দেশের এবং রাজ্যের গণতন্ত্রকে রক্ষা করতে রাস্তায় নেমে লড়াই করতে হবে। হরেকৃষ্ণ কোঙার ভবনে সাংবাদিক সম্মেলনে একথা বললেন সিপিআই(এম-এল) লিবারেশনের সাধারণ সম্পাদক দীপঙ্কর ভট্টাচার্য। দীপঙ্কর ভট্টাচার্যের পাশাপাশি সাংবাদিক সম্মেলনে ছিলেন এআইএসএ নেত্রী নেহা বোরা, সিপিআই(এম-এল) লিবারেশনের রাজ্য সম্পাদক অভিজিৎ মজুমদার, বাসুদেব বসু, পলিট ব্যুরোর সদস্য কার্তিক পাল সহ অন্যান্যরা। নেহার কথায়, মানুষের মনে যেই ভয় তৈরি করতে চেয়েছিল বিজেপি আরএসএস সেই ভয় ভেঙে গিয়েছে। দেশের ছাত্র যুবরা আজ এই সরকারের বিরুদ্ধে পথে নেমেছে।
এদিন রাজ্যের দুই বিধানসভা উপ-নির্বাচন প্রসঙ্গে দীপঙ্কর ভট্টাচার্য বলেন, ‘এরকম পুলিশি সন্ত্রাসের উপ-নির্বাচন আগে দেখিনি। এসআইআরকে ব্যবহার করে শান্তিপূর্ণ ভাবে গণহত্যা করা হয়েছে। নির্বাচনের নামে প্রহসন হয়েছে।’ রেজিনগর এবং নন্দীগ্রামের উপ-নির্বাচন নিয়ে সকাল থেকেই একাধিক অভিযোগ সামনে আসতে শুরু করেছে। পুলিশ প্রশাসনকে ব্যবহার করে ভোটলুঠের অভিযোগ তুলেছেন সাধারণ ভোটাররা।
জ্ঞানেশ কুমার নিয়ে বিতর্ক প্রসঙ্গে সিপিআই(এম-এল) লিবারেশনের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘যেই আইন প্রনয়ণ করে জ্ঞানেশ কুমারকে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার করা হয়েছে সেই আইন বাতিল করতে হবে। চাপের মুখে পড়ে বিএলওদের নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে বাড়ি বাড়ি গিয়ে বাদ যাওয়া নাম গুলোকে তালিকায় তোলার জন্য। আমরা বিহারে দেখেছি ১৭ শতাংশ মানুষের নাম অন্যায় ভাবে বাদ দেওয়া হয়েছে।’
দীপঙ্কর ভট্টাচার্য বলেন, ‘আমাদের দাবি জ্ঞানেশ কুমারকে পদত্যাগ করতে হবে, এসআইআর বাতিল করতে হবে, কমিশনার নিয়োগের আইন বাতিল করতে হবে। এর পাশাপাশি বিহার এবং পশ্চিমবঙ্গে নতুন করে নির্বাচন করতে হবে।’
এআইএসএ সর্বভারতীয় সভানেত্রী নেহা বোরা বলেন, ‘আগামী ১০ অক্টোবর দেশের ছাত্র যুবরা জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লির যন্তর মন্তরে জমায়েতের ডাক দিয়েছে। সমাজের সব অংশের মানুষের কাছে আবেদন গণতন্ত্র বাঁচানোর লড়াইতে সামিল হওয়ার জন্য।’ তিনি বলেন, দেশের গণতন্ত্রকে রক্ষা করতে বৃহত্তর ঐক্য দরকার। কমিশনকে ব্যবহার করে মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকারকে কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। গোটা দিল্লিকে দূর্গে পরিনত করা হয়েছে। যন্তর মন্তর যা সরকারের নির্ধারিত প্রতিবাদ করার জায়গা সেটাও বন্ধ করে রাখা হয়েছে, কাউকে সেখানে যেতে দেওয়া হচ্ছে না।
কমিশনকে নিশানা করে নেহা বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনে নির্দিষ্ট একটি রাজনৈতিক দলের হয়ে কাজ করছে। আর এই জ্ঞানেশ কুমারকে বাঁচাতে তৎপর দিল্লি পুলিশ। অমিত শাহের কথায় তারা প্রতিবাদ আন্দোলনকে দমাতে চাইছে। ১৩ কোটি মানুষের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে গোটা দেশে এসআইআরের নাম করে। অন্যদিকে উত্তরপ্রদেশে ১৬ লক্ষ নাম নতুন করে তোলা হয়েছে। কাদের নাম তোলা হলো তার কোন তথ্য কমিশনের পক্ষ থেকে দেওয়া হয়নি।’ তিনি বলেন, ‘বিজেপি এবং আরএসএসের মতো শক্তি গণতন্ত্রের জন্য বিপদ। আমরা জানি আমাদের লড়াই কঠিন হবে, কিন্তু এই লড়াই চালিয়ে নিয়ে যেতে আমরা তৈরি।’
নেহা অভিযোগ করেন, এই আন্দোলন দমাতে দিল্লি পুলিশের পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতা প্রতিপদে ফুটে উঠছে। মহিলাদের ওপর অত্যাচার করা হচ্ছে যাতে তারা কোন ভাবে প্রতিবাদে অংশ নিতে না পারেন। তিনি বলেন, ‘মহিলাদের বিভিন্ন ভাবে হেনস্তা করা হচ্ছে। তাদের ওপর শারিরীক অত্যাচার করা হচ্ছে যাতে তারা এই প্রতিবাদে অংশ নিতে না পারেন। যেই পুলিশ আধিকারিকের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির অভিযোগ আনলেন মহিলা সাংবাদিকরা তার বিরুদ্ধে কোন পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। উল্টে যারা অভিযোগ করলেন তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’
শুধু দিল্লি নয় আগামী দিনে কলকাতা সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে এই প্রতিবাদ সংগঠিত হবে বলে জানানো হয়েছে।
CPI(ML) LIBERATION
গণতন্ত্র বাঁচাতে রাস্তায় নেমে লড়াইয়ের আহ্বান দীপঙ্কর, নেহার
×
Comments :0