Md Salim In jalpaiguri

অধিকার রক্ষায় লড়াইয়ের কেন্দ্র বলেই পার্টি দপ্তরে হামলা বিজেপি’র: জলপাইগুড়িতে সেলিম

রাজ্য জেলা

ইতিহাস সাক্ষী, যারা লাথি খাব তারাই হাত মুঠো করে লড়াই করে। আর যারা লাথি দেয় তারা ইতিহাস থেকে মুছে যায়। জলপাইগুড়িতে পার্টি দপ্তরে হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগের ঘটনায় এই প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন সিপিআই(এম) রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম।
গত সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর, রাতে সিপিআই(এম) জলপাইগুড়ি জেলা দপ্তরে হামলা চালায় বিজেপি। ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ হয়। প্রতিরোধ করেন সিপিআই(এম) কর্মীরা। সেলিম বলেন, পরিকল্পিতভাবে আক্রমণ বিজেপি’র। শহীদ বেদী ভাঙচুর, পতাকাদণ্ড ভেঙে ফেলা হয়েছে। জলপাইগুড়ি বা রাজ্য কেবল নয়, দেশেও এই সংস্কৃতি ছিল না। এদিন, জেলা দপ্তরেই এই সাংবাদিক সম্মেলন করেন তিনি।
সেলিম বলেন, সিপিআই(এম) মানুষের থেকে অর্থ সংগ্রহ করে তিল তিল করে পার্টি কেন্দ্র গড়ে তোলে। কেবল পার্টির কাজ নয়, শ্রমিক-কৃষক, ছাত্র, দিনমজুর, হকার বা আক্রান্ত মানুষের সমস্যা এবং সমাধান নিয়ে আলোচনার কেন্দ্র। এসআইআর’র সময় অসংখ্য মানুষ পার্টি অফিসে এসেছেন। মানুষের অধিকার রক্ষা করার পরিকল্পনা থেকে রূপায়নের কাজে এই দপ্তরগুলি ব্যবহার করা হয়। সেখানেই বিজেপি’র আপত্তি। 

 
তিনি বলেন, জেলা দপ্তরে হামলা কোনও ছিঁচকে বিজেপি’র কাজ নয়। রাত দশটার পর আমাদের কমিউনে পার্টিকর্মীরা থাকেন। ফলে প্রতিরোধের মুখে পড়তে হয়েছে। ভোটের আগে ওরা বলেছিল দুর্নীতি দূর করবে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে। সেসব ভুলে বিধানসভা থেকে জলপাইগুড়ি, সর্বত্র সিপিআই(এম) এখন আক্রমণের কেন্দ্রে। 
সেলিম বলেন, নরেন্দ্র মোদী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর সব রাজ্যে ফাইভ স্টার পার্টি অফিস হচ্ছে। টাকা আসছে নির্বাচনী বন্ড থেকে, কর্পোরেটের থেকে। খনি, রেল, বিমানবন্দর, পোস্টঅফিস বিক্রি করে দিচ্ছে। পিএম ফান্ডের টাকা তুলেছে বিভিন্ন সংস্থার থেকে। তার মধ্যে দেশবিরোধী সংস্থাও রয়েছে। তার হিসেব দেবে না। আর সিপিআই(এম) কেন পার্টি অফিস করছে তাতে জ্বালা!
তিনি বলেন, বন্যা-ভাঙনের কথা হোক, অন্নপূর্ণা যোজনা থেকে নাম বাদ দেওয়া হোক, বাংলাদেশি সন্দেহে জোর করে তুলে নেওয়া হোক, এসব কথা কে তুলে ধরবে? তার জন্যই তো কমিউনিস্ট পার্টি এবং কমিউনিস্ট পার্টির দপ্তর। 
জলপাইগুড়ি এবং উত্তরবঙ্গে কেংও’র ছায়া সংগঠনের মতো বিভিন্ন শক্তির তৎপরতা নিয়ে প্রশ্ন করা হয় সেলিমকে। তিনি বলেন, উত্তরবঙ্গে উত্তর পূর্ব ভারতের মতো ক্ষমতা দখলে রাখার জন্য বিজেপি বিভিন্ন সংগঠন খুলেছে। যাদের পেছনে দেশি-বিদেশি প্রতিক্রিয়ার শক্তির মদত রয়েছে। মমতা ব্যানার্জিও এই ধরনের শক্তিগুলিকে ব্যবহার করেছে। কিন্তু আসলে নাম বা পরিচিতি দিয়ে একজনের থেকে আরেকজনকে বিচ্ছিন্ন করছে। এখানে কামতাপুরীর নামে অনেক কিছু করেছে। কিন্তু রাজবংশী, কোচ মানুষের শিক্ষা বা জীবিকার কী উন্নতি হচ্ছে? বরং প্রাকৃতিক সম্পদ লুট হচ্ছে। 
ঠাকুর পঞ্চানন বর্মার সমাজসংস্কারের আন্দোলন তুলে ধরেন সেলিম। তিনি বলেন বিজেপি এবং সহযোগীরা জাতের নামে, পরিচিতির নামে মানুষকে আলাদা করতে চাইছে। আর আমরা বামপন্থীরা সব অংশকে নিয়ে চাষ, কাজ, শিক্ষা, স্বাস্থ্যের জন্য আন্দোলন গড়ে তুলছি।

Comments :0

Login to leave a comment