লোকচক্ষুর আড়ালে প্রতিবেশী দাদুর লালসার শিকার ১৫ বছরের এক কিশোরী। দিনের পর দিন পাশবিক অত্যাচারের জেরে বর্তমানে অন্তঃসত্ত্বা ওই নাবালিকা। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে ধূপগুড়ি পৌরসভা এলাকায়। অভিযুক্ত ব্যক্তির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সরব হয়েছে স্থানীয় মানুষ। ইতিমধ্যেই নির্যাতিতার মায়ের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে ধূপগুড়ি থানার পুলিশ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত ব্যক্তি সম্পর্কে ওই কিশোরীর প্রতিবেশী দাদু। অভিযোগ, দীর্ঘ দিন ধরেই নানা প্রলোভন দেখিয়ে নাবালিকাকে নিজের বাড়িতে ডেকে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করত ওই ব্যক্তি। কিশোরী চিৎকার করতে চাইলে মুখ চেপে ধরে তাকে ভয় দেখানো হতো। এমনকি জানাজানি হলে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। পরিবারের লোক বাড়িতে না থাকলেই সুযোগ বুঝে কিশোরীর ওপর পাশবিক নির্যাতন চালাত ওই প্রৌঢ়।
ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে অভিযুক্ত ব্যক্তি যথেষ্ট তৎপরতা চালায় বলেও অভিযোগ উঠেছে। জানা গেছে, স্কুল থেকে ওই কিশোরীকে নিয়ে কোচবিহারের এক ক্লিনিকে গিয়ে আল্ট্রাসনোগ্রাফিও করায় অভিযুক্ত। ১২ মে কিশোরীর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে মায়ের সন্দেহ হয়। এরপর চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়া হলে জানা যায় ওই নাবালিকা অন্তঃসত্ত্বা।
ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই এলাকায় শোরগোল পড়ে যায়। নির্যাতিতার পরিবার অভিযুক্তের বাড়িতে চড়াও হলে সে নিজের অপরাধ কবুল করে বলে জানা গেছে। তবে আইনি ঝামেলা এড়াতে টাকা দিয়ে পুরো বিষয়টি মিটমাট করার প্রস্তাব দেয় ওই অভিযুক্ত। কিন্তু নির্যাতিতার মা সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে ন্যায়ের দাবিতে পুলিশের দ্বারস্থ হন।
নাবালিকার মায়ের বয়ানের ভিত্তিতে ধূপগুড়ি থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, পকসো আইনের নির্দিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করা হতে পারে। অভিযুক্তের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ এবং নাবালিকার শারীরিক পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
Minor Girl Sexually Abused
প্রতিবেশী ‘দাদুর’ লালসার শিকার, অন্তঃসত্ত্বা কিশোরী
×
Comments :0