Narendra Modi

ইজরায়েল আমেরিকার সমালোচনা না করেই ‘শান্তির বার্তা’ মোদীর

জাতীয় আন্তর্জাতিক

বিশ্বজুড়ে বাড়তে থাকা যুদ্ধের মধ্যে শান্তির সপক্ষে সওয়াল করলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বৃহস্পতিবার ফিনল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার স্টাব-এর সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পর প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়েছেন, কোন সমস্যার সমাধানই সামরিক সংঘাত বা যুদ্ধের মাধ্যমে সম্ভব নয়।
প্রেসিডেন্ট স্টাবের সঙ্গে আলোচনার পর যৌথ সাংবাদিক সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী মোদী বলেন, ‘ভারত ও ফিনল্যান্ড উভয় রাষ্ট্রই আইনের শাসন, আলোচনা এবং কূটনীতিতে বিশ্বাসী। ইউক্রেন হোক বা পশ্চিম এশিয়া (ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ), ভারত চায় প্রতিটি সংঘাতেরই দ্রুত অবসান ঘটুক। শান্তি প্রতিষ্ঠার যে কোন প্রচেষ্টায় ভারত সব সময় সমর্থন দিয়ে যাবে।’
উল্লেখ্য প্রধানমন্ত্রী কয়েকদিন আগেই ইজরায়েল সফরে যান সেখানে দাঁড়িয়ে ইরানের সাথে ইজরায়েলের যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে একটাও ‘শান্তির বার্তা’ শোনা যায়নি তার মুখে। উল্টে ইজরায়েলের সাথে সুসম্পর্কের কথা বলেছেন তিনি। প্যালেস্তাইন জুড়ে যখন ইজরায়েল লাগাতার হত্যা চালিয়েছে তখন জায়নবাদী আগ্রাসনের বিরুদ্ধে কোন কঠোর পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি ভারত সরকারকে। অতীতে ভারত বার বার সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসনের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু মোদী সরকারের আমলে সেই অবস্থান থেকে সড়ে এসেছে ভারত।
বৃহস্পতিবারও দুই বন্ধু নেতানিয়াহু এবং বন্ধু ট্রাম্পের সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসনের কোন সমালোচনা করার সাহস দেখায়নি ভারতের প্রধানমন্ত্রী। 
এদিন ভারত এবং ফিনল্যান্ডের মধ্যে কয়ৃকটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং পরবর্তী প্রজন্মের টেলিকম ব্যবস্থায় দুই দেশ একসঙ্গে কাজ করবে বলে চুক্তিতে বলা হয়েছে। ভবিষ্যতের কম্পিউটার প্রযুক্তিতে ফিনল্যান্ডের দক্ষতা কাজে লাগাবে ভারত বলে দাবি করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেছেন যে, ভারত এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে প্রস্তাবিত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (FTA) ভারত ও ফিনল্যান্ডের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগকে আরও মজবুত করবে। এটি কেবল ব্যবসাই নয়, বরং প্রযুক্তিগত আদান-প্রদানকেও এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।
ফিনল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট বুধবার থেকে তার চার দিনের ভারত সফর শুরু করেছেন। তার এই সফরের মূল লক্ষ্য ছিল বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি খাতে দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন রূপ দেওয়া। সামরিক উত্তেজনার এই আবহে এই সফরকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।

Comments :0

Login to leave a comment