CJP Bengaluru

লড়াই গণতন্ত্র বাঁচানোর, বেঙ্গালুরুর সমাবেশে বললেন প্রকাশ রাজ, ধ্রুব রাঠি

জাতীয়

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের কথায় এসআইআর করেছেন জ্ঞানেশ কুমার। বেঙ্গালুরুতে সিজেপির সামবেশে বললেন বিশিষ্ট অভিনেতা প্রকাশ রাজ। বৃহস্পতিবার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে বেঙ্গালুরুতে সমাবেশের ডাক দেয় ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। সমাবেশে ছিলেন ধ্রুব রাঠিও। 
রাজ বলেন, ‘এসআইআর করে গোটা দেশকে অপমান করেছে নির্বাচন কমিশন। গণতন্ত্র মানুষ ঠিক করেন কে শাসক হবেন, এসআইআর প্রক্রিয়া চালু করে কমিশন ঠিক করে দিচ্ছে কোন কোন ব্যাক্তি তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন।’ উল্লেখ্য এসআইআর প্রক্রিয়ায় গোটা দেশের ১৩ কোটি মানুষের নাম বাদ গিয়েছে। এই বাদ যাওয়া নামের মধ্যে যেমন মৃত ভোটার রয়েছে তেমন লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির নাম করেও বহু ন্যায্য ভোটারের নামও বাদ দেওয়া হয়েছে। নাম বাদ যাওয়ার ফলে বহু মানুষ সরকারি প্রকল্প গুলোর সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তাদের নাগরিকত্ব নিয়ে তুলে দেওয়া হয়েছে প্রশ্ন।
এদিন রাজ বলেন, ‘এই আন্দোলনের উদ্দেশ্য শুধুমাত্র জ্ঞানেশ কুমারকে সড়ানো নয়, কারণ জ্ঞানেশ কুমার পদ ছাড়লে ওই জায়গায় অন্য একজন বসবেন। এই আন্দোলনের আসল উদ্দেশ্য এসআইআর বাতিল করা।’ ধ্রুব রাঠি বলেন, ‘এই লড়াই গণতন্ত্রকে রক্ষা করার লড়াই।’
আগামী ১০ অক্টোবর জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লিতে সমাবেশের ডাক দিয়েছে সিজেপি। তার আগে বৃহস্পতিবার বেঙ্গালুরুর সমাবেশে মানুষের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। অভিজিৎ দীপকে, সৌরভ দাসদের পাশাপাশি সমাবেশে ছিলেন এসএফআই নেত্রী ঐশী ঘোষ।
২০২৫ সালের জুনে বিহার থেকে শুরু হওয়া এসআইআর পরবর্তীতে দেশের ৩০টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে বিস্তৃত হয়েছে এবং খসড়া ভোটার তালিকা থেকে ১৩ কোটিরও বেশি নাম বাদ পড়েছে। দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের সাম্প্রতিক এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ১০ মাসে নির্বাচন কমিশনের দুই সদস্য সুখবীর সিং সান্ধু ও বিবেক যোশী এসআইআর এবং ভোটার-তালিকা সংক্রান্ত বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়ে অন্তত ১৪ বার নথিভুক্ত আপত্তি জানিয়েছিলেন।
ওই প্রতিবেদন প্রকাশের পরেই বিরোধী দলগুলির পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরীণ কাজকর্ম নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তোলা হয়। সিপিআই(এম), সিপিআই এবং সিপিআই(এমএল)-লিবারেশন জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণ এবং এসআইআর অবিলম্বে বন্ধ করার দাবি জানিয়েছে।
অন্যদিকে, নির্বাচন কমিশন অভিযোগগুলি মানেনি। ২৩ সেপ্টেম্বর কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এসআইআর-সহ কমিশনের সমস্ত সিদ্ধান্ত পূর্ণ কমিশনের সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত। অর্থাৎ কোনও একজন কমিশনার একতরফাভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এই অভিযোগকে কমিশন অস্বীকার করেছে। তবে দুই নির্বাচন কমিশনারের চিঠি এবং তার বিষয় নিয়ে প্রতিবেদনে যা বলা হয়েছিল তাকে অস্বীকারও করতে পারেনি।
এসআইআর নিয়ে আইনি বিতর্কও আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে। ২০২৬ সালের মে মাসে সুপ্রিম কোর্ট বিহারের এসআইআর-এর আইনি বৈধতা বহাল রাখলেও ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া ব্যক্তিদের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দেয়। আদালত স্পষ্ট করে যে ভোটার তালিকা থেকে কোনও ব্যক্তির নাম বাদ পড়ার ভিত্তিতে তাঁকে ভারতীয় নাগরিক নন বলে ঘোষণা করা যায় না।
বিরোধী দলগুলির দাবি, নাম বাদ পড়েছে এমন প্রকৃত ভোটারদের নাম দ্রুত এবং ভোটার তালিকায় ফিরিয়ে দিতে হবে।

Comments :0

Login to leave a comment