Monsoon Session 2026

সর্বদল বৈঠকে বিরোধীদের ওয়াকআউট, বিদ্রোহী তৃণমূল গোষ্ঠীকে আমন্ত্রণ ঘিরে তীব্র বিতর্ক

জাতীয়

সংসদের বাদল অধিবেশন শুরুর আগে কেন্দ্রীয় সরকারের ডাকা সর্বদল বৈঠকে রবিবার তীব্র রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হল। বিদ্রোহী তৃণমূল সাংসদদের নিয়ে গঠিত ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অব ইন্ডিয়া (এনসিপিআই)-কে বৈঠকে আমন্ত্রণ জানানোর প্রতিবাদে একযোগে ওয়াকআউট করল বিরোধী শিবির।
কংগ্রেস নেতা তথা সাংসদ জয়রাম রমেশ জানান, কংগ্রেস, সমাজবাদী পার্টি, দ্রাবিড় মুন্নেত্র কাঝগম (ডিএমকে), আম আদমি পার্টি (আপ), ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চা (জেএমএম), ন্যাশনাল কনফারেন্স, বাম দল এবং শিবসেনা (উদ্ধব থ্যাকারে গোষ্ঠী)-সহ সমস্ত বিরোধী দলই প্রতিবাদস্বরূপ কয়েক মিনিটের জন্য বৈঠক থেকে বেরিয়ে যায়। পরে তারা অবশ্য ফিরে আসেন। বিরোধীরা জানান এই ওয়াক আউট তাদের প্রতীকী প্রতিবাদ।
সিপিআই(এম)-এর রাজ্যসভার সাংসদ জন ব্রিটাসের এদিন বলেন, ‘তৃণমূলের বিভাজন এখনও স্পিকারের অনুমোদন পায়নি। তা সত্ত্বেও বিদ্রোহী গোষ্ঠীকে সর্বদল বৈঠকে ডেকে এই বৈঠকের মর্যাদা ও বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষুণ্ণ করা হয়েছে।’ উল্লেখ্য যদিও কাকলিদের দাবি তাদের অনুমোদন দিয়েছেন লোকসভাব অধ্যক্ষ ওম বিড়লা।
জয়রাম রমেশের অভিযোগ, ‘লোকসভার স্পিকারের কাছে বিষয়টি এখনও বিচারাধীন থাকা সত্ত্বেও মোদি সরকার ২০ জন তথাকথিত বিদ্রোহী তৃণমূল সাংসদের আশ্রয়স্থল হিসেবে পরিচিত এনসিপিআই-কে বৈঠকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে। এর প্রতিবাদেই বিরোধীরা ওয়াকআউট করেন।’
বৈঠকের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিনিধি মহুয়া মৈত্র বলেন, ‘এনসিপিআই একটি স্বীকৃত রাজনৈতিক দল নয়। লোকসভার টেবিল অফিসের নথিতে সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ সংখ্যা এখনও ২৮। বিদ্রোহী ২০ জন সাংসদের দলবদল বা একীভূত হওয়ার প্রস্তাব এখনও স্পিকার অনুমোদন করেননি। তাদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া অযোগ্যতা সংক্রান্ত ২০টি আবেদনও এখনও বিচারাধীন।’
মহুয়া আরও বলেন, ‘সংবিধানের ৯১তম সংশোধনের পরে আলাদা ব্লক হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার সুযোগ নেই। তাহলে সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কোন ভিত্তিতে ওই সাংসদদের সর্বদল বৈঠকে আমন্ত্রণ জানালেন? এর তীব্র প্রতিবাদ জানাতেই বিরোধীরা ওয়াকআউট করেছে।’
প্রসঙ্গত, গত জুন মাসে তৃণমূল কংগ্রেসের একদল সাংসদ লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার কাছে চিঠি দিয়ে জানিয়েছিলেন যে তারা এনসিপিআই-তে যোগ দিয়েছেন এবং লোকসভায় পৃথক ব্লক হিসেবে বসতে চান। তবে সেই আবেদন নিয়ে স্পিকারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও ঘোষণা করা হয়নি। এই পরিস্থিতিতেই বিদ্রোহী গোষ্ঠীকে সর্বদল বৈঠকে আমন্ত্রণ ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক সংঘাত তীব্র হয়েছে।

Comments :0

Login to leave a comment