SIR Left Front

ভোটাধিকার রক্ষার দাবিতে শিলিগুড়িতে অবস্থান বামপন্থী দলসমূহের

জেলা

ছবি রাজু ভট্টাচার্য।

অনিন্দিতা দত্ত: শিলিগুড়ি
‘ভোটাধিকার বাঁচাও গণতন্ত্র বাঁচাও’ এই স্লোগানকে সামনে রেখে এসআইআরের নামে প্রকৃত ভোটারদের ভোটাধিকার হরণ করার চক্রান্তের বিরুদ্ধে অবস্থান বিক্ষোভ কর্মসূচি হয়েছে। শুক্রবার দুপুরে বামপন্থী দলসমূহের আহ্বানে শিলিগুড়ি সফদার হাসমিচকে দীর্ঘ আট ঘন্টার অবস্থান কর্মসূচি হয়। সভাপতিত্ব করেন সমন পাঠক। 
অবস্থান সভায় সিপিআই(এম) পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য জীবেশ সরকার বলেন, ‘‘রাজ্যের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা কার্যত সঙ্কটের মধ্যে রয়েছে। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে যত দিন যাচ্ছে ততই পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে শাসকদল বিজেপি ও নির্বাচন কমিশন। এসআইআরের নাম করে আমাদের রাজ্যে ৫০ লক্ষের বেশি মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। লক্ষাধিক মানুষের নাম বিচারাধীনের তালিকায় ফেলে দেওয়া হয়েছে। আদৌও ভোটার হিসেবে স্বীকৃতি পাবেন কিনা সেবিষয়ে স্ক্রুটিনি করা হচ্ছে। রাজ্যের সরকার এসআইআর করতে দেব না মুখে এই কথা বললেও দ্বিচারিতা করছেন। এসআইআরের গোটা প্রক্রিয়ায় আমাদের জেলা সহ রাজ্যের মানুষ হয়রান হচ্ছেন। নাগরিকদের অধিকার হরণের কেন্দ্র সরকারের যে ষড়যন্ত্র তার অংশীদার হিসেবে নির্বাচন কমিশন এই কাজগুলি করেছে। প্রকৃত ভোটারদের বাদ দিয়ে কোনভাবেই নির্বাচন হতে পারে না।’’ বামপন্থী দলসমূহের এই কর্মসূচির মাধ্যমে গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক অধিকার রক্ষার প্রশ্নে সর্বস্তরের মানুষকে সমবেত হয়ে আগামীর লড়াই আন্দোলন জারি রাখার আহ্বান জানান তিনি।  
এসআইআরের নাম করে সাধারণ মানুষকে কেন এতো হয়রানি করা হচ্ছে ? কিসের এতো জটিলতা এই প্রশ্ন তুলে বামপন্থী দলসমূহের দার্জিলিঙ জেলা আহ্বায়ক সমন পাঠক বলেছেন, ‘‘গোটা এসআইআর প্রক্রিয়াকে একটা রাজনীতিকরণ করেছে বিজেপি। বিশেষ করে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়, আদিবাসী, তপশীলি, রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষদের টার্গেট করা হয়েছে। নির্দিষ্ট করে কিছু সম্প্রদায় ও প্রান্তিক মানুষদের বেছে বেছে ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। নাগরিকদের অধিকার হরণ করার আরএসএস ও বিজেপি’র চক্রান্তের বিরুদ্ধে রাজ্য জুড়ে প্রতিবাদ আন্দোলন চলছে। দার্জিলিঙ জেলাতেও এই অন্যায় ভয়ঙ্কর কাজ হচ্ছে। গোটা দার্জিলিঙ জেলায় ১ লক্ষ ২৩ হাজার মানুষের নাম বাদ পড়েছে। প্রায় ৮০ হাজার মানুষের নাম বিচারাধীন রয়েছে। প্রকৃত ভোটারদের ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেবার পেছনে বড় চক্রান্ত কাজ করছে। ২০০২সালের ভোটার তালিকায় নাম থাকা মানুষদেরও বিচারাধীন করে রাখা হয়েছে।’’ নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকা সংশোধন করে পুনরায় প্রকৃত ভোটারদের তালিকাভুক্ত করার দাবি জানান তিনি। পাঠক বলেন, এভাবে মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নেবার চক্রান্তকে কোনভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। ধারাবাহিকভাবে লড়াই চলবে।  
প্রবীন সিপিআই(এম) নেতা অশোক ভট্টাচার্য বলেন, ‘‘কেন্দ্রের বিজেপি পরিচালিত সরকারের নির্দেশে রাজ্যের মানুষের সাংবিধানিক অধিকার খর্ব করছে নির্বাচন কমিশন। নির্বাচন কমিশনকে একটি রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠিত করার কোনরকম সদিচ্ছা নেই নির্বাচন কমিশনের। ভুলভ্রান্তি দূর করে ভোটার তালিকাকে নিখুঁত করা ও সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠিত করা এই দুই কাজের দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের। কিন্তু তা না করে নানাভাবে নির্বাচন বাতিল করার জন্য উঠে পড়ে লেগেছে। নির্বাচনের নামে প্রহসন দেখেছি ১৯৭২সালে। একইরকমভাবে হাজার হাজার লক্ষ লক্ষ ভোটারদের তালিকা থেকে বাদ রেখে মোদী ও শাহের নির্দেশে নির্বাচন কমিশন পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচনের নামে প্রহসন করার চেষ্টা চালাচ্ছে।’’ বেআইনীভাবে বাদ দেওয়া ৬০ লক্ষ মানুষদের নাম সংযুক্ত করে সঠিক সময়ের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত করার দাবি জানান তিনি।     
এছাড়াও এদিনের অবস্থানে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সিপিআই(এম) নেতা দিলীপ সিং, মুকুল সেনগুপ্ত, আরএসপি’র বিকাশ সেন রায়, তাপস গোস্বামী, সিপিআই(এমএল)’র অভিজিৎ মজুমদার, সিপিআই’র অনিমেষ ব্যানার্জি, মহিলা নেত্রী তানিয়া দে, সাগর শর্মা, অঙ্কিত দে প্রমুখ।

Comments :0

Login to leave a comment