটাল’। তবে শোনা গিয়েছে যে একজন অন্যজনকে বলছেন, ‘‘পার্টি টার্গেট দিয়েছে, দেড় থেকে দুই লাখ ভোটে প্রার্থীকে জেতাতে হবে। এই তো বটতলা এলাকার একটা বুথে ছাপ্পা দিয়েছি। তুই আমার বন্ধু, তোকে ভালোয় ভালোয় বলছি তুই সরে যা। না হলে পরিস্থিতি খারাপ হবে।’’ অভিযোগ এই ক্লিপে ছাপ্পা দেওয়ার কথা যিনি বলছেন তিনি বিজেপি কর্মী। আর যাঁকে বলা হচ্ছে তিনি বামফ্রন্টের প্রার্থীর পোলিং এজেন্ট তন্ময় পাল। ঘটনা নন্দীগ্রামের ৮৫ নম্বর চারগোলিয়া প্রাথমিক বিদ্যালয় বুথের। 
নিজের ভোট দিতে গিয়ে তন্ময় পাল দেখেন তাঁর ভোট অন্যজন দিতে চলেছে। এছাড়াও তিনি লক্ষ্য করেন বিজেপি’র লোকেরা দু’তিনটি করে ভোট দিচ্ছে। তন্ময় পাল প্রতিবাদ করে পুলিশকে জানান।নির্বাচন আধিকারিকদের বিভিন্ন স্তরে অভিযোগও জানান। তাতেই বিজেপি কর্মীরা ব্যাপকভাবে ক্ষিপ্ত হয়ে তাঁর উপরে চড়াও হয়। বাধা পেয়ে বিজেপি তন্ময়ের এক বন্ধুকে দিয়ে তাঁকে হুমকি দেওয়ায়। তবুও ভোট শেষ না হওয়া পর্যন্ত বুথ থেকে সরে যাননি তিনি।
শুভেন্দু অধিকারীর প্রাক্তন আপ্ত সহায়ক নিহত চন্দ্রনাথ রথের মা হাসিরানি রথ নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে বিজেপি’র প্রার্থী। মুখ্যমন্ত্রী প্রার্থীর হয়ে প্রচার করেছেন। দাবি করেছেন, তাঁর চেয়েও বেশি ভোটে জেতাতে হবে হাসিরানিকে। ফলতার চেয়েও বড় জয় চান নন্দীগ্রামে। প্রার্থী দাবি করেছেন, সেটা হওয়া স্রেফ সময়ের অপেক্ষা। প্রচারের সময় থেকেই তিনি দেড় লক্ষ ভোটের ব্যাবধান নিয়ে আশাবাদী।
কিন্তু নন্দীগ্রামের স্থানীয় বাসিন্দারাই জানিয়েছেন যে ভোটই দিতে দেওয়া হয়নি তাঁদের। জানিয়েছে ক্ষোভ। জোর জবরদস্তি উপনির্বাচনে জয়ের জন্য যা যা করা দরকার সবই করেছে বিজেপি।
মঙ্গলবার সকাল থেকে রেজিনগর এবং নন্দীগ্রাম বিধান সভার উপনির্বাচনের ভোট গ্রহণ চলছে। অভিযোগ তুলছেন ভোট দিতে না পারা ভোটাররাই। বেলা যতো বেড়েছে দুই কেন্দ্রে ভোট লুটের অভিযোগ ততোই বেড়েছে। আর বাড়বেই না কেন মুখ্যমন্ত্রী যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন রেকর্ড ভোটে জয়ী হবেন বিজেপি প্রার্থীরা। এদিন পুলিশ প্রশাসনের মধ্যে জাল ভোট দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন ভোটদাতারা। তাঁদের অভিযোগ প্রকৃত ভোটদাতাদের ভোট দিতে দেওয়া হচ্ছে না।

Comments :0

Login to leave a comment