বাদশা দাস
যে সময়ে আমরা দাঁড়িয়ে সেখানে কলকাতার ধর্মতলা থেকে দিল্লির যন্তর মন্তর, দেশের নবীন থেকে প্রবীণ সর্বত্র সকলের মধ্যে বহু চর্চিত, বিতর্কিত এবং জনপ্রিয়তার শিখরে পৌঁছে যাওয়া একটা শব্দ—‘আজাদি’। একদিকে দেশের প্রগতিশীল, শুভবুদ্ধি সম্পন্ন, জেদি, হার না মানা, পিছুটানহীন তরুণ প্রজন্ম দেশের সর্বত্র কালো পিচের রাস্তার দখল নিয়ে নিজেদের হকের অধিকারের দাবিতে স্পর্ধা বুকে দীপ্ত কণ্ঠে ‘আজাদি’ স্লোগান দেয়; অপরদিকে রাষ্ট্রক্ষমতার সাম্প্রদায়িক ও কর্তৃত্ববাদী রাজনীতি তাদের দেশদ্রোহী হিসাবে দাগিয়ে দিতে চায়।
কিন্তু প্রশ্ন এবার—‘আজাদি’ শব্দের মানে কী? ‘আজাদি’ মানে স্বাধীনতা। স্বাধীনতার এত বছর পরেও কেন এই স্লোগান ফিরে আসে? কারা এই ঐতিহ্যের উত্তরাধিকার বহন করে? আর কেনই বা এই শব্দটি আজও এতটা প্রাসঙ্গিক? তার উত্তর খুঁজতে গেলে ফিরে তাকাতে হয় ইতিহাসের দিকে।
যে তরুণ প্রজন্ম আজ গোটা দেশজুড়ে ‘আজাদি’ স্লোগানে গলা ফাটিয়ে রাষ্ট্রশক্তির অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলছে চোখে চোখ রেখে, তাদের ঐতিহ্যের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসের পথ বহু পুরানো।
অবিভক্ত বাংলার হিন্দু কলেজের ক্যাম্পাস থেকেই উনিশ শতকের প্রথম ভাগে ব্রিটিশ বিরোধী মুক্তচিন্তার এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সূচনা। হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিওর হাত ধরে এক ঝাঁক তরুণ ছাত্রের মধ্যে যে যুক্তিবাদ, প্রশ্ন করার সাহস এবং কর্তৃত্বকে অস্বীকার করার মানসিকতা তৈরি হয়েছিল, তা পরবর্তী ভারতীয় জাতীয়তাবাদী চেতনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হয়ে ওঠে। ‘ইয়ং বেঙ্গল’ দেখিয়ে দিয়েছিল—তরুণদের রাজনৈতিক চেতনা কখনও কেবল শ্রেণিকক্ষের চার দেওয়ালের মধ্যে আটকে থাকে না।
১৮৩৫ সালে ষোলো বছরের কৈলাসচন্দ্র দত্ত ভবিষ্যতের ভারত নিয়ে এমন এক গণবিদ্রোহের কল্পনা করেছিলেন, যার ফলে ব্রিটিশদের ভারত ছাড়তে হবে। সেই কল্পনা হয়তো ভবিষ্যদ্বাণী ছিল না, কিন্তু তা ছিল ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে বেড়ে ওঠা রাজনৈতিক কল্পনার একটি দৃষ্টান্ত।
১৮৫৭ সালের মহাবিদ্রোহ। জাত-ধর্মের বহু বিভাজন অতিক্রম করে সৈনিক, কৃষক ও বিভিন্ন সামাজিক গোষ্ঠীর অংশগ্রহণে গড়ে ওঠা এই বিদ্রোহ ব্রিটিশ শাসনের ভিত কাঁপিয়ে দিয়েছিল। কার্ল মার্কসও ১৮৫৭-র বিদ্রোহকে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে ভারতীয় প্রতিরোধের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসাবে দেখেছিলেন। ঔপনিবেশিক শাসন বুঝেছিল— ভারতীয়দের ঐক্য তার জন্য বিপজ্জনক। তাই ধর্ম, জাতি ও সম্প্রদায়ের বিভাজনকে রাজনৈতিক অস্ত্র হিসাবে ব্যবহার করার প্রবণতা ক্রমশ শক্তিশালী হয়। কিন্তু তার মধ্যেও আজাদির লড়াই থেমে থাকেনি। দ্বিতীয় বাহাদুর শাহ, মঙ্গল পান্ডে ও ঝাঁসির রানি লক্ষ্মীবাঈয়ের নেতৃত্বে ধর্মের বিভাজনকে অতিক্রম করেই বিদ্রোহ গড়ে ওঠে। ভারতীয় ঐক্য ভাঙতে ব্রিটিশরা ধর্মীয় বিভাজন উসকে দেয়। ১৮৭০-৭১ সালে প্যাট্রিক কার্নেজির ‘A Historical Sketch of Tahsil Fyzabad’ বাবরের মসজিদের স্থানে রামমন্দির থাকার দাবি তোলে; ডাবলু ডাবলু হান্টারের ‘The Indian Musalmans’ বইতে,মুসলমানদের নিপীড়িত বলে তাদের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দেয় ব্রিটিশরা। তবু এই বিভাজন সাম্রাজ্যবাদী শাসনের কৌশল হয়ে উঠলেও স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা শিক্ষিত তরুণদের মননে ক্রমশ শক্তিশালী হয়ে ওঠে।
১৮৭৫ সালে আনন্দমোহন বসু ও সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়দের উদ্যোগে ক্যালকাটা স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন গড়ে ওঠে। ছাত্র সমাজের রাজনৈতিক সংগঠন ও জনজীবনে তাদের ভূমিকা ক্রমশ বিস্তৃত হতে থাকে। ১৮৮৫ সালে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রথম দিকে সাংবিধানিক আবেদন-নিবেদন ও সংস্কারের পথেই তারা এগলেও, এই পর্ব ভারতীয়দের রাজনৈতিক অধিকার ও প্রতিনিধিত্বের প্রশ্নকে জনপরিসরে নিয়ে আসে।
১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গের বিরুদ্ধে স্বদেশি আন্দোলন সেই রাজনীতিতে নতুন বিস্ফোরণ ঘটায়। অনুশীলন সমিতির মতো বিপ্লবী সংগঠন সশস্ত্র প্রতিরোধের পথ বেছে নেয়। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর গান, কবিতা, রাখিবন্ধন ও স্বদেশি কর্মসূচির মাধ্যমে বাংলার মানুষের মধ্যে ঐক্য ও সম্প্রীতির আহ্বান জানান। ১৯০৮ সালে ক্ষুদিরাম বসু ও প্রফুল্ল চাকীর কিংসফোর্ডকে হত্যার প্রচেষ্টা এবং কানাইলাল দত্তের আত্মত্যাগ বিপ্লবী আন্দোলনের ইতিহাসে গভীর ছাপ রেখে যায়।
১৯১৫ সালে গান্ধীজীর ভারতে প্রত্যাবর্তনের পর জাতীয় আন্দোলন নতুন গণভিত্তি খুঁজে পায়। জালিয়ানওয়ালাবাগের হত্যাকাণ্ড কিশোর ভগৎ সিংকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছিল। পরে তিনি বিপ্লবী রাজনীতির সঙ্গে সমাজতান্ত্রিক চিন্তাকে যুক্ত করেন। হিন্দুস্তান রিপাবলিকান অ্যাসোসিয়েশন বদলে হিন্দুস্তান সোশালিস্ট রিপাবলিকান অ্যাসোসিয়েশন হওয়া সেই মতাদর্শগত পরিবর্তনের প্রতীক। তাদের কাছে স্বাধীনতা কেবল ব্রিটিশদের তাড়ানো নয়; শ্রমিক, কৃষক, ছাত্র ও সাধারণ মানুষের মুক্তির সঙ্গেও তা যুক্ত।
১৯২০ সালে কমিউনিস্ট আন্দোলনের সংগঠিত বিকাশ শুরু হয়। একই সময়ে ছাত্র ও শ্রমিক আন্দোলনও নতুন গতি পায়। মৌলানা হাসরত মোহানি ও স্বামী কুমারানন্দের মতো নেতারা পূর্ণ স্বাধীনতার দাবি সামনে আনেন; ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ স্লোগান পরবর্তীতে ভগৎ সিংয়ের মাধ্যমে সর্বভারতীয় প্রতীকে পরিণত হয়। ১৯২৯ সালে লাহোর কংগ্রেসে পূর্ণ স্বরাজের ডাক দেওয়া হয়। কানপুর, পেশোয়ার, মীরাট ও লাহোর ষড়যন্ত্র মামলায় ব্রিটিশ সরকার কমিউনিস্ট ও বিপ্লবীদের দমন করতে চেয়েছিল। ১৯৩১ সালে ভগৎ সিং, সুখদেব ও রাজগুরুর ফাঁসি সেই সংগ্রামকে আরও তীব্র করে তোলে। মৃত্যুর আগেও ভগৎ সিংয়ের হাতে ছিল লেনিনের লেখা— তাঁর সমাজতান্ত্রিক রাজনৈতিক বিশ্বাসের এক প্রতীকী ছবি। যে আদালতে দাঁড়িয়ে ভগৎ সিং -সুখদেব-রাজগুরুর ফাঁসির ঘোষণা করা হয়,সেই কোর্টের বাইরে ঠিক এক বছর বাদে ভগৎ সিংদের শাহাদাত দিবসের দিন ভারতবর্ষের ঝান্ডা ওড়ানোর জন্য উদ্ধত মেজাজ নিয়ে এক পনেরো বছরের তরুণ শিখ ছেলে ঝান্ডা উড়িয়ে সাম্রাজ্যবাদী ব্রিটিশ পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়ে আদালতে উপস্থিত হলে,বিচারক যখন তাকে তার নাম জিজ্ঞাসা করে,তখন সে তার নাম বলে ‘লন্ডন তোড় সিং’। সেদিনের সেই ১৫ বছরের ছেলেটার নাম হরকিষান সিং সুরজিৎ। যিনি পরবর্তীতে ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্কসবাদী)’র সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।
চট্টগ্রামের অস্ত্রাগার লুণ্ঠন ও জালালাবাদ যুদ্ধের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন মাস্টারদা সূর্য সেন। গণেশ ঘোষ, লোকনাথ বল, তারকেশ্বর দস্তিদার, অম্বিকা চক্রবর্তী, কল্পনা দত্ত ও প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদারের মতো বিপ্লবীরা এই সংগ্রামকে ইতিহাসে অমর করে রাখেন। এই বিপ্লবী ধারার বহু কর্মী পরবর্তী সময়ে কমিউনিস্ট আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হন।
এরপর সংগঠিত ছাত্র আন্দোলনের বিস্তার। ১৯৩৬ সালে অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস ফেডারেশন গড়ে ওঠে। প্রগতিশীল ছাত্রসমাজের মধ্যে কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের মতো তরুণরাও এই ধারার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ১৯৪২-এর ভারত ছাড়ো আন্দোলন, ১৯৪৩-এর মন্বন্তর, আজাদ হিন্দ বাহিনীর বিচারবিরোধী আন্দোলন এবং ১৯৪৬-এর নৌ বিদ্রোহ—প্রতিটি পর্বেই ছাত্র, শ্রমিক, বামপন্থী ও প্রগতিশীল শক্তির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। কলকাতায় INA বিচার বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে ব্রিটিশ পুলিশের গুলিতে ছাত্র রামেশ্বর বন্দ্যোপাধ্যায় নিহত হন। ১৯৪৬-এর নৌ বিদ্রোহ ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের কর্তৃত্বকে আরও গভীর সঙ্কটে ফেলে। এই নৌ বিদ্রোহের সময়ে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন বি টি রণদিভে,রবীন সেনদের মতো কমিউনিস্টরা।
ঔপনিবেশিক শাসনের আর একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা এখানেই। ব্রিটিশরা শুধু বন্দুক, আইন ও প্রশাসনের মাধ্যমে শাসন করেনি; বিভাজনের রাজনীতিকেও শাসনের হাতিয়ার করেছিল। ধর্ম, জাত, ভাষা ও সম্প্রদায়ের পরিচয়কে পরস্পরের বিরুদ্ধে দাঁড় করিয়ে মানুষের ঐক্য দুর্বল করা হয়েছিল। ফলে স্বাধীনতার লড়াইয়ের একটি বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছিল—কীভাবে এমন একটি ভারত গড়ে তোলা যায় যেখানে নাগরিকের অধিকার তার ধর্ম বা পরিচয়ের উপর নির্ভর করবে না।
স্বাধীনতার ইতিহাস এখানেই শেষ হয়নি। তেভাগা, তেলেঙ্গানা, পুন্নাপ্পা-ভায়লার, শ্রমিক আন্দোলন, কৃষক আন্দোলন এবং স্বাধীনতার পর ট্রামভাড়া বৃদ্ধির বিরুদ্ধে কলকাতার আন্দোলন—বারবার দেখিয়েছে যে রাজনৈতিক স্বাধীনতা তখনই অর্থপূর্ণ হয়, যখন তার সঙ্গে সামাজিক ও অর্থনৈতিক অধিকারের প্রশ্ন যুক্ত হয়। এই কারণেই ‘আজাদি’ কেবল ১৯৪৭-এর একটি তারিখ নয়; এটি অসমাপ্ত মুক্তির দাবি।
প্রশ্ন ওঠে—যারা আজ ‘আজাদি’ স্লোগান দেওয়া তরুণদের দেশদ্রোহী বলে দাগাতে চায়, স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে তাদের ভূমিকা কী ছিল? বিজেপি বা আরএসএস-কে সরাসরি স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রধান ধারার উত্তরাধিকারী হিসাবে দেখার ঐতিহাসিক ভিত্তি দুর্বল। হিন্দু মহাসভা ও আরএসএস’র রাজনীতির বড় অংশই কংগ্রেসের গণআন্দোলন এবং বামপন্থী-ধর্মনিরপেক্ষ স্বাধীনতা সংগ্রামের থেকে আলাদা পথে চলেছিল। সাভারকারের প্রাথমিক বিপ্লবী ভূমিকা যেমন ইতিহাসের অংশ, তেমনই তাঁর পরবর্তী রাজনৈতিক অবস্থান, ব্রিটিশ সরকারের কাছে দয়া প্রার্থনাপত্র এবং হিন্দুত্বের রাজনৈতিক তত্ত্বও ইতিহাসের অংশ। কোনও একটি অংশ দিয়ে পুরো ইতিহাসকে বিচার করা যায় না।
আজকের ‘আজাদি’ স্লোগানের ভিতরে তাই বহু স্তরের দাবি রয়েছে। কেউ শিক্ষার অধিকার চায়, কেউ বেকারত্বের বিরুদ্ধে প্রশ্ন তোলে, কেউ সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে দাঁড়ায়, কেউ বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্তশাসন রক্ষা করতে চায়, কেউ শ্রমিকের মজুরি বা কৃষকের ন্যায্য অধিকারের জন্য লড়ে—তখন প্রত্যেকটি দাবিই স্বাধীনতার বিস্তৃত অর্থের সঙ্গে যুক্ত।
রাষ্ট্রের সমালোচনা দেশবিরোধিতা নয়; বরং গণতন্ত্রে রাষ্ট্রকে প্রশ্ন করার অধিকারই নাগরিক স্বাধীনতার অন্যতম ভিত্তি।
ইতিহাসের প্রতিটি বড় গণআন্দোলন দেখিয়েছে, তরুণদের প্রশ্নকে দীর্ঘদিন চেপে রাখা যায় না। কখনও সেই প্রশ্ন গান হয়ে এসেছে, কখনও কবিতা, কখনও মিছিল, কখনও দেওয়াল লিখন, কখনও আদালতে লড়াই, আবার কখনও ‘আজাদি’ স্লোগানে।
এই উত্তরাধিকারকেই মিথ্যে প্রমাণ করতে চায় আর এস এস ও বিজেপি। ভারতীয় স্বাধীনতা সংগ্রাম ছিল বহু ধারার, বহু মানুষের এবং বহু রাজনৈতিক মতের সম্মিলিত ইতিহাস। কিন্তু সেই বহুত্বের ভিতরে একটি সাধারণ আকাঙ্ক্ষা ছিল— মানুষ যেন নিজের ভবিষ্যৎ নিজের হাতে নির্মাণ করতে পারে। বামপন্থী ও প্রগতিশীল ধারার বিশেষ অবদান ছিল এই স্বাধীনতার সঙ্গে অর্থনৈতিক সাম্য, শ্রমিক-কৃষকের অধিকার এবং শোষণমুক্ত সমাজের প্রশ্নকে যুক্ত করা।
সেই ঐতিহ্যের ইতিহাসের উত্তরাধিকার সূত্রেই আজও তরুণরা রাস্তায় কখনো শিক্ষার অধিকার, কখনো খালি পেটে অন্নের অধিকার, কখনো সংবিধানিক অধিকার, কখনো ধর্মনিরপেক্ষতার ঐতিহ্য, কিংবা নিজেদের প্রাপ্য অধিকার ছিনিয়ে নিতে ‘আজাদি’ স্লোগানকে বেছে নেয়। কারণ দেশের স্বাধীনতার এত বছর পরেও অনেক স্বাধীনতা নীরবে নিভৃতে অধরাই থেকে গেছে।
স্বাধীনতার অর্থকে কেবল রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্যে সীমাবদ্ধ করার চেষ্টা হলে, ইতিহাসের দিকে ফিরে তাকানো জরুরি হয়ে যায়।
আর সেই কারণেই আজকের তরুণ প্রজন্মের ‘আজাদি’ আসলে একটি প্রশ্ন—কাদের জন্য স্বাধীনতা? কেবল রাষ্ট্রের জন্য, না মানুষের জন্যও? যদি স্বাধীনতা মানুষের হয়, তবে শিক্ষার অধিকার, অন্নের অধিকার, কাজের অধিকার, মতপ্রকাশের অধিকার, ধর্মনিরপেক্ষতা ও সামাজিক সাম্যের লড়াইও আজাদির লড়াই।
যত আক্রমণের তীব্রতা বেড়েছে,ততই বেড়েছে রাস্তার লড়াই। শিক্ষা মন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পাহাড় প্রমাণ দুর্নীতির বোঝা মাথায় নিয়ে মাথা ঝুঁকিয়ে পদত্যাগে বাধ্য হয়েছে লড়াকু তরুণ প্রজন্মের সামনে । শিক্ষা থেকে শুরু করে দেশের জল,জঙ্গল,জমি,খনিজসম্পদ, রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি সবটাই আদানি আম্বানিদের মতো কিছু পেটোয়া কর্পোরেট বাহিনীর হাতে বেঁচে দিতে চায়,তাদের বিরুদ্ধে রাস্তা থেকে আদালতের বেঞ্চ আপোসহীন লড়াই সংগ্রামী মেজাজেই জারি থাকবে।কারণ ইতিহাসের লুকিং গ্লাস দিনের শেষে বার বার প্রমাণ করেছে সাময়িকভাবে কোনও কোনও ক্ষেত্রে শোষক জয়ের স্বাদ পেলেও,সব শেষে জয় হয় শোষিতের। এক্ষেত্রেও তার ব্যাতিক্রম হবে না। এই আন্দোলনের তরঙ্গকে রোধ করার ক্ষমতা আরএসএস- বিজেপি’র নেই, তাদের বাধা দেওয়ায় বরং আরও তীব্র হচ্ছে,ব্যাপ্ত হচ্ছে এই আন্দোলন।
সেই কারণেই আজকের তরুণ প্রজন্মের ‘আজাদি’ আসলে একটি প্রশ্ন— কাদের জন্য স্বাধীনতা? কেবল রাষ্ট্রের জন্য, না মানুষের জন্যও? যদি স্বাধীনতা মানুষের হয়, তবে শিক্ষার অধিকার, অন্নের অধিকার, কাজের অধিকার, মত প্রকাশের অধিকার, ধর্মনিরপেক্ষতা ও সামাজিক সাম্যের লড়াইও আজাদির লড়াই। এই লড়াইয়ের তরঙ্গকে রোধ করার ক্ষমতা আরএসএস-বিজেপি’র নেই।
Comments :0