অনিন্দিতা দত্ত ও তপন বিশ্বাস: শিলিগুড়ি
আমরাও পৃথিবীর সন্তান এই স্লোগানের মধ্য দিয়ে এবং বর্ণাঢ্য শোভা যাত্রা দিয়ে' পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য প্রতিবন্ধী সন্মেলনীর দুদিন ব্যাপী ১০ম রাজ্য সম্মেলন শুরু হলো শুক্রবার তরুণ মজুমদার নগর ও রহমান শেখ মঞ্চ এবং সঞ্জয় দাস ও জানে আলম কক্ষে (শিলিগুড়ির বর্ধমান রোডের শিভম প্যালেসে)।
এদিন বিকেলে বর্ধমান রোডের শিভম প্যালেসে রাজ্য সন্মেলনের শুরুতে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন অশোক ভট্টাচার্য। সংগঠনের পতাকা তোলেন কান্তি গাঙ্গুলী ও বিমান বসু। শহীদ বেদীতে মালা দিয়ে শ্রদ্ধা জানান নেতৃবৃন্দ। এরপর প্রদীপ জ্বেলে সম্মেলনের উদ্বোধন হয়। উদ্বোধনী বক্তব্যে বিমান বসু সামাজিক দায়বদ্ধতা এবং প্রতিবন্ধীদের অবস্থানের উপর জোর দেন। তিনি বলেন, সংগঠনের ভিন্নতা রয়েছে। সংগঠনে এমন অনেক মানুষ রয়েছেন যারা চলতে পারেন না, কথা বলতে পারেন না এবং দেখতেও পারেন না। ব্যতিক্রমী একটি সংগঠন। মানুষকে সংগঠিত করার জন্য নিরন্তর ও ধারাবাহিক কাজ করে চলেছে প্রতিবন্ধী সম্মেলনে বিগত ৪০ বছর ধরে। একেবারে সহজ কাজ নয় এটা। কঠিন থেকে কঠিনতর কাজের মধ্য দিয়ে সংগঠন সাফল্য অর্জন করেছে। আমাদের দেশে সারা বিশ্বে এই সময় মানুষের মধ্যে সমতার অভাব দেখা যাচ্ছে। বৈষম্যের নীতি আষ্টেপৃষ্ঠে গিলছে সমাজের মানুষদের। ব্যতিক্রমী কয়েকটি দেশ দেশের মধ্যে অসাম্য বৈষম্য অর্থনৈতিক দিক থেকে নিরন্তর লড়াই করে চলেছে ভারত বর্ষ। যেখানে দাঁড়িয়ে দরিদ্র না খেতে পাওয়া মানুষের সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে। খিদের তাড়নায় মানুষ মার ভাত খাচ্ছে। আপনারাও সমাজের অংশ, তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করার কোনো কারণ নেই। এই দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে চলা উচিত। যদিও দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন ঘটেছে কিন্তু যতটা দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন হওয়া উচিত ছিল ঠিক ততটা হয়নি। লড়াই সর্বাত্মক হওয়া প্রয়োজন।
বিমান বসু বলেন, জাত ধর্মের বিভাজন ব্যাপকভাবে শুরু হয়েছে। সামাজিক জীব হিসেবে চলার পথ অপ্রশস্ত হচ্ছে। বর্ণ জাত ধর্মের ভিত্তিতে মানুষকে বিচার করা মানে সভ্যতাতে ধ্বংসের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। আমরা সবাই পৃথিবীর সন্তান। সংগঠনের বিভিন্ন কাজের সাথে বিভিন্ন প্রান্তের মানুষদের যুক্ত করে সামনের দিকে এগিয়ে চলতে হবে। সম্মেলনের সাফল্য কামনা করে প্রত্যেককে অভিনন্দন জানান তিনি।
অভ্যর্থনা কমিটির পক্ষে অশোক ভট্টাচার্য বলেন, এটি রাজনৈতিক বা ট্রেড ইউনিয়ন সংগঠন নয়, এটি একটি মানবিক সংগঠন। বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন মানুষের সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে। দেশের সমস্ত সুযোগ সুবিধা পাওয়ার অধিকার রয়েছে এদের। প্রতিবন্ধীদের প্রতিদিন লড়াই করতে হয় বেঁচে থাকার জন্য। অভয়া আন্দোলনের নেতা চিকিৎসক সুবর্ণ গোস্বামী বলেন, সমাজের দুর্বল অংশকে যতটা গুরুত্ব দেয়া উচিত রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা বা সরকারের ততটা গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না। আপনারা ধারাবাহিক আন্দোলনের মধ্য দিয়ে অনেকটাই পরিবর্তন আনতে পেরেছেন। আরও অনেক পথ হাঁটতে হবে।
এ দিনের রাজ্য সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক মুরলী ধরন। সম্মেলন মঞ্চে বিশিষ্ট সমাজসেবী নিরঞ্জন বিশ্বাসকে সম্বর্ধিত করা হয়। শিখা দাস, রণ দাস, অনির্বাণ মুখার্জি, বদরুজ্জোহা, প্রবীর সাহা, সাম্য গাঙ্গুলী, গৌতম রায় কে নিয়ে গঠিত সভাপতি মন্ডলী সম্মেলনের কাজ পরিচালনা করেন। সম্পাদকীয় প্রতিবেদন পেশ করেন সংগঠনের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কান্তি গাঙ্গুলী। সম্মেলনে সারা রাজ্য থেকে ১২০০ প্রতিনিধি অংশ নেন।
এদিনের সম্মেলনের মধ্য দিয়ে দাবি ওঠে, ২০১৬ সালের প্রতিবন্ধী অধিকার আইন সর্ব স্তরে কার্যকরী করতে হবে। ১২৫ দিনের কাজ আইন প্রতিবন্ধীদের উপযুক্তভাবে অংশ গ্রহণের সুযোগ দিতে হবে। অবিলম্বে মানবিক ভাতা পাঁচ হাজার টাকা করতে হবে। শিক্ষা ক্ষেত্রে প্রয়োজনিয় পাঠ্যপুস্তক, শিক্ষা সামগ্রিক পাঠ পরিকল্পনার অভাবে বিশেষ বিদ্যালয় ব্যবস্থা এবং সাধারণ বিদ্যালয় চূড়ান্তভাবে সংকটে। এই ব অবস্থা থেকে মুক্তি লাভের উদ্দেশ্যে কোন সঠিক পরিকল্পনা ও দিশা সরকারের নেই। রাজ্যে সামাজিক প্রকল্প চালু প্রকল্প গুলিতে প্রতিবন্ধকতার বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি।
Comments :0