কারও দোতলা-তিনতলা বাড়ি, কারও স্বামী চাকরি করেন, আবার কেউ কোচবিহার পৌর এলাকায় তৃণমূল নেতা-নেত্রী। তাদের পরিবারের মহিলাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ইতিমধ্যেই ঢুকে গেছে অন্নপূর্ণা যোজনার ৩ হাজার টাকা। অথচ কোচবিহার শহরের ব্যাপক অংশের যোগ্য মহিলারা এখনও পর্যন্ত বঞ্চিত এই প্রাপ্য থেকে। এই স্বজন পোষণের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে এবং অবিলম্বে সাধারণ যোগ্য মহিলাদের এই যোজনার অন্তর্ভুক্ত করবার দাবিকে সামনে রেখে বৃহস্পতিবার কোচবিহার সদর মহকুমা শাসকের দপ্তরের সামনে বিক্ষোভে শামিল হলেন অন্নপূর্ণা যোজনা থেকে বঞ্চিত বড় অংশের মহিলারা।
এই আন্দোলনরত মহিলাদের অভিযোগ জুন মাসের প্রথম সপ্তাহেই তারা কেউ অফলাইন, আবার কেউ অনলাইনে এই অন্নপূর্ণা যোজনার জন্য আবেদন করেছেন। কিন্তু আজ পর্যন্ত তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে এই যোজনার প্রাপ্য টাকা ঢোকেনি। অথচ তাদের অনেক পরে আবেদন করেও ইতিমধ্যেই এই যোজনার সুবিধার পেতে শুরু করেছেন কোচবিহার শহরের একটি বড় অংশের মহিলারা। তাদের অভিযোগ, তৃণমূল পরিচালিত কোচবিহার পৌরসভার সাথে যুক্ত কর্মীদের পরিবার, কোচবিহার শহরের বিভিন্ন ওয়ার্ডের তৃণমূল নেতাদের পরিবারের মহিলারা এই সুযোগ পাচ্ছেন। কারণ এই শহরের সাধারণ মহিলাদের আবেদনপত্র গুলি সরিয়ে রেখে এই পৌর কর্মী ও তৃণমূল নেতাদের পরিজনদের আবেদন এন্ট্রি করা হয়েছে। আর এই স্বজন পোষণের কারণেই এখনও পর্যন্ত এই অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধা থেকে বঞ্চিত তাদের মত সাধারণ মহিলারা। রীতিমতো অরাজকতা চলছে বলে অভিযোগ তাদের।
ধূপগুড়ি শহর ও সংলগ্ন এলাকায় অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা না মেলায় বৃহস্পতিবার সকালে পৌরসভা এবং মাগুরমারি ১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েত কার্যালয়ে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ দেখান শত শত মহিলা। অভিযোগ, নিয়ম মেনে আবেদন করেও মিলছে না সরকারি সহায়তা। জানা গিয়েছে, ধূপগুড়ি পৌরসভার ১৬টি ওয়ার্ডের অধিকাংশ মহিলা অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্ম ও প্রয়োজনীয় নথিপত্র পৌরসভায় জমা দিয়েছিলেন। তাঁদের আশা ছিল, জুলাই মাস থেকে অ্যাকাউন্টে টাকা আসা শুরু হবে। ১ জুলাই থেকে অনেকের অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকলেও, যারা অফলাইনে ফর্ম জমা দিয়েছিলেন, তাদের অনেকেরই অ্যাকাউন্টে টাকা পৌঁছায়নি। অথচ, যারা অনলাইনের মাধ্যমে আবেদন করেছিলেন, তারা নিয়মমতো ৩ হাজার টাকা পেয়েছেন বলে অভিযোগ।
এদিন সকাল হতেই পৌরসভা চত্বরে বিক্ষোভ শুরু হয়। সেই সময় পৌরসভায় ছিলেন ধূপগুড়ির বিধায়ক নরেশ চন্দ্র রায়। তাঁকে ঘেরাও করে ক্ষোভ উগরে দেন মহিলারা। এক আবেদনকারীর কথায়, “একমাস আগে সমস্ত নথি জমা দিয়েছিলাম। তখন তো অনলাইন আবেদনের কথা আমাদের বলা হয়নি। তাহলে আমরা কেন বঞ্চিত হলাম?” আরেক মহিলার অভিযোগ, “প্রশাসনের গাফিলতিতেই এই পরিস্থিতি। আমাদের প্রাপ্য টাকা দ্রুত পাওয়ার দাবি জানিয়েছি।”
পৌরসভা সূত্রে খবর, প্রচুর ফর্ম জমা থাকলেও সেগুলির ডাটা এন্ট্রি এখনও সম্পন্ন হয়নি। সেই কারণেই অফলাইনের আবেদনকারীদের টাকা ঢোকেনি। বিধায়ক পরিস্থিতি সামাল দিয়ে জানান, প্রশাসনিক আধিকারিকদের সঙ্গে কথা বলে দ্রুত সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করা হবে।
অন্যদিকে, একই ছবি দেখা গিয়েছে ধূপগুড়ি ব্লকের মাগুরমারি ১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েত কার্যালয়েও। সেখানেও ফর্মের স্তূপ দেখে ক্ষোভে ফেটে পড়েন মহিলারা। পঞ্চায়েত দপ্তরের এক কর্মীর দাবি, জুন মাস থেকে অনলাইন আবেদনের বিষয়টি পঞ্চায়েত সদস্যদের জানানো হয়েছিল। তবে কবে এই ফর্মগুলির ডাটা এন্ট্রি হবে বা কবে থেকে উপভোক্তারা টাকা পাবেন, সে বিষয়ে প্রশাসনিক স্তরে কোনো স্পষ্ট উত্তর মেলেনি। প্রশাসনের গড়িমসিতে চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন সাধারণ মানুষ।
দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার বালুরঘাট মহকুমা শাসকের দপ্তরের সামনে কয়েকশো মহিলা বিক্ষোভ দেখায়। তাদের দাবি সরকারের নির্দেশ মতো তারা জুন মাসেই অফ লাইনে ফর্ম পূরণ করে এসডিও অফিসে জমা করেন। ফর্ম জমা পড়ার পর সরকারি ভাবে অনলাইনে ফর্ম ফিলাপ শুরু হয়। আমরা আবার এই অফিসে এসে জিজ্ঞেস করাতে বলা হয়েছিলো আপনাদের আর অন লাইনে ফর্ম ফিলাপ করতে হবে না। এদিকে অন লাইনে যারা ফর্ম পূরণ করেছিলেন তাদের ভেরিফিকেশন হয়ে অনেকের টাকা ঢোকা শুরু হয়েছে। কিন্তু অফলাইনের ফর্মের বেশিরভাগই টাকা পায়নি। এসডিও দপ্তর সুত্রে জানাযায় প্রচুর অফ লাইনে ফর্ম জমা পড়েছে কিন্তু প্রয়োজনীয় কর্মী না থাকায় পোর্টালে সময় মতো আপলোড করা সম্ভব যায়নি। অফিস থেকে বিক্ষোভরত মহিলাদের বলা হয়েছে আপলোড সহ অন্যান্য প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করা হবে।
অন্নপূর্ণা যোজনা প্রকল্পে অনলাইনে ও একই সাথে অফ লাইনে নিয়ম মেনে ফর্ম পুরণ করার পরেও তাদের একাউন্টে টাকা না ঢোকায় এদিন খুব সকাল থেকেই শান্তিপুর পৌরসভায় শান্তিপুরের কয়েকশো মহিলার বিক্ষোভ দেখায়। বিক্ষোভে পৌরসভা কার্যত একেবারে অচল হয়ে পরে।
অন্নপূর্ণা ভান্ডারের টাকা না পাওয়ায় ক্ষুব্ধ মহিলারা জয়নগর মজিলপুর পৌরসভায় দীর্ঘ সময় ধরে বিক্ষোভ দেখালেন। তাঁদের অভিযোগ, বিশেষ শিবিরে ২ জুন থেকে তাঁরা অন্নপূর্ণা ভান্ডার প্রকল্পের জন্য ফরম জমা দেন। এই প্রকল্পের টাকা তাঁরা না পাওয়ায় পৌরসভার বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। পৌরসভার চেয়ারম্যান সুকুমার হালদারকে ঘেরাও করে দীর্ঘ সময় ধরে তাঁরা বিক্ষোভ দেখান।
এবিষয়ে চেয়ারম্যান এদিন জানান, জয়নগর মজিলপুর পৌরসভায় প্রায় ৫ হাজার ফরম জমা পড়েছে। পৌরসভায় কর্মী সংখ্যা কম থাকায় সময়মতো এই ফরমগুলি এন্ট্রি করা সম্ভব হয়নি। গত ২৬ জুন একটি
এজেন্সিকে দেওয়া হয়েছে ফরমগুলি এন্ট্রি করার জন্য। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, আগামী ১০ দিনের মধ্যে এন্ট্রি হয়ে যাবে।
Comments :0