TMC

কমিশনের ফুল বেঞ্চের কাছে ঋতব্রত-তৃণমূল

রাজ্য

আসল তৃণমূল তারাই বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চের কাছে এমনই দাবি জানিয়ে এলেন ঋতব্রত ব্যানার্জিরা। এদিন দিল্লিতে কমিশনের ফুল বেঞ্চের সাথে দীর্ঘ সময় বৈঠক করেন তারা। নিজেদের আসল তৃণমূল দাবি করে কমিশনের কাছে গিয়েছে ঋতব্রতরা, কমিশন যদি তাদের আসল তৃণমূল বলে স্বীকৃতি দেয় তবে দলের প্রতীক এবং তহবিল তাদের দখলে যাবে। 
বৈঠকের পর কমিশনের দপ্তর থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ঋতব্রত ব্যানার্জি বলেন, ‘গত ২২ জুন কলকাতায় আমাদের তৃণমূল কংগ্রেসের নতুন জাতীয় কর্মসমিতি গঠন করা হয়েছে। ২৩ জুন আমরা কমিশনের কাছে সেই সব তথ্য পাঠিয়ে দেওয়া হয়। অরূপ রায় আমাদের চেয়ারপার্সেন সেই সব তথ্য কমিশনকে দেওয়া হয়েছে।’
তিনি জানান কমিশনের ফুল বেঞ্চের সাথে দেখা করার জন্য তাদের পক্ষ থেকে আবেদন জানানো হয়। কমিশনে তাদের সময় দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ জানান ঋতব্রত।
তিনি বলেন, ফুল বেঞ্চ আমাদের সব কথা শুনেছে। আশা করবো কমিশন এই বিষয় দ্রুত সিদ্ধান্ত নেবেন। আমাদের কাছে দুই তৃতীয়াংশের বেশি বিধায়ক এবং জনপ্রতিনিধিদের সমর্থন রয়েছে।
ঋতব্রত বলেন, ‘তৃণমূল কংগ্রেস ব্যাক্তিগত এবং পারিবারিক সম্পত্তিতে পরিনত হয়েছিল। কর্পোরেট সংস্থা দল চালাচ্ছিল। আমাদের লড়াই এই ব্যাক্তি কেন্দ্রিকতার বিরুদ্ধে। বাংলার মানুষ এই পরিবারবাদকে সমর্থন করেন না। যারা গরু চুরি, কয়লা চুরি করেছে তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।’
বিধানসভায় বিধায়কদের সই জাল নিয়ে তৃণমূলের ভাঙন স্পষ্ট হয়। কালীঘাটের পক্ষ থেকে বালিগজ্ঞের তৃণমূল বিধায়ক শোভনদেব চ্যাটার্জির নাম বিরোধী দলনেতা হিসাবে পাঠানো হয় বিধানসভার সচিবের কাছে। অভিষেকের সই করা সেই চিঠিকে কেন্দ্র করে তৈরি হয় বিতর্ক। বিধানসভার পক্ষ থেকে বলা হয় যেই চিঠি তৃণমূলের পক্ষ থেকে পাঠানো হয়েছে তাতে পদ্ধতিগত ত্রুটি রয়েছে। পরবর্তী সময় সামনে আসে বিধায়কদের সই জালের প্রসঙ্গ।
ঋতব্রত, সন্দীপন সাহা বিধানসভায় গিয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে জানিয়ে আসেন যে ওই চিঠিতে বিধায়কদের সই জাল করা হয়েছে। সেদিনের বৈঠকে উপস্থিত না থাকা বহু বিধায়কের সই জাল করা হয়েছে। থানায় দায়ের হয় অভিযোগ তদন্ত শুরু করেছে সিআইডি। এই সই জাল কান্ডের পর ঋতব্রত ব্যানার্জি এবং সন্দীপন সাহাকে দল থেকে বহিষ্কার করে তৃণমূল। 
তারপরই ৫৮ জন বিধায়ক নিয়ে আলাদা পরিষদীয় দল গঠন হয় বিধানসভায় ভেঙে যায় তৃণমূলের পরিষদীয় দল। কালীঘাটের সিদ্ধান্তকে মান্যতা না দিয়েই ঋতব্রত ব্যানার্জিকে বিরোধী দলনেতা হিসাবে মান্যতা দেন ওই ৫৮ জন বিধায়ক। আলাদত এবং বিধানসভার অধ্যক্ষ দুই পক্ষই ঋতব্রতকে বিরোধী দলনেতা হিসাবে স্বীকৃতি দেয়।

Comments :0

Login to leave a comment