সেখ সাইদুল হক
কেন্দ্রের বিজেপি সরকার সঙ্ঘ পরিবারের নির্দেশ মেনে আরএসএস’র অ্যাজেন্ডাগুলিকে রূপায়িত করে চলেছে। এই সরকার কর্পোরেট তোষণ এবং সাম্প্রদায়িক বিভাজনের মিশেল বানিয়ে দেশ চালাচ্ছে। সেই নীতি মেনেই বিজেপি পরিচালিত রাজ্য সরকারগুলি পদক্ষেপ নিচ্ছে। এটিই ডবল ইঞ্জিন সরকারের মূল কথা। সেই পদাঙ্ক অনুসরণ করছে আমাদের রাজ্যের নবগঠিত বিজেপি সরকার। নির্বাচনে ফল ঘোষণার পরেই মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন এই জয় হিন্দুত্বের জয়। অতএব হিন্দুত্বের বিজয় শঙ্খ বাজিয়ে সঙ্ঘর নির্দেশিকা মেনে সংখ্যালঘুদের ‘টাইট’ দিতে হবে। সেই লক্ষ্যে সরকার কিছু নির্দেশিকা জারি করেছে যাতে সংখ্যালঘুদের মধ্যে ভীতি ও উদ্বেগ সঞ্চার করানো যায়।
পশু হত্যা নিবারণ আইন ১৯৫০:
মুসলমানদের ঈদ বা কোরবানি উৎসব পালনের ঠিক আগে আগে পাবলিক নোটিস জারি করে শর্ত চাপিয়ে বলা হলো শংসাপত্র ছাড়া পশু জবাই (গোরু মহিষ বাছুর ইত্যাদি )করা যাবে না। শংসাপত্র নিতে হবে। শংসাপত্র দেবেন গ্রামাঞ্চলে পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি/ শহরাঞ্চলে পৌরপতি এবং উভয় ক্ষেত্রেই সরকারি পশু চিকিৎসক। বহু জায়গায় এদেরকে অফিসে পাওয়া যাচ্ছে না,পেলেও দিতে চাচ্ছেন না। তাই শংসাপত্র পাওয়া অসম্ভব। ঐ আইনের ১২ নম্বর ধারায় যে ছাড়ের ব্যবস্থা আছে শত আবেদন নিবেদন সত্ত্বেও সরকার তাতে কর্ণপাত করেনি। ওই আইনের গেজেট নোটিফিকেশন কি রাজ্যের সর্বত্র হয়েছিল? হয়নি। ১৯৫০ সাল হতে এই আইন থাকা সত্ত্বেও ৭৫ বছর ধরে শান্তিপূর্ণভাবে কোরবানি উৎসব পালিত হয়ে এসেছে। এবারে কোরবানি কার্যত বন্ধ হয়ে গেল। কেবল উৎসব নয়,এর প্রভাব পড়েছে গ্রামীণ অর্থনীতিতে। কৃষির পাশাপাশি পশুপালন গ্রামীণ অর্থনীতির একটি বড় দিক। পশুপালনে সংখ্যাগুরু এবং সংখ্যালঘু সব অংশের গরিব প্রান্তিক মানুষেরা যুক্ত। বিশেষভাবে যুক্ত গোয়ালা সম্প্রদায়। এই নির্দেশিকার ফলে গোরু কেনাবেচা বন্ধ হল, গোরুর হাট কার্যত বন্ধ হয়ে গেল। ফলে মার খেলো পশু পালনের সঙ্গে যুক্ত পরিবারগুলি। বর্তমানে কৃষি কাজে গোরুর ব্যবহার কার্যতা নে। বয়স্ক ও দুধ দিতে অক্ষম গোরুদের তাহলে কি হবে? ট্যানারি শিল্পের কি হবে? পরিসংখ্যান বলছে দেশে প্রায় ৪০ কোটি গোরুর ২০ কোটির বেশি অনুউৎপাদক। এদের ভরণপোষণের কি হবে ?
শব্দবিধি নিয়ন্ত্রণ ও রাস্তায় উপাসনা:
কেবল ধর্মীয় উৎসব নয়, যে কোনও উৎসবে শব্দবিধি নিয়ন্ত্রণ মেনে চলা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। একই কথা রাস্তা দখল করে উপাসনা করা বা কোনও উৎসব পালন করার ক্ষেত্রে। এইসব বিষয়ে আইন আছে, আছে আদালতের রায়। কিন্তু শাসক দলের বক্তব্যে এবং সরকারি ভাষ্যে একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায়কে নিশানা বানিয়ে বলা হলো মসজিদ হতে মাইকে আজান বন্ধ করতে হবে। এবং রাস্তা দখল করে নামাজ পড়া চলবে না। এই প্রসঙ্গে উল্লেখ্য, নামাজ পড়ার সময় বাইরে মাইক ব্যবহার করা হয় না। কেবলমাত্র কয়েক মিনিটের আজানের সময় হয়। শুক্রবারে জুম্মার নামাজে বেশি ভিড় হলে রাস্তায় কিছুটা হয়। ঈদের নামাজ সাধারণভাবে রাস্তায় হয় না। ১৯৪৭ সালের ১৮ আগস্ট বাদ দিলে বহু পরে জ্যোতি বসুর নেতৃত্বে হাসিম আব্দুল হালিম ও সৈয়দ মালিয়াবাদীর উদ্যোগে নামাজ চালু হয় রেড রোডে। এই বছর সেনা কর্তৃপক্ষ ব্রিগেডে অনুমতি দিয়েছে। এখন প্রশ্ন সব ধর্মীয় উৎসব বা অন্যান্য সামাজিক উৎসবে শব্দ বিধি নিয়ন্ত্রণ করা এবং রাস্তা উন্মুক্ত রাখার ব্যাপারে সরকার উদ্যোগী ভূমিকা নেবে তো ?
ওবিসি সংরক্ষণের সুযোগ সঙ্কোচন ও বাতিল :
রঙ্গনাথ মিশ্র কমিশনের সুপারিশকে ভিত্তি করে গরিব পিছিয়ে থাকা সংখ্যালঘুদের জন্য পশ্চাৎপদতার নিরিখে ওবিসি সংরক্ষণের যে বন্দোবস্ত ২০১০ সালে ফেব্রুয়ারি মাসে বামফ্রন্ট সরকার করেছিল মমতা ব্যানার্জি সরকার সেই সংরক্ষণ নিয়ে জটিলতা তৈরি করায় তা আদালতে যায়। হাইকোর্টে তৃণমূল সরকারের তৈরি আইন ও বাড়তি সংরক্ষণ বাতিল হয়। বামফ্রন্ট সরকার ওবিসি সংরক্ষণ ৭% হতে বাড়িয়ে ১৭ শতাংশ করেছিল। ওবিসিদের "এ" ক্যাটাগরি এবং" বি" ক্যাটাগরিতে ভাগ করেছিল। সংখ্যালঘুদের জন্য "এ" এবং সব ওবিসির জন্য" বি" ক্যাটেগরি। ১৯৯৩ হতে ২০১০ সালের ৫ মার্চের মধ্যে বাম সরকার ওবিসি কমিশনের মাধ্যমে ৬৬ টি গোষ্ঠীকে ওবিসি স্বীকৃতি দেয়। এর মধ্যে বারোটি ছিল মুসলিম ধর্মাবলম্বী গোষ্ঠী। পরে বাম সরকার আরও ৪১টি গোষ্ঠীকে অন্তর্ভুক্ত করে। মোট হয় ১০৭ টি। তৃণমূল সরকার এসে বেআইনিভাবে সংখ্যালঘু কমিশনের ক্ষমতা কেড়ে নেয়। নিজেরাই আইন করে ক্ষমতা নেয় এবং প্রথমে ৩৫ টি এবং আরও পরে ৩৭ টি গোষ্ঠীকে যুক্ত করে। সংখ্যা দাঁড়ায় ১৭৯ টি সম্প্রদায়। তৃণমূলের এই বেআইনি পদক্ষেপের ফলে মামলা হয় উচ্চ আদালতে। কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিসন বেঞ্চ প্রথম ৬৬ টিকে রেখে বাকি ১১৩ টি সম্প্রদায়কে ওবিসি তালিকা হতে বাদ দেয়। ১১৩-র মধ্যে ১১০টি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের। কোর্ট এ ক্যাটাগরি বি ক্যাটেগরি বাতিল করে। এতে প্রায় ১২ লক্ষ শংসাপত্র বাতিল হয়। এরপর মামলা সুপ্রিম কোর্টে যায়। তৃণমূল সরকার সুপ্রিম কোর্টে জানায় নতুন করে সমীক্ষা করে তালিকা তৈরি করবে। ঠিক মতো পদ্ধতি না মেনে ও সমীক্ষা না করে কিছু গোষ্ঠীকে বাদ দিয়ে, কিছু গোষ্ঠীকে অন্তর্ভুক্ত করে, কিছু গোষ্ঠীকে" এ" এবং "বি "তে মিশিয়ে মোট ১৪০ গোষ্ঠীর তালিকা প্রকাশ করে। হাইকোর্টে পুনরায় মামলা হলে কোর্ট স্থগিতাদেশ দেয়। রাজ্য সরকার সুপ্রীমকোর্টে যায়। বর্তমান বিজেপি সরকার সেই মামলা প্রত্যাহার করে নিয়েছে এবং ঘোষণা করেছে যে ১০% অতিরিক্ত সংরক্ষণ থাকবে না। কেবল পুরাতন ৬৬ টি গোষ্ঠীটি সাত শতাংশ সংরক্ষণ সুযোগ পাবে। বাকি গোষ্ঠীগুলি বাতিল হবে। কোন ক্যাটাগরি থাকবে না। কোন সমীক্ষা বা বিচার বিবেচনা না করে সরকার এটা করলো সাম্প্রদায়িক দৃষ্টিকোণ হতে। ওবিসি তালিকা থেকে ছিটকে গেল প্রায় দু’কোটি মানুষ,যারা গরিব এবং মূলত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের।
মাদ্রাসা শিক্ষা ও বন্দেমাতরাম:
বিজেপি শাসিত রাজ্যে সেই রাজ্যের মাদ্রাসা শিক্ষা আক্রমণের নিশানায় আছে। আসামের হেমন্ত বিশ্বশর্মা সরকার এই প্রশ্নে মডেল হয়েছে। আমাদের রাজ্যে বর্তমান শাসক দলের এক প্রাক্তন এমপি বলেছিলেন মাদ্রাসা শিক্ষা সন্ত্রাসী তৈরি করে। দেশের তথা রাজ্যের মাদ্রাসা শিক্ষার একটা সুমহান ঐতিহ্য আছে। মনে রাখা দরকার রাজা রামমোহন রায়ের প্রাথমিক শিক্ষা সম্পন্ন হয়েছিল মাদ্রাসায়। মুন্সি প্রেম চাঁদ মাদ্রাসায় পড়েছিলেন। খালিদ আহমেদ নিজামি মাদ্রাসার ছাত্র। আমাদের রাজ্যে জ্ঞান চর্চার লক্ষ্যে ১৭৮০ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় কলকাতা মাদ্রাসা। বামফ্রট সরকারের সময়ে মাদ্রাসা শিক্ষার আধুনিকীকরণ করা হয়। সারা দেশের মডেলে পরিণত হয়। মাদ্রাসায় কেবল সংখ্যালঘু নয় ,অনেক অসংখ্যালঘু ছাত্র-ছাত্রী পড়ে। বর্তমান রাজ্যের বিজেপি সরকার স্কুল সহ সমস্ত মাদ্রাসায় পুরো ‘বন্দেমাতরম’ গাইতে হবে বলে নির্দেশিকা পাঠিয়েছে। এ প্রসঙ্গে বলা যায় দুই স্তবক বাদে বন্দেমাতরামের পুরোটা গাওয়া নিয়ে রবীন্দ্রনাথ আপত্তি জানিয়ে ছিলেন। ১৯৩৭ সালে প্রশ্ন তুলেছেন হিন্দু দেব দেবী স্তব, তাঁদের প্রতিমা গড়ি মন্দিরে মন্দিরে কি মুসলমানদের গলাধঃকরণ করাতেই হবে? বিজেপি সরকার সম্প্রদায়িক অবস্থান হতেই এটা করতে চাইছে। সংবিধানের ৩০ নম্বর ধারায় সংখ্যালঘু প্রতিষ্ঠানের অধিকারকে অস্বীকার করছে। প্রার্থনা সঙ্গীত হিসাবে গাইতে হবে জাতীয় সঙ্গীত, বিদ্যালয় সঙ্গীত এবং তারপর পুরো বন্দেমাতরাম। এত সময় কোথায় ?শিক্ষক সংগঠনগুলি এবং বিভিন্ন বিদ্যালয়গুলিও এই প্রশ্নে আপত্তি জানিয়েছে।
অনুপ্রবেশ, জনবিন্যাস এবং থ্রিডি ফর্মুলা:
নির্বাচনী প্রচারে প্রধানমন্ত্রী স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী পশ্চিমবঙ্গে অনুপ্রবেশ নিয়ে গলা ফাটিয়ে বলেছেন রাজ্যের ৬০০ কিলোমিটার সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশী মুসলমান ও রোহিঙ্গারা ঢুকে পড়ে রাজ্যের জনবিন্যাস পালটে দিচ্ছে। সীমান্তবর্তী ৭ টি জেলার জনসংখ্যা নাকি ৭০ শতাংশ হয়ে গেছে। রাজ্যের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী এখন বলে বেড়াচ্ছেন অনুপ্রবেশ বন্ধে সীমান্তে কাঁটাতারের ব্যবস্থা করা হবে এবং সেই সঙ্গে সঙ্গে থ্রিডি ফর্মুলা অর্থাৎ ডিটেক্ট, ডিলিট এবং ডিপোর্ট (চিহ্নিত করো ,বাতিল করো, বিতাড়িত করো) এই ফর্মুলা লাগু করা হবে। এসআইআর-কে হাতিয়ার করা হচ্ছে। এটা বলতে কোনও অসুবিধা নাই যে এসআইআর করা হয়েছে বিজেপি-কে ক্ষমতায় বসানোর লক্ষ্যেই। সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্ট এ নিয়ে যে রায় দিয়েছে তাতে ন্যায় বিচার হয়নি। এটা জলের মতো পরিষ্কার কিভাবে বিজেপি’র অনুকূলে এসআইআর-কে ব্যবহার করা হয়েছে। নির্বাচনের ফলাফলে তার প্রমাণ মিলেছে। নির্বাচন কমিশনের নাগরিকত্ব নির্ধারণের ক্ষমতা নেই। অথচ মুখ্যমন্ত্রী বলছেন সব বাতিলদের হোল্ডিং ক্যাম্পে রেখে তাড়ানো হবে। কে ঠিক করল বাতিলরা সব অবৈধ নাগরিক? জনবিন্যাস রাজ্যের কতটা পালটেছে ? তথ্য কি বলে? ২০২১ সালে জনগণনা হয়নি এখন হবে। ২০১১ জনগণনাতে দেখা যাচ্ছে সীমান্ত জেলাগুলিতে সংখ্যালঘু জনসংখ্যার হার মুর্শিদাবাদে ৬৭ শতাংশ , মালদায় ৫১ শতাংশ, উত্তর দিনাজপুরে ৫০ শতাংশের কাছাকাছি, দক্ষিণ ২৪ পনাণায় ৩৫ শতাংশ। নদীয়া উত্তর ২৪ পরগনা ,কোচবিহার জেলায় ৩০% নিচে। তাহলে সীমান্ত জেলাগুলিতে সংখ্যালঘু জনগণ ৭০% হলো কিভাবে? কেন বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে? ১৯৮১ -১৯৯১ দশকে দেশের মুসলিম জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ছিল ৩২.৯ শতাংশ। ২০০১ -১১ দশকে তা কমে হয়েছে ২৪.৬ শতাংশ অর্থাৎ ৮ শতাংশ কমেছে। এই সময়কালে হিন্দু জনসংখ্যার হার ২২.৭% হতে কমে হয়েছে ১৬.৮% অর্থাৎ ৬ শতাংশ কমেছে। ২০১১ জনগণনা অনুযায়ী ভারতে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ১৭.৭%। পশ্চিমবঙ্গে হার ১৩.৯৫ শতাংশ। তাহলে ব্যাপক অনুপ্রবেশ হলে এটা কি বাড়ত না? তথ্যে দেখা যাচ্ছে আমাদের রাজ্যে মুসলিম জনসংখ্যার বৃদ্ধির হার জাতীয় গড় ২৪.৬ হতে আরও কম ২১.৮%। অনুপ্রবেশ হলে এটাতো বাড়ার কথা। ২০২১ সালের পঞ্চম জাতীয় পরিবার স্বাস্থ্য সমীক্ষা তথ্য বলছে সন্তান সম্ভাবনার হার (টোটাল ফাটিলিটি রেট) আমাদের রাজ্যে কমেছে। সবচেয়ে বেশি কমেছে মুসলমানদের ৪৬.৫% ,হিন্দুদের ৪১.২ শতাংশ । মুসলমানরা বেশি সন্তানের জন্ম দিয়ে জনবিন্যাস পালটে দিচ্ছে, এটা প্রমাণিত হয় না ।বাস্তব ঘটনা হলো বাংলাদেশে মৌলবাদীদের অতি সক্রিয়তার জন্য বাংলাদেশ থেকে কিছু কিছু হিন্দু জনগোষ্ঠীর মানুষ আমাদের রাজ্যে আসতে পারেন। কিন্তু গুটি কয়েক দিনমজুর ছাড়া ভালো সংখ্যায় মুসলমানরা কেন আসতে যাবেন যখন ভারতের অর্থনীতি দারুণ উজ্জ্বল এমন নয় এবং যেখানে একটি হিন্দুত্ববাদী দল দেশের ক্ষমতায় আছে। মূল কথা হলো সঙ্গ পরিবার বহুত্ববাদী ভারত ভেঙে হিন্দুত্ববাদী ভারত করতে চাইছে ।ডবল ইঞ্জিন সরকার গুলি সেই লক্ষ্যে কাজ করছে। পশ্চিমবঙ্গ একই পদাঙ্ক অনুসরণ করতে শুরু করেছে।
Comments :0