France Student's Protest

ছাত্র বিক্ষোভে গ্রেনেড, হাত উড়ে গেল কিশোরের, অশান্ত ফ্রান্স

আন্তর্জাতিক

ফ্রান্সে ছাত্র বিক্ষোভ।

স্কুল ভালো কর। এই দাবি তুলেই ফ্রান্সের রাস্তায় শামিল ছাত্রছাত্রীরা। নবীন অংশের মুখ বন্ধ করতে সব রকম দমন চালাচ্ছে সে দেশের সরকার। ‘স্টান’ গ্রেনেডে উড়ে গিয়েছে পনের বছরের ছাত্রের হাত। তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে এই গ্রেনেড ব্যবহার আপাতত বন্ধ রাখার জন্য পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ এবং প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লেকর্নু। 
প্রশাসন ঘুরিয়ে ফিরিয়ে ছাত্রছাত্রীদের দায়ী করছে। শিক্ষা মন্ত্রী এদুয়ার্ড জেফ্রে ফ্রান্সের ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলীতে বলেছেন, আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে ৩০টি স্কুলে। অন্তত ৩০ হাজার ছাত্রছাত্রী ক্লাস করতে পারছে না। 
প্রধানমন্ত্রী লেকর্নু বলেছেন, বিক্ষোভের জেরে ৫০০ স্কুল বন্ধরাখতে হচ্ছে। 
কিন্তু এত করেও দায় সরাতে পারছে না ফ্রান্সের সরকার। শিক্ষার বাজেটে মূল্যবৃদ্ধির তুলনায় বরাদ্দ বাড়ছে না। স্কুলের পরিকাঠামো ক্ষয়ে যাচ্ছে। তার চেয়েও বড় বিষয় হয়েছে শিক্ষকের অভাব। স্কুলের হাল না ফেরায় কেবল ছাত্রছত্রীরা নন, ক্ষোভ রয়েছে সমাজেরই। 
ফ্রান্সে বরাদ্দ বাড়ছে প্রতিরক্ষায়। তার জেরে সরকারি কোষাগারের টাকা যাচ্ছে অস্ত্র বহুজাতিক কর্পোরেট সংস্থার হাতে। এদিকে দেশের অর্থনীতির টালমাটাল দশা। সরকারের ঋণ জাতীয় উ২পাদনকে ছাড়িয়ে গিয়েছে। সরকার সমানে কোপ বাসচ্ছে শ্রমজীবীর ওপর। ছাঁটা হয়েছে পেনশন। পেনশন পাওয়ার জন্য কাজের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। সরকারি কর্মসংস্থান হচ্ছে না। 
গত মাসেই ফ্রান্সে তোলপাড় ফেলে দিয়েছে বিভিন্ন ট্রেড ইউনিয়নের ঐক্যবদ্ধ মিছিল। শ্রমিকরা সমর্থন জানাচ্ছেন ছাত্রদের। 
এদিকে ছাত্র বিক্ষোভে লাগাতার দমন চালানোয় জনসমর্থনে গুরুতর ভাটা টের পেয়েছে সরকার। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী লরেন্ত নুনেজ বলেছেন, পুলিশ যেন বিবেচনা করে পদক্ষপ নেয়। তিনি জানিয়েছেন, আপাতত স্টান গ্রেনেড ব্যবহার না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কোন পরিস্থিতিতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল তা নিয়ে তদন্ত চলছে।

Comments :0

Login to leave a comment