মাসির বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার নাম করে পাচার। সীমান্ত থেকে উদ্ধার বাংলাদেশি কিশোরী। সীমান্তের নিরাপত্তা নিয়ে ফের প্রশ্ন উঠতে শুরু করলো। আন্তর্জাতিক মানব পাচার চক্রের হাত থেকে উদ্ধার হলো বাংলাদেশের ১৩ বছরের এক কিশোরী। বসিরহাটের স্বরূপনগর থানার ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী বালতি নিত্যানন্দকাটি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার নিত্যানন্দকাটি গ্রামে এই ঘটনাকে ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সীমান্ত পেরিয়ে কীভাবে ওই নাবালিকাকে ভারতে আনা হলো, তা নিয়ে উঠেছে একাধিক প্রশ্ন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার বিকেল থেকে নিত্যানন্দকাটি গ্রামের বাসিন্দা নজরুল সরদারের বাড়িতে ওই কিশোরীকে রাখা হয়েছিল। অভিযোগ, তারালি সীমান্ত এলাকার সত্যজিৎ বর্মন ওরফে জীবন এবং বাদুড়িয়া থানা এলাকার বাসিন্দা কাইয়ুম নামে দুই যুবক তাকে সেখানে নিয়ে আসে। স্থানীয়দের সন্দেহ হওয়ায় বিষয়টি দ্রুত প্রশাসনের নজরে আসে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় ১৪৩নং ব্যাটালিয়নের বিএসএফের অ্যান্টি হিউম্যান ট্র্যাফিকিং ইউনিটের ইনস্পেক্টর নির্মল ঘোষ, আমুদিয়া বিএওপির কোম্পানি কমান্ডার জ্যোতি সিং-সহ বিএসএফের মহিলা জওয়ানরা। তাদের সঙ্গে ছিলেন স্বরূপনগর থানার পুলিশও। পরে বিএসএফ ওই কিশোরীকে উদ্ধার করে নিজেদের হেফাজতে নেয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ওই কিশোরী জানায়, বাংলাদেশের ঢাকায় তাকে মাসির বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে কয়েকজন ব্যক্তি গাড়িতে তোলে। পথে তাকে পানীয় খাওয়ানোর পর সে অচেতন হয়ে পড়ে। জ্ঞান ফিরলে নিজেকে একটি নদীর ধারে দেখতে পায়। এরপর তাকে বলা হয়, নদী পার হলেই মাসির বাড়ি। পরে সীমান্ত পেরিয়ে তাকে নিত্যানন্দকাটির একটি বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। সকাল থেকে বাড়ির মালিক ও তার স্ত্রী তাকে একা রেখে সেখান থেকে চলে যান বলেও জানিয়েছে ওই কিশোরী। স্থানীয়দের দাবি, সীমান্তে কড়া নজরদারি থাকা সত্ত্বেও কীভাবে মানব পাচারকারীরা একটি নাবালিকাকে বাংলাদেশ থেকে ভারতে নিয়ে এলো, তার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হওয়া উচিত। একই সঙ্গে যাদের নাম এই ঘটনায় উঠে এসেছে, তাদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন এলাকার বাসিন্দারা। পুলিশ ও বিএসএফ গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। পাশাপাশি উদ্ধার হওয়া কিশোরীকে আইনানুগ প্রক্রিয়ায় পরবর্তী পদক্ষেপের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তরের ব্যবস্থা করা হয়।
Human Trafficking
স্বরূপনগরে উদ্ধার বাংলাদেশের কিশোরী
×
Comments :0