মঙ্গলবার দোলের দিন পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ। পৃথিবীর ছায়ায় পুরোপুরি ঢেকে যাবে উপগ্রহ চাঁদ। রঙের উৎসবের রাতে মহাজাগতিক মুহূর্তের সাক্ষী হবে গোটা বিশ্ব। ২০২৫ সালে ৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যরাতে চন্দ্রগ্রহণ হয়েছিলো। মাঝরাতে হওয়ায় সে যাত্রায় পূর্ণ গ্রহণ দেখার দীর্ঘ সুযোগ ছিল। কিন্তু এবারে চন্দ্রের উদয় দেরিতে হওয়া পূর্ণ গ্রহণ দেখা যাবে না কলকাতা থেকে। তবে সাড়ে বিকাল ৫.৪০ থেকে ৬.৪৮ মিনিট পর্যন্ত চলতে থাকা আংশিক গ্রহণ ভালোই দেখা যাবে সর্বত্র।
মঙ্গলবার চন্দ্রগ্রহণ শুরু হবে ভারতীয় সময়ে বিকাল ৩.২০ মিনিটে। গ্রহণ শেষ হবে সন্ধ্যা ৬.৪৮মিনিটে। পূর্ণগ্রহণ শুরু হবে ৪.৩৪ মিনিটে। চাঁদের রুপালি চাকতি ঢাকা থাকবে ৫.৩৩ মিনিট পর্যন্ত। কলকাতা সহ রাজ্যের আকাশে মঙ্গলবার চাঁদের উদয় বিকাল ৫.৩৯ মিনিটে হওয়ায়, এ যাত্রায় পূর্ণগ্রহণ দেখার সুযোগ থাকছে না। চন্দ্রগ্রহণ ফের দেখা যাবে ২০২৮ সালের ৬ জুলাই। সেবারেও ভারতের এই ভূখণ্ড থেকে আংশিক চন্দ্রগ্রহণ দেখা যাবে।
পৃথিবী যখন সূর্য এবং চাঁদের মাঝে অবস্থান করে, সেই সময় পৃথিবীর ছায়া গিয়ে পড়ে চন্দ্রপৃষ্ঠে। পূর্ণিমায় আংশিক এবং পূর্ণগ্রাস গ্রহণ ঘটে। বিভিন্ন দেশে চন্দ্রের উদয় থেকে সেটা দেখার সুযোগ মেলে। মঙ্গলবার দুপুর ৩টে বেজে ২০ মিনিটে গ্রহণ শুরু হলেও তখন আকাশের সূর্যের দাপট থাকায় তা গোচরে আসবে না। তবে সন্ধে ৬টা বেজে ৪৭ মিনিট পর্যন্ত চলায় আংশিক চন্দ্রগ্রহণ দেখার সুযোগ মিলবে। তবে গ্রহণ উপভোগ করার সবচেয়ে ভালো সময় সন্ধে ৬টা বেজে ২৬ মিনিট।
চন্দ্রগ্রহণ পূর্ণিমাতেই ঘটে যখন পৃথিবী ঘুরতে ঘুরতে সূর্য আর চাঁদের মাঝে চলে আসে। একই সরলরেখা থাকার সময় পৃথিবীর ছায়া চাঁদের ওপরে পড়ে। চাঁদের ওপরে পৃথিবীর ছায়া পড়তে পড়তে যখন চাঁদের রূপালি চাকতি আস্তে আস্তে ঢাকা পড়ে যায়। তাই আংশিক থেকে পূর্ণ চন্দ্রগ্রহণ ঘটে। পরে আবার পৃথিবীর ছায়া ধীরে ধীরে চাঁদের চাকতি ছাড়িয়ে বের হয়ে যায়। শুরু আর শেষ মিলিয়ে দুইবার আংশিক চন্দ্রগ্রহণ দেখার সুযোগ মেলে।
আংশিক চন্দ্রগ্রহণের সময় সূর্য, পৃথিবী এবং চাঁদ সরলরেখায় পুরোপুরি থাকে না। চাঁদের কিছুটা অংশে পৃথিবীর ছায়া পড়ে। পৃথিবী থেকে মনে হয়, চাঁদের গায়ে যেন কেউ কামড় বসিয়েছে। চাঁদের যে অংশ ছায়ায় ঢাকা পড়ে, তা একেবারে নিকষ কালো অন্ধকারে ঢেকে যায়। বাকি অংশ উজ্জ্বল থাকে। তবে পূর্ণগ্রাস হোক বা আংশিক, দুই গ্রহণই খালি চোখে দেখা যায় ভালোই দেখা যাবে।
সুদূর পশ্চিম ভারত ছাড়া মঙ্গলবারের গ্রহণ ভারতের সব জায়গা থেকেই দেখা যাবে। বিকাল থেকে শুরু হয়ে যাবে গ্রহণ। এই চন্দ্রগ্রহণ পূর্ব এশিয়া, অস্ট্রেলিয়া, বঙ্গোপসাগরীয় দেশ ও আমেরিকা থেকে দেখা যাবে। স্রেফ সময়ের কারণে চন্দ্রগ্রহণের শেষভাগটা দেখা যাবে ভারতের বিভিন্ন এলাকা থেকে। উত্তর-পূর্ব ভারত, আন্দামান-নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ থেকে পূর্ণ গ্রহণের শেষভাগটা দেখা যাবে।
উত্তর পূর্বের রাজ্যগুলিতে ভালোভাবে দেখা যাবে গ্রহণ। বছরের প্রথম চন্দ্রগ্রহণ ভালোভাবে দেখা যাবে উত্তর পূর্বের অনেক শহর থেকে। গুয়াহাটিতে বিকেল ৫টা ৪৫মিনিট, ডিব্রুগড়ে বিকেল ৫টা ৪০মিনিট, ইটানগরে বিকেল ৫টা ৩৫মিনিট, শিলঙে ৫টা ২৩মিনিটে দেখা যাবে গ্রহণ। এছাড়াও মুম্বাইতে সন্ধ্যা ৬.৩০ মিনিটে, আমেদাবাদে ৬.৩৫, পুনেতে ৬.৩২ মিনিটে এই গ্রহণ দেখা যাবে। বেঙ্গালুরুতে সন্ধ্যা ৬ টা ২৮, হায়দরাবাদে সন্ধ্যা ৬ টা ২২এ দেখা যাবে এই চন্দ্রগ্রহণ। তিরুঅনন্তপুরমে ৬টা ২৩মিনিটে চন্দ্রগ্রহণ দেখা যাবে।
চন্দ্রগ্রহণের সময় চাঁদকে একটু লালচে দেখায়। এর কারণ পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণের সময় পৃথিবী যেহেতু সূর্য এবং চাঁদের মাঝে থাকে, তাই সূর্যালোক সরাসরি চাঁদের উপর গিয়ে পড়ে না। পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল স্বল্পদৈর্ঘ্যের নীল ও বেগুনি আলো বিচ্ছুরিত হতে থাকে। এমন পরিস্থিতিতে তুলনামূলক দীর্ঘ তরঙ্গদৈর্ঘের লাল এবং কমলা আলো প্রতিসরিত হয়ে চন্দ্রপৃষ্ঠে পড়ে।
এই কারণেই পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণের সময় চাঁদকে তামাটে বা রক্তিম দেখায়। পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে ওই সময় ধুলো এবং মেঘ কেমন থাকে, তার উপরই নির্ভর করবে চাঁদকে কতটা রক্তবর্ণ দেখাবে। পৃথিবী যেহেতু চাঁদের থেকে আকারে বড়, তাই গ্রহণ একঘণ্টারও বেশি স্থায়ী হতে পারে।
Lunar Eclipse
দোলের রাতে আকাশে আংশিক চন্দ্রগ্রহণ
×
Comments :0