USA nuclear weapon test

ইরানের সাথে যুদ্ধের মধ্যেই পরমানু অস্ত্র পরীক্ষা আমেরিকার

আন্তর্জাতিক

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান, ইসরায়েল এবং আমেরিকার মধ্যে ভয়াবহ রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ চলাকালীনই এক চাঞ্চল্যকর সামরিক পদক্ষেপ নিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। গত মঙ্গলবার, ৩ মার্চ, ক্যালিফোর্নিয়ার ভ্যানডেনবার্গ স্পেস ফোর্স বেস থেকে পরমাণু অস্ত্র বহনে সক্ষম মিনুটম্যান ৩ ইন্টারকন্টিনেন্টাল ব্যালিস্টিক মিসাইল-এর সফল পরীক্ষা চালিয়েছে মার্কিন বিমান বাহিনী। এই ক্ষেপণাস্ত্রটিকে বিশ্বজুড়ে ডুমসডে মিসাইল বা কেয়ামতের অস্ত্র বলে অভিহিত করা হয়।
মার্কিন এয়ার ফোর্স গ্লোবাল স্ট্রাইক কমান্ডের অধীনে পরিচালিত এই পরীক্ষায় ক্ষেপণাস্ত্রটি দুটি টেস্ট রি-এন্ট্রি ভেহিকল নিয়ে প্রশান্ত মহাসাগরের ৪,২০০ মাইল পথ পাড়ি দিয়ে মার্শাল দ্বীপপুঞ্জের কোয়াজালিন অ্যাটলে লক্ষ্যভেদ করে। মার্কিন বাহিনীর দাবি এটি একটি রুটিন পরীক্ষা যা অনেক আগে থেকেই নির্ধারিত ছিল। বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতি বা ইরান যুদ্ধের সাথে এর কোন সরাসরি সম্পর্ক নেই। ক্ষেপণাস্ত্রটির নির্ভুলতা এবং নির্ভরযোগ্যতা যাচাই করাই ছিল এই পরীক্ষার মূল লক্ষ্য।
মিনুটম্যান ৩ একটি অত্যন্ত শক্তিশালী মারণাস্ত্র। বিশষেজ্ঞদের মতে এই ক্ষেপনাস্ত্রটি মার্কিন ভূমি থেকে পৃথিবীর যে কোন প্রান্তে আঘাত হানতে সক্ষম। বর্তমানে এটি একটি শক্তিশালী ওয়ারহেড বহন করলেও, এটি একাধিক স্বাধীন ওয়ারহেড বহনে সক্ষম যা ভিন্ন ভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে একযোগে আঘাত হানতে পারে। দাবি একবার এই ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হলে এর তেজস্ক্রিয়তার প্রভাবে পৃথিবীর বিস্তীর্ণ এলাকা বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়বে।
গত শনিবার মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনীর যৌথ বিমান হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনেই নিহত হওয়ার পর থেকেই পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে গেছে। খামেনেইর মৃত্যুর প্রতিশোধ নিতে ইরান ইতিমধ্যেই ইসরায়েল এবং মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিতে কয়েকশো ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে।
অন্যদিকে যুদ্ধের আঁচ এবার এসে লেগেছে ভারতীয় উপমহাদেশের খুব কাছে। বুধবার শ্রীলঙ্কা উপকূলের আন্তর্জাতিক জলসীমায় মার্কিন নৌবাহিনীর একটি সাবমেরিন থেকে ছোঁড়া টর্পেডোর আঘাতে ডুবে যায় ইরানি যুদ্ধজাহাজ আইআরআইএস ডেনা। এই হামলায় অন্তত ৮৭ জন ইরান সেনা নিহত হয়েছেন। জানা গেছে, যুদ্ধজাহাজটি ভারতে একটি নৌ-মহড়ায় অংশ নিয়ে ফিরছিল এবং শ্রীলঙ্কার কাছে বন্ধুত্বপূর্ণ অবস্থানে ছিল।
মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ এই হামলাকে 'শান্ত মৃত্যু' বলে বর্ণনা করেছেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এই প্রথম কোন মার্কিন সাবমেরিন সরাসরি শত্রুপক্ষের যুদ্ধজাহাজ ডুবিয়ে দিল বলে দাবি করা হচ্ছে।
যদিও পেন্টাগন দাবি করছে যে মিনুটম্যান ৩ পরীক্ষাটি পূর্বনির্ধারিত, তবে প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ইরানকে কড়া বার্তা দিতেই আমেরিকা এই পরমাণু শক্তি প্রদর্শনের পথ বেছে নিয়েছে। খামেনেইর মৃত্যু এবং ভারত মহাসাগরে সরাসরি সংঘাতের পর বিশ্ব এখন তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছে কি না, সেই প্রশ্নই বড় হয়ে উঠছে।

Comments :0

Login to leave a comment