Lal Shukra Rao

শ্রদ্ধায় ও শপথে লাল শুক্রা ওঁরাও-র জন্মজয়ন্তী পালিত মেটেলি ব্লকে

জেলা

স্পটলাইট

প্রশান্ত শিকদার ও সোমনাথ দত্ত: মালবাজার

ঐতিহাসিক তেভাগা আন্দোলন ও লোক কবি লাল শুক্রা ওঁরাও-র অবদান আজও অমলিন। ফাল্গুন- চৈত্রময় মার্চ-এপ্রিলের শুখা বসন্তকাল যতটা দোল-ফাগুয়া বয়ে আনে ততটাই অগ্নিগর্ভ কৃষক আন্দোলন, সংগ্রাম ও ঐতিহাসিক তেভাগা আন্দোলনকে স্মরণ করায়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধত্তর সেই কালের ব্রিটিশ-ডুয়ার্সের তেভাগা। ভাগচাষী- আদিয়ার- কৃষকের রক্তজল ও ঘামা ঝরানোর মধ্য দিয়ে  উৎপন্ন ফসল তিন ভাগ। ফসলের দুই ভাগের অধিকার ভাগচাষী ও কৃষকের ও এক ভাগ জোতদারের। আর এই দাবিকে কেন্দ্র করেই বাংলায় তেভাগা আন্দোলন সংঘটিত হয়েছিল। ১১৫ বছর আগে ১৯১১ সালের ২মার্চ তেভাগা আন্দোলনের কিংবদন্তি লাল শুক্রা ওরাও এর জন্ম। আজও তার জন্মদিনে শ্রদ্ধা জানাতে মালবাজার মহকুমার মেটেলি ব্লকের চালসা গোলাইয়ে ভীড় জমান অনেকেই। হাজার হাজার আদিবাসী চা শ্রমিক কৃষকদের জমায়েতে আট দশক আগে লাল শুক্রা গেয়েছিলেন, " শুনা ভাই স্বাধীন দেশকা গানা/ এক বিতা পেটের লাগিন / মালবাজার আনা জানা / মাটিয়ালী থানা রে, মাটিয়ালি থানা......।" 
সালটা ১৯৪৭-৪৮, তেভাগা আন্দোলনের কারণে জেল খেটেছিলেন লাল শুক্রা। সেই বছরের মার্চ-এপ্রিলে তেভাগার দুর্বার আন্দোলন করতে গিয়ে ১৫ জন কৃষক চা শ্রমিক ব্রিটিশ পুলিশের গুলিতে শহীদ হয়েছিলেন। বর্তমান আধুনিকতার সময় কালে সেই তেভাগার ইতিহাসের গল্প ডুয়ার্সের অলিন্দে ভেসে বেড়ায়। আজও বহু মানুষের স্মৃতির মনিকোঠায় স্থান পায় তেভাগা আর সেই আন্দোলনের ইতিহাসগাঁথা। সোমবার গণনাট্য সংঘের জলপাইগুড়ি জেলা কমিটি ও লাল শুক্রা ওরাও স্মৃতি রক্ষা কমিটির যৌথ উদ্যোগে নানাবিধ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে পালিত হলো ডুয়ার্সের তেভাগা আন্দোলনের লাল শুক্রা ওরাওয়ের জন্মদিবস। চালসা গোলাইয়ে অবস্থিত লাল শুক্রা ওরাও এর অবয়ব মূর্তিতে পুষ্পার্ঘ নিবেদনের মধ্য দিয়ে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করা হয়।
সারাদিনব্যাপী নানা অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে লাল শুক্রা‌ ওরাওয়ের স্মৃতি রক্ষা কমিটির উদ্যোগে ১১৬তম জন্ম দিবস পালন করা হয় মিটিলী ব্লকের উত্তর ধুপঝোড়া পিপলস ক্লাব ময়দানে। অনুষ্ঠিত হয় রক্তদান শিবির, অঙ্কন প্রতিযোগিতা, নানাবিধ সংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। পাশাপাশি নারী ও শিশু কল্যাণে বিশেষ সচেতনতা শিবিরের আয়োজন করা হয়। বর্তমানে সময়কালে নারী ও শিশু কল্যাণে নানাবিধ সচেতনতা মূলক আলোচনা করেন বিশিষ্টজনেরা। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কৃষক সভার মেটেলি থানা কমিটির সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান, বাম নেতা সলিল আচার্য, পীযুষ মিশ্র, শংকর বিশ্বাস, সোমরা লাকড়া, রামলাল মূর্মু, আসিস রায়, কর্ণী বাহাদুর লামা সহ সকল জেলার ও স্থানীয় নেতৃত্ববৃন্দ। 
১৯৯৪ সালে রাজ্যের তৎকালীন ক্ষমতাসীন সরকার প্রথম লালন ফকির পুরস্কার দিয়েছিলেন লাল শুক্রা ওরাওকেই। তেভাগা আন্দোলনের সেই কন্ঠ ও বীর লাল শুক্রা ওরাও এর নামাঙ্কিত "লাল শুক্রা ওরাও স্মৃতি পুরস্কার" ২০০২ সাল থেকে পশ্চিমবঙ্গ সরকার প্রবর্তন করেছে। ডুয়ার্সের কিংবদন্তি চারণকবি তথা তেভাগা আন্দোলনের নেতার প্রতি শ্রদ্ধার্ঘ্য আজও কার্যত অমলীন। শুধুমাত্র যে তার জন্মদিবস পালন তা কিন্তু নয়, পাশাপাশি আজও তেভাগা আন্দোলনের সেই দুর্বার ইতিহাস অমলিন হয়ে আছে এতদঞ্চলের মানুষের স্মৃতিতে।

Comments :0

Login to leave a comment