২০৪৭ সালের মধ্যে ভারতকে ‘উন্নত দেশ’ করার স্বপ্নের কথা ফের বললেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বুধবার ‘বিকশিত ভারত সংকল্প সভা’-য় নিজের সরকারের শীর্ষপদে ২৫ বছর পূর্তির প্রসঙ্গে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তার নতুন স্লোগান ‘উই উইল ডু ইট’। দূরদর্শী নীতি ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে এই লক্ষ্য অর্জন সম্ভব বলে দাবি করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে দেশের ১৪০ কোটির বেশি মানুষের সম্মিলিত শক্তির কথা উঠে এলেও, সেই উন্নয়নের সুফল সাধারণ মানুষের জীবনে কতটা পৌঁছেছে, সেই প্রশ্নও স্বাভাবিকভাবেই সামনে আসছে। কৃষকের জল, বিদ্যুৎ, কর্মসংস্থান এবং মানুষের দৈনন্দিন জীবনের নানা সংকটের প্রসঙ্গ তুলে মোদী বলেন, সমস্যাগুলি কোনও একটি জাতি বা সম্প্রদায়ের নয় সমাধানও হতে হবে সকলের জন্য।
তবে তার এই বক্তব্যের মধ্যেই ভোটকেন্দ্রিক রাজনীতির বিরুদ্ধে মন্তব্যকে বিশেষ গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী। তার প্রশ্ন, কৃষকের জমিতে জল না থাকলে তা কি শুধু একটি জাতির সমস্যা? বিদ্যুৎ না থাকলে অন্ধকার কি কেবল একটি সম্প্রদায়ের ঘরে নামে? মোদীর বক্তব্য, সমস্যা যখন সকলের, তখন সমাধানও সকলের জন্য হওয়া উচিত।
২০৪৭-এর লক্ষ্য হিসেবে একাধিক উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। বিশ্বের প্রথম তিন অর্থনীতির মধ্যে ভারতকে নিয়ে যাওয়া, আত্মনির্ভরতা অর্জন, বিশ্ব উৎপাদন ব্যবস্থার অন্যতম কেন্দ্র হয়ে ওঠা, অলিম্পিক আয়োজন এবং মহাকাশ ক্ষেত্রে আরও বড় সাফল্যের কথা বলেন তিনি। প্রতিটি ক্ষেত্রেই তার স্লোগান ছিল ‘উই উইল ডু ইট’।
কিন্তু অর্থনৈতিক উন্নয়নের এই বড় বড় লক্ষ্যের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের আয়, কাজ ও জীবনযাত্রার বাস্তব পরিস্থিতিই শেষ পর্যন্ত উন্নয়নের মাপকাঠি এমন প্রশ্নও রয়েছে। শুধু জাতীয় অর্থনীতির আকার বৃদ্ধি নয়, সেই বৃদ্ধির সুফল কতটা শ্রমজীবী মানুষ, কৃষক, খেতমজুর ও নিম্ন আয়ের মানুষের হাতে পৌঁছচ্ছে, তা নিয়েও বিতর্ক রয়েছে। এই সরকারের আমলে টাকার দাম কমেছে। বেকারত্বের হার সব থেকে বেশি। মূল্যবৃদ্ধি আকাশ ছোঁয়া। কৃষক ফসলের দাম পায় না।
এদিনের বক্তব্যে ভারতীয় পাইলট ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছরের ঘটনাও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। ইজরায়েলগামী একটি উড়ানকে বিপথে নিয়ে গিয়ে দুর্ঘটনা ঘটানোর চেষ্টা করা হলে, ছুরিকাঘাতের পরও তিনি বিমানটিকে রক্ষা করেন বলে উল্লেখ করেন মোদি। এই ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, আজ বিশ্ব ভারতের ওই পাইলটকে নিয়ে আলোচনা করছে। ভবিষ্যতে এমন দিন আসবে, যখন বিশ্বের মানুষ ‘মেড ইন ইন্ডিয়া’ বিমানের কথাও বলবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভারতের সামনে চ্যালেঞ্জ রয়েছে, কিন্তু দেশের ১৪০ কোটি মানুষের কাছে রয়েছে ১৪০ কোটি সমাধান। তার বক্তব্যে জাতীয় আত্মনির্ভরতার পাশাপাশি দেশীয় উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যের কথাও উঠে আসে।
২০০১ সালের ৭ অক্টোবর গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর থেকে টানা সরকারের শীর্ষপদে রয়েছেন নরেন্দ্র মোদী। গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তিন দফা দায়িত্ব পালনের পর তিনটি লোকসভা নির্বাচনে জয়ী হয়ে প্রধানমন্ত্রী হন তিনি।
নিজের রাজনৈতিক যাত্রার ২৫ বছরের প্রসঙ্গে মোদি বলেন, ২০০১ সালে গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার সময় এত দীর্ঘ সময় সরকারের শীর্ষে থাকার কথা তিনি ভাবেননি। দেশের মানুষের আস্থার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি বলেন, তার কাছে মানুষই ঈশ্বর এবং বিজেপির পরিশ্রমী কর্মীরাই তার শক্তি।
বিজেপি, এনডিএ-র সহকর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতাও জানান প্রধানমন্ত্রী।
Narendra Modi
‘উই উইল ডু ইট’-এর ডাক মোদির, ২০৪৭-এর উন্নত ভারতের স্বপ্নে প্রশ্ন বাস্তবতার
×
Comments :0