মালদহের মানিকচকে গিয়ে সভা মঞ্চ থেকে বন্যার জন্য ত্রাণ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বন্যায় বাড়ি ভেঙে পড়ার ক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণের ঘোষণাও করেছেন তিনি।
কিন্তু, এদিন মঞ্চে ক্ষতিগ্রস্তদের একাংশকে ত্রাণ দেওয়ায় খেদ জানিয়েছে সিপিআই(এম)। সিপিআই(এম) মালদহ জেলা সম্পাদক মণ্ডলী সদস্য দেবজ্যোতি সিন্হা বাড়ির জন্য ক্ষতিপূরণের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানালেও একাংশকে কেবল পুজোর আগে ত্রাণ দেওয়ায় প্রশ্ন তুলেছেন ভাগাভাগির রাজনীতি নিয়ে।
বৃহস্পতিবার মানিকচক বিএসএস হাইস্কুলের মাঠে মোট ২৪ হাজার ৫৯৫ জন গৃহহীনকে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, ক্ষতিগ্রস্তদের অ্যাকাউন্টে সরাসরি পৌঁছে যাবে অর্থ। বাড়ি পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেলে ১ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা, আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হলে ক্ষতিপূরণ ৯০ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণের ঘোষণা করা হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এই কর্মসূচির পর রতুয়া ও মানিকচকের ভাঙন সমস্যা সমাধানে প্রশাসনিক বৈঠকও করবেন।
এদিন দুর্গতদের কয়েকজনের হাতে ত্রাণ সামগ্রী ও পুজোর উপহারও তুলে দেন মুখ্যমন্ত্রী।
সিপিআই(এম) জেলা সম্পাদক মণ্ডলী সদস্য দেবজ্যোতি সিন্হা এই প্রসঙ্গে বলেছেন, মানিকচক ব্লকের কেবল ভুতনিতে এখনও বন্যা প্লাবিত ৩০ হাজার পরিবারের ২ লক্ষ মানুষ রয়েছেন। ত্রাণ দেওয়া হয়েছে ৬ হাজার পরিবারকে। তার মধ্যে ভুতনির ৩২৫০ জন রয়েছেন। তা’হলে ত্রাণ থেকে বাকিরা বাদ কেন। পুজোর জামাকাপড় কেবল একটি অংশকে কেন দেওয়া হলো? সরকার সব জায়গায় ভাগ করার চেষ্টা করছে। ভাঙন পীড়িতদের মধ্যেও কি ভাগ করা হলো?
দেবজ্যোতি সিন্হা বলেন, মুখ্যমন্ত্রী বললেন বন্যায় কেউ মারা যাননি। দক্ষিণ চণ্ডীপুরে দ্বিজেন মণ্ডল, উত্তর চণ্ডীপুরে আনিকুল ইসলাম এবং আয়ানের মৃত্যু হয়েছে জলে ডুবে। অথচ তাঁদের জন্য আর্থিক ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করা হলো না কেন?
বাড়ি ক্ষতির কারণে ক্ষতিপূরণ নিশ্চিতভাবে স্বাগত জানানোর মতো সিদ্ধান্ত।
এই সিপিআই(এম) নেতা বলেন, মালদা-মুর্শিদাবাদের মানুষ চাইছেন ভাঙন রোধের স্থায়ী সমাধান করতে হবে। তিনি বিভিন্ন দপ্তরকে যুক্ত করার কথা বললেন, কেন্দ্রকে প্রকল্প পাঠানোর কথা বললেন, কিন্তু যে কথাটা শোনা যাচ্ছিল ৩৬০০ কোটি টাকা প্রকল্পের, তা নিয়ে কিছু শোনা গেল না এদিন।
যাদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া হচ্ছে তাঁদের নামের তালিকা পঞ্চায়েত সমিতি এবং গ্রাম পঞ্চায়েতে প্রকাশ করার দাবিও তুলেছেন দেবজ্যোতি।
Mankchak Flood Relief Suvendu Adhikary
মানিকচকে ত্রাণ মুখ্যমন্ত্রীর, একাংশকে কেন, প্রশ্ন সিপিআই(এম)’র
বন্যাপীড়িত ভুতনিতে এমনই ছিল অবস্থা। ছবি সংগ্রহ থেকে
×
Comments :0