ISRO Privatisation Employee Associations

বেসরকারি হাতে যাবে কেন জাতীয় সম্পদ ইসরো, চিঠি ৯ কর্মী সংগঠনের

জাতীয়

দেশের মহাকাশ গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘ইসরো’-কে বেসরকারি হাতে তুলে দেওয়ার পরিকল্পনায় প্রশ্ন তুলে চিঠি দিল ৯টি কর্মী সংগঠন।
ইসরো-র চেয়ারম্যান ভি নারায়ণনকে পাঠানো চিঠিতে ৯ কর্মী সংগঠন জানতে চেয়েছে যে দেশের করদাতাদের অর্থে তৈরি এই প্রতিষ্ঠানের ভবিষ্যৎ কী হবে?
কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদী সরকার মহাকাশ গবেষণা ক্ষেত্রে বেসরকারি অংশগ্রহণকে সাফল্য হিসেবে চিহ্নিত করেছে। কর্মচারীদের বক্তব্য, বেসরকারি ক্ষেত্র মহাকাশ গবেষণা ক্ষেত্রে নিজেদের বিনিয়োগ দিয়ে নতুন সাফল্য পেতে পারে। কিন্তু ইসরো-র পরিকাঠামো, বৈজ্ঞানিক উৎকর্ষ, সরঞ্জাম হাতবদল করার পরিকল্পনা কেন নেওয়া হবে? বেসরকারি ক্ষেত্রের বিকাশের জন্য ইসরো-কে দুর্বল করা হবে কেন?
কেন্দ্রের পরিকল্পনা অনুযায়ী রকেট বা কৃত্রিম উপগ্রহ উৎক্ষেপণ যান নির্মাণে ইসরো আর ভূমিকা নেবে না। বরং বিভিন্ন প্রযুক্তি এবং পরিকাঠামো বেসরকারি সংস্থার হাতে তুলে দেওয়া হবে। এর মধ্যেই কেন্দ্র তৈরি করেছে ‘ইন স্পেস’ বা ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল স্পেস প্রোমোশন অ্যান্ড অথরাইজেশন সেন্টার। এই সংস্থার উদ্দেশ্য, ‘মহাকাশ গবেষণা ক্ষেত্রে বেসরকারি সংস্থার অংশগ্রহণের’ সুবিধা করে দেওয়া। 
‘ইসরো’ চেয়ারম্যানকে দেওয়া চিঠিতে এই ‘ইন স্পেস’ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন কর্মচারীরা। 
গত কয়েক বছরে দেশের মহাকাশ গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইসরো-কে ঘিরে বিভিন্ন সময়েই প্রশ্ন উঠেছে। কেন্দ্রের বিভিন্ন নীতিতে প্রশ্ন তুলেছেন বিশেষজ্ঞরা। সম্প্রতি ‘ইসরো’ থেকে বিজ্ঞানীদের চলে যাওয়া নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। 
চিঠিতে বলা হয়েছে, কোনও আলোচনা ছাড়াই ইসরো-কে দুর্বল করে কেবল গবেষণায় সীমাবদ্ধ রাখা এবং তার পরিকাঠামো এবং বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধানের তথ্য বেসরকারি হাতে তুলে দেওয়া কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। 
কর্মচারীরা বলেছেন, ‘ইসরো’ যে প্রযুক্তিগত সমৃদ্ধি অর্জন করেছে তা জাতীয় সম্পদ। তার হাতবদলের পরিকল্পনা স্বচ্ছ হওয়া জরুরি। দেশের সুরক্ষা, দেশের স্বার্থ এবং কর্মচারীদের ভবিষ্যতের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ হওয়া দরকার। কর্মচারীরা যাবতীয় পরিকল্পনা সম্পর্কে বিভিন্ন সংবাদপত্রে তথ্য পাচ্ছেন। অথচ নির্দিষ্ট কোনও বক্তব্য নেই। 
উল্লেখ্য, ‘ইন-স্পেস’ প্রধান পবন কুমার গোয়েঙ্কা সংবাদমাধ্যমের সামনেই বলেছেন যে ‘ইসরো’ আর রকেট উৎপাদন করবে না। বেসরকারি সংস্থা বা অন্য কোনও রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা তা করবে। কর্মচারীরা প্রশ্ন তুলেছেন যে এই বক্তব্য কি আচমকা নাকি নির্দিষ্ট সরকারি পরিকল্পনা রয়েছে। 
৯ সংগঠন চিঠিতে ইসরো চেয়ারম্যানকে মনে করিয়েছে যে প্রতিষ্ঠানের একের পর এক সাফল্যের পিছনে দশকের পর দশক কর্মী, বিজ্ঞানীদের মেহনত রয়েছে। চিঠিতে বলা হয়েছে, পিএসএলভি বা এলভিএমথ্রি’র মতো উৎক্ষেপণ যানের নকশা, নির্মাণ পরীক্ষার দায়িত্ব থেকে প্রতিষ্ঠানকে সরিয়ে নেওয়া হবে কিনা তা পরিষ্কার করে জানাতে হবে।

Comments :0

Login to leave a comment