SIR WESTBENGAL

মানুষকে বিচারাধীন আসামী করা হচ্ছে, সিইও দপ্তরের বাইরে রাতব্যাপী অবস্থান বামপন্থী দলসমূহের

রাজ্য কলকাতা

সিইও দপ্তরের সামনে বক্তব্য রাখছেন বিমান বসু। ছবি:প্রিতম ঘোষ।

বুধবার ভোটাধিকার বাঁচাতে নির্বাচন কমিশনের দপ্তর অভিযান করে সিপিআই(এম) সহ বামপন্থী দল সমূহ। এদিন কলকাতার টি বোর্ডের সামনে থেকে নির্বাচন কমিশনের দপ্তর পর্যন্ত মিছিল করে তারা। লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি ও নো ম্যাপিং-এর নাম সাধারণ গরিব মানুষ, মতুয়া, সংখ্যালঘু , আদিবাসী মানুষের নাম বাদ দেওয়ার ষড়যন্ত্র রুখে দেওয়ার ডাক দেওয়া হয়। সিইও দপ্তরের বাইরে লাগাতার ধর্ণা, অবস্থান চলবে বলে জানিয়েছে নেতৃবৃন্দ।  
এদিন মিছিলে অংশ নিয়েছিলেন বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু, সিপিআই(এম) রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম, পলিটব্যুরো সদস্য শ্রীদীপ ভট্টাচার্য, রামচন্দ্র ডোম, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুজন চক্রবর্তী, শমীক লাহিড়ী, আভাস রায়চৌধুরী, কনীনিকা ঘোষ বোস, মীনাক্ষী মূখার্জী সহ বিভিন্ন বামপন্থী দলগুলির নেতৃবৃন্দ। পাশাপাশি, বহু সাধারণ মানুষও বিপুল জমায়েত করে মিছিলে অংশগ্রহণ করেন। শান্তিপূর্ণভাবে মিছিল চললেও সিইও দপ্তরে কাছেই তাদের ব্যারিকেড করে আটকায় কলকাতা পুলিশের বিশাল বাহিনী। তারপর সেখানে বসেই বিক্ষোভ দেখতে শুরু করেন তারা। বিক্ষোভ সভায় বক্তব্য রাখেন বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু সহ বামপন্থী দলসমূহের নেতৃবৃন্দ। 


মহম্মদ সেলিম বলেন, "এসআইআরে লাখ লক্ষ মানুষের হয়রানি হলো। আরএসএস'র মদতে বিজেপি বলেছিলো লাখ লাখ জেহাদি, রোহিঙ্গা  রয়েছে, তাঁদের নাম বাদ যাবে। চূড়ান্ত তালিকায় তো তেমন কাউকে দেখতে পারলো না। আমরা স্পষ্ট বলতে চাই, সঠিক ভোটার তালিকা ছাড়া ভোট করা যাবে না। ভোটার তালিকায় নাম থাকার পরেও যদি সাধারণ ভোটারের ভোট দেওয়ার অধিকার না থাকে, হিল্লি দিল্লি কারোর কোনও অধিকার থাকবে না, নির্বাচন কমিশনের নির্বাচন করানোর কোনও ভূমিকা থাকবে, সিইও'র দালালির কোনও ভূমিকা থাকবে না। আর রাজ্য প্রশাসন কয়লাচুরি, বালি চুরি, চাকরি চুরি, ঘুষ করে হাত পাকিয়েছেন তারা বিজেপির বিরুদ্ধে একটা সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না। এটাই হচ্ছে বিজেপি আর তৃণমূল।"


সুজন চক্রবর্তী বলেন, "নির্বাচন কমিশন ছেলেখেলা করছে। ভোটাদের বাদ দিয়ে কী ভোট হয়? এখন যে তালিকা রয়েছে সেখানে নাম আছে কিন্তু তাও সে বিচারাধীন। মানুষকে বিচারাধীন আসামী করে রাখা হচ্ছে। এটা হতে পারে না। আসামের মতো ভোটারদের বাদ দেওয়ার চক্রান্ত হচ্ছে। মানুষের অধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে। নাগরিকত্ব যাচাইয়ের অধিকার নির্বাচন কমিশনের নেই। এটা স্বরাষ্ট্র দপ্তরের কাজ। কমিশনের কাজ ভোটার তালিকা নির্ভুল করা। বৈধদের নাম রেখে মৃত ও স্থানান্তরিত ভোটাদের নাম বাদ দেওয়া। আসামে সাধারণ মানুষের সঙ্গে যা হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গে আমরা তা করতে দেব না।
 

Comments :0

Login to leave a comment