অন্যকথা | যে প্রাণী কানের বাতাসে দেহ শীতল রাখে
তপন কুমার বৈরাগ্য
নতুনপাতা | বর্ষ ৪ | ২২ জুন ২০২৬
ভাবতে অবাক লাগে একটা গ্রীষ্ম প্রধান দেশে যেখানে প্রচন্ড গরম,সেখানে পৃথিবীর একমাত্র প্রাণী সব সময় কানের দ্বারা বাতাস করে দেহ শীতল রাখে।এই প্রাণীর পৃথিবীর সব প্রাণীর
চেয়ে দীর্ঘতম কান আছে।যে কানের দ্বারা বাতাস করলে ১০ফুট দূরত্ব পর্যন্ত বাতাস পৌঁছাতে পারে।এই কান এই প্রাণীর সব সময় দুলতে থাকে।কান দুলার সময় যেন মনে হয় সোঁ সোঁ করে
বাতাস বহে যাচ্ছে।এরাই পৃথিবীর সবচেয়ে বৃহত্তম স্থলচর প্রাণী। এদের নাম আফ্রিকান গুল্ম হাতি।এরা উচ্চতায় দশ থেকে বারো ফুট হয়। এক একটা হাতি ৬০০০কেজি থেকে ৭০০০কেজি পর্যন্ত
হয়।স্থলচর প্রাণীর আর কারো এতো বেশি ওজন হয় না। এদের কানদুটো ঠিক আফ্রিকার মানচিত্রের মতন।সত্যিই এদের কান নিখুঁত আফ্রিকার মানচিত্রের মতন।এদের লম্বা লম্বা
সাদা সাদা অন্যান্য হাতির চেয়ে সবচেয়ে বড় দুটো দাঁত আছে।এদের আছে দীর্ঘ ও মোটা শুঁড়।এদের শুঁড়ে আছে এক লক্ষ পঞ্চাশ হাজার পেশি।এদের সামনের পা দুটো বড়।তার
তুলনায় পিছনের পা দুটো ছোট।দশ বারো বছর পর এদের বাচ্চা হয়।তারপর চার থেকে আট বছর বিরতির পর এদের আবার বাচ্চা হয়। নবজাতকের ওজন ১০০কেজির বেশি হয়।উচ্চতাও ৩ফুটের
বেশি হয়।আফ্রিকান গুল্ম হাতি ঘাস,গাছেরপাতা,কচিডাল, গাছের শিকড়,গাছের ছাল খায়।পূর্ণ বয়স্ক হাতির প্রতিদিন প্রায় ২০০কেজি খাবার লাগে।এদের শুঁড়ের ডগায় আঙুলের
মতন দুটো অংশ থাকে।এই আঙুলের মতন অংশ দিয়ে এরা ছোট ছোট খাদ্য ধরতে পারে। আফ্রিকা মহাদেশ গরমের দেশ।এখানকার মানুষের রঙ তাই কালো।এখানকার এই হাতিগুলোও
প্রচন্ড উত্তাপের জন্য কালো হয়।তবে এদের মধ্যে কিছু কিছু হাতি তামাটে বর্ণেরও হয়।গরমকে প্রতিহত করার জন্য এদের বিশাল কান।যা আমাদের ঘরের ফ্যানের হাওয়ার মতই হাওয়া
হয়।এই কানই এদের দেহকে সুশীতল রাখে।এরা ৭০থেকে ৮০বছর পর্যন্ত বাঁচে।বনের সব পশু এই হাতিকে দেখে ভয় পায়।এরা ভালো দৌড়াতেও পারে।সাব সাহারান আফ্রিকার
তৃণভূমিতে এদের দেখা যায়।এদের কথা যতো জানা যায় ততো বিস্ময়ে অভিভূত হতে হয়।
Comments :0