Monsoon Session 2026

২০ জুলাই থেকে শুরু হচ্ছে বাদল অধিবেশন চলবে ১৩ আগস্ট পর্যন্ত

জাতীয়

এপ্রিলে সংসদের শেষ অধিবেশনের পর গত কয়েক মাসে দেশের রাজনীতিতে একাধিক বড় পরিবর্তন হয়েছে। ফলে আগামী ২০ জুলাই থেকে শুরু হতে চলা সংসদের বাদল অধিবেশন একেবারেই নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের মধ্যে শুরু হতে চলেছে। দলবদল, জোটের পুনর্বিন্যাস, আসনবিন্যাসে পরিবর্তন এবং সংখ্যার অঙ্কে বড় রদবদল সব মিলিয়ে অধিবেশন যে উত্তপ্ত হতে চলেছে, তা স্পষ্ট।
প্রস্তাবিত সূচি অনুযায়ী, প্রায় চার সপ্তাহের এই অধিবেশনে মোট ১৯টি অধিবেশন হবে এবং তা চলবে ১৩ আগস্ট পর্যন্ত।
সবচেয়ে বড় পরিবর্তন এসেছে লোকসভার সংখ্যার সমীকরণে। তৃণমূল কংগ্রেসে ভাঙন, উদ্ধব থ্যাকারের শিবসেনার একাংশের দলত্যাগ এবং ডিএমকে-কংগ্রেসের রাজনৈতিক বিচ্ছেদ লোকসভার শক্তির ভারসাম্য বদলে দিয়েছে। এর জেরে শাসক এনডিএর অবস্থান আরও শক্তিশালী হয়েছে, অন্যদিকে বিরোধী শিবিরের শক্তি কিছুটা কমেছে।
লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা অধিবেশন শুরুর আগেই তৃণমূলের ২০ জন বিদ্রোহী সাংসদের একটি নতুন দলে একীভূত হওয়ার আবেদন এবং উদ্ধব শিবসেনার ছয় সাংসদের একনাথ শিন্ডের শিবসেনায় যোগদানের বিষয়টি নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।
অন্যদিকে, তামিলনাড়ুতে কংগ্রেসের নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের জেরে ডিএমকে ও কংগ্রেসের দীর্ঘদিনের জোটেও ভাঙন দেখা দিয়েছে। ডিএমকে ইতিমধ্যেই লোকসভায় কংগ্রেসের আসনের পাশ থেকে নিজেদের সাংসদদের জন্য পৃথক আসন বরাদ্দের আবেদন জানিয়েছে।
এই পরিবর্তনের ফলে লোকসভায় এনডিএর কার্যকর শক্তি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে। বর্তমানে ৫৪৩ সদস্যের লোকসভায় তিনটি আসন শূন্য থাকায় কার্যকর সদস্য সংখ্যা ৫৪০। দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজন ৩৬০ জন সাংসদের সমর্থন। বর্তমানে এনডিএর কাছে ২৯৩ জন সাংসদের সমর্থন রয়েছে। বিদ্রোহী তৃণমূল ও শিবসেনার সাংসদদের সমর্থন মিললে সেই সংখ্যা বেড়ে ৩১৯-এ পৌঁছতে পারে। ডিএমকের ২২ জন সাংসদ ইস্যুভিত্তিক সমর্থন দিলে তা ৩৪১-এ দাঁড়াবে। অতীতে সংবিধান সংশোধনী বিলে অতিরিক্ত কয়েকজন সাংসদের সমর্থনের নজির ধরলে এনডিএর সম্ভাব্য সমর্থন ৩৪৮ পর্যন্ত পৌঁছতে পারে, যা দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার থেকে মাত্র ১২ কম।
নতুন এই রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিল পাস করাতে চাইছে কেন্দ্রীয় সরকার। সরকারের অগ্রাধিকারের তালিকায় রয়েছে ১৩১ তম সংবিধান সংশোধনী বিল, যেখানে মহিলাদের জন্য সংরক্ষণ ও লোকসভা এবং বিধানসভা কেন্দ্র পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত প্রস্তাব রয়েছে। সূত্রের খবর, এই বিলে লোকসভা ও বিধানসভার আসন ৫০ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাবও যুক্ত হতে পারে।
এছাড়া ১৩০ তম সংবিধান সংশোধনী বিলও আনা হতে পারে। এই বিলে গুরুতর অপরাধে কোনও মুখ্যমন্ত্রী, মন্ত্রী বা প্রধানমন্ত্রী টানা ৩০ দিন বিচারবিভাগীয় হেপাজতে থাকলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে পদচ্যুত করার প্রস্তাব রয়েছে। তবে যৌথ সংসদীয় কমিটি (জেপিসি) এই বিলে কিছু সংশোধনের সুপারিশ করতে পারে, যাতে আইনের অপব্যবহার রোধে স্পষ্ট নির্দেশিকা রাখা হয়।
এছাড়াও ‘এক দেশ, এক ভোট’ বিল, বিদেশি অনুদান নিয়ন্ত্রণ (এফসিআরএ) সংশোধনী বিল, বিকশিত ভারত শিক্ষা অধিষ্ঠান বিল, অ্যান্টি-ডোপিং বিল, সুপ্রিম কোর্টে বিচারপতির সংখ্যা বৃদ্ধি সংক্রান্ত বিল, কর্পোরেট আইন এবং সিকিউরিটিজ মার্কেট সংক্রান্ত একাধিক বিলও এই অধিবেশনে আনা হতে পারে।
অন্যদিকে, সংখ্যায় কিছুটা পিছিয়ে পড়লেও বিরোধীরা সরকারকে একাধিক ইস্যুতে চাপে রাখার প্রস্তুতি নিচ্ছে। নিট প্রশ্নপত্র ফাঁস, অযোধ্যার রামমন্দিরের অনুদান আত্মসাতের অভিযোগ, পেট্রোল-ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধি, মূল্যবৃদ্ধি, বেকারত্ব এবং বিভিন্ন আঞ্চলিক দলে ভাঙন ও দলবদলে কেন্দ্রের ভূমিকা নিয়ে সরকারকে আক্রমণ শানাতে পারে বিরোধী শিবির।
নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ, গুরুত্বপূর্ণ বিল এবং বিরোধীদের তীব্র আক্রমণ সব মিলিয়ে এবারের বাদল অধিবেশন যে সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও উত্তপ্ত অধিবেশন হতে চলেছে, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে।

Comments :0

Login to leave a comment