তৃণমূলের পথেই চাকরির প্রতিশ্রুতি দিয়ে ২ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে বিজেপি নেতার বিরুদ্ধেই থানায় লিখিত অভিযোগ করেছে মঙ্গলকোটে প্রতাড়িত যুবক। অভিযোগ, চাকরী দেবার নাম করে যে টাকা আত্মসাত করেছে সে যেমন বিজেপি নেতা আবার যে প্রতাড়িত হয়েছেন সেও বিজেপি’র নেতার ছেলে। ২০২৫ সালে তৃণমূলের নেতার সঙ্গে বোঝাপড়া করেই চাকরি বিক্রির সাথে যুক্ত ছিল বিজেপি’র এই নেতা এমনটাই অভিযোগ করেছেন স্থানীয় নেতা।
পিএইচই-র জল সরবরাহ প্রকল্পে পাম্প অপারেটরের চাকরি পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ২ লক্ষ টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠল বিজেপির এক নেতার বিরুদ্ধে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে পূর্ব বর্ধমানের মঙ্গলকোটে ক্ষোভ চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। অভিযোগকারী অ্যালিস চট্টরাজের দাবি, চাকরি পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাঁর কাছ থেকে মোট ২ লক্ষ টাকা নেন বিজেপি নেতা সৌমেন মুখার্জি। ২০২৫ সালের ২৫ মার্চ দুই দফায় ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে ওই টাকা সৌমেন মুখার্জির অ্যাকাউন্টে পাঠানো হয়েছিল বলে দাবি অভিযোগকারীর।
অভিযোগ, টাকা নেওয়ার সময় দু’মাসের মধ্যে চাকরি হয়ে যাবে বলে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু দু’মাস পেরিয়ে মাসের পর মাস কেটে গেলেও চাকরি মেলেনি। এমনকি বছর গড়িয়ে গেলেও প্রতিশ্রুতি পূরণ হয়নি বলে অভিযোগ। টাকা ফেরত চাইলে এখনও ‘কাজ হয়ে যাবে’ বলে তাঁকে ঘোরানো হচ্ছে বলেও দাবি অ্যালিসের।
শেষপর্যন্ত আর অপেক্ষা না করে মঙ্গলকোট থানায় অভিযুক্ত বিজেপি নেতা সৌমেন মুখার্জির বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন অ্যালিস চট্টরাজ।
অভিযোগকারীর আরও দাবি, সৌমেন মুখার্জি নিজেই তাঁর বাড়ির কাছে এসে চাকরির প্রস্তাব দিয়েছিলেন। তাঁকে বিশ্বাস করেই টাকা দেওয়া হয়েছিল। অ্যালিসের দাবি, সৌমেন মুখার্জি দীর্ঘদিনের বিজেপি কর্মী এবং দলের মাঝিগ্রাম এলাকার জিএস পদেও রয়েছেন।
যদিও তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ নিয়ে সৌমেন মুখার্জির সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনও মন্তব্য করতে চাননি।
যদিও বিজেপি’র মঙ্গলকোট ৩ নম্বর মণ্ডলের সভানেত্রী মন্দিরা চট্টরাজ বলেন, দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়ার পর প্রমাণ-সহ সৌমেন মুখার্জিকে দল থেকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। পাশাপাশি থানাতেও অভিযোগ হয়েছে বলে জানান তিনি।
ঘটনায় অভিযোগের সত্যতা কী, টাকা নেওয়ার পিছনে চাকরির প্রতিশ্রুতি ছিল কি না এবং পুরো ঘটনায় আর কেউ জড়িত কি না, তা নিয়ে তদন্তের দাবি উঠেছে। মঙ্গলকোট পুলিশের তদন্তের পরই গোটা ঘটনার প্রকৃত কারণ কি স্পষ্ট হবে না শাসকদলের নেতা বলে ধামাচাপা পড়বে? থানায় অভিযোগের পরও কেন গ্রেপ্তার হলো না অভিযুক্ত তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
BJP leader accused of swindling ₹2 lakh with the promise of a job
চাকরির প্রতিশ্রুতি দিয়ে ২ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে বিজেপি নেতার বিরুদ্ধে
প্রতারিত যুবক।(বামদিকে। অভিযুক্ত বিজেপি নেতা।(ডানদিকে)
×
Comments :0