অপূর্ব মণ্ডল: কুমারগঞ্জ
শাসক দল তৃণমূল ও কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের মিথ্যা প্রতিশ্রুতির মোহ ভাঙ্গছে কুমারগঞ্জের প্রত্যন্ত এলাকায়। লাল পতাকায় সেজে উঠছে গ্রামের পর গ্রাম। বৃদ্ধ থেকে যুবক সকলেই খোঁজ নিচ্ছেন বামফ্রন্টের প্রার্থী কখন প্রচারে আসবে তাদের এলাকায়। দক্ষিণ দিনাজপুরের কুমারগঞ্জ বিধান সভার বামফ্রন্ট মনোনীত সিপিআই(এম) প্রার্থী মোফাজ্জল হোসেনের সমর্থনে কৃষক, ক্ষেত মজুর, নির্মাণ কর্মী সহ পরিযায়ী শ্রমিক সহ গ্রামবাসীরা জোট বাঁধছেন নিজ গ্রামে ও মহল্লায়।
দুর্নীতিগ্রস্ত তৃণমূল ও ধর্মের জিগীর তোলা ধান্দাবাজ বিজেপির সেটিং গ্রামবাসীরা ধরে ফেলেছে সে কতা জানাচ্ছেন গ্রামের বাসিন্দারাই। কুমারগঞ্জ বিধান সভার নব্বই শতাংশ কৃষিজীবী মানুষ। কৃষক ক্ষেত মজুরদের উন্নয়নে কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করে নি রাজ্য ও কেন্দ্র সরকার এই অভিযোগও উঠেছে। শনিবার প্রচারে বেরিয়ে সিপিআই(এম) প্রার্থী তথা মোফাজ্জল হোসেন (মাস্টার)’কে কাছে পেয়ে এলাকার কৃষকরা অভিযোগ করে বলেন, ‘‘সারের বস্তার গায়ে যে দাম লেখা থাকে তার চেয়ে অনেক বেশি দাম দিয়ে তাঁরা সার কিনতে বাধ্য হন। প্রকাশ্যে চলছে সারের কালোবাজারি।’’ প্রার্থী এদিন সাংবাদিকদের বলেন, বিভিন্ন গ্রামের কৃষককেরা আমাকে অভিযোগ জানিয়েছেন যে বাম আমলে সরকার বিনামূল্যে বীজ সার ঔষধ দিতো, কিন্তু ২০১১ সালে সরকার পরিবর্তনের পর থেকে সব বন্ধ। ছোট প্রান্তিক কৃষকরা অভিযোগ করেন ধান বিক্রির সময় মান্ডিতে অনলাইনে স্লট বুকিং হয় না, দীর্ঘক্ষন লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও। বরং শাসক দলের মদতে মান্ডির দালালরা প্রকৃত কৃষক না হয়েও শত শত কুইন্টাল ধান বিক্রি করে এবং অবৈধ ব্যাবসার নেট ওয়ার্ক গড়ে তুলেছে। কুমারগঞ্জের বিডিও অফিসে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ব্লকে কতজন পরিযায়ী শ্রমিক হয়ে বাইরে কাজ করছেন তার কোন সুনির্দিষ্ট নথী নেই। অথচ বেসরকারি সুত্রে খবর এই ব্লক থেকে প্রায় পঁচিশ হাজারের বেশি মানুষ ভিন রাজ্যে গিয়েছে কাজের খোঁজে। গ্রামের বহু বাড়ি যুবকহীন। বাড়িতে পড়ে আছে বৃদ্ধ পিতা মাতা, কোথাও বা স্ত্রী নাবালক সন্তানদের নিয়ে দিন কাটাচ্ছে।’’ ভিন রাজ্য গিয়ে ভাষা, নাম ও ধর্মের বিভাজনের হয়রানির অভিজ্ঞতা ধরা পড়ে সাংবাদিকের কাছে বাড়ি ফিরে আসা পরিযায়ী শ্রমিকদের কাছে। কেউবা জীবন হাতে নিয়ে ফিরেছেন আবার অনেকে কফিন বন্দী হয়ে আসছে বলছেন কুমারগঞ্জে প্রত্যন্ত গ্রামের বাসিন্দারাই।
দীর্ঘদিন কুমারগঞ্জে বসবাসকারি হাজার বৈধ ভোটার এবারে ভোট দিতে পারবে না, কারণ তাদের এসআইআর প্রক্রিয়াতে নাম বাদ পড়েছে। কেন বাদ দেওয়া হয়েছে তাদের নাম, তাঁরা ভবিষ্যতে আর ভোট দিতে পারবে কিনা সেই বিষয়ে এখনও কিছু জানাতে পারেনি নির্বাচন কমিশন। মানুষ বলছেন রাজ্য ও কেন্দ্র সরকারের পরিকল্পনা করেই নির্বাচন কমিশনকে কাজে লাগিয়ে এই কাজ করছে। বিজেপি তৃণমূল ও কমিশনের এই সিদ্ধন্তে ফুঁসছে গোটা গ্রাম। এদিন মোফাজ্জল হোসেন বলেন, কুমারগঞ্জের স্বাস্থ্য ব্যাবস্থা ক্রমশ ভেঙ্গে পড়ছে। গ্রামীণ স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলিতে চিকিৎসক নেই। জোরাতালি দিয়ে চিকিৎসা চালাচ্ছে স্বাস্থ্য কর্মী ও নার্স। বরাহারের ব্লক হাসপাতালটি বাম আমলে তৈরি হলেও দীর্ঘদিন লোক সংখ্যা বৃদ্ধি হলেও সামঞ্জস্য রেখে কোন উন্নতি হয়নি। সামান্য জটিল চিকিৎসাতেই ছুটতে হয় পঁচিশ কিলোমিটার দূরে বালুরঘাট সদর হাসপাতালে। তিনি বলেন, জয়ী হয়ে আমরা কীকী কর্মসূচি নেব কর্মীরা ইশতেহার নিয়ে গ্রাম, পাড়া বৈঠকে সহজ সরল ভাষায় তুলে ধরছেন।
West Bengal Election Kumarganj
বাম প্রার্থীর সমর্থনে জোট বাঁধছেন কুমারগঞ্জের মানুষ
×
Comments :0