BRICS Delhi Declaration

‘ব্রিকস’ ঘোষণাপত্রে একতরফা যুদ্ধের নিন্দায় বাদ আমেরিকার উল্লেখ

জাতীয়

সর্বসম্মতিতে গৃহীত হয়েছে ‘ব্রিকস’-র যৌথ ঘোষণাপত্র। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী জানিয়েছেন ঘোষণাপত্রে গোষ্ঠীর সব দেশ সম্মতি জানিয়েছে। 
ঘোষণাপত্র বিশদে প্রকাশ করা হবে শনিবারই। তবে সূত্রের উল্লেখ করে বিভিন্ন সংবাদসংস্থা জানাচ্ছে যে একতরফা যুদ্ধ চাপিয়ে দেওয়ার সমালোচনা করা হয়েছে ঘোষণাপত্রে।  ভারতের প্রস্তাব মেনে পশ্চিম এশিয়ায় সংকটের জন্য দায়ী আমেরিকা বা ইজরায়েলের নির্দিষ্ট উল্লেখ রাখা হয়নি। 
‘ব্রিকস’ গোষ্ঠীর বৈঠকে পশ্চিম এশিয়া সংকট নিয়ে আলোচনা অবধারিত ছিল। সদস্য দেশ ইরান সরাসরি আমেরিকা-ইজরায়েলের যুদ্ধ চাপিয়ে দেওয়ার নীতির নিন্দা করার দাবি তুলেছিল। 
গোষ্ঠীর অপর সদস্য দেশ সৌদি আরব আবার পশ্চিম এশিয়ার বিভিন্ন দেশে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র বর্ষণের নিন্দার দাবি তুলেছিল বলে সূত্রের খবর।
গত ফেব্রুয়ারিতে ইরানের ওপর আমেরিকা-ইজরায়েল জোটের একতরফা বোমা হামলার পর পশ্চিম এশিয়া তুমুল অস্থিরতার মধ্যে পড়ে। তার জেরে বিশ্ব অর্থনীতি টালমাটাল হয়েছে। 
ইরানের পালটা মারে আমেরিকা-ইজরায়েল পিছু হটে। সৌদি আরব বা কাতারের মতো দেশে, যেখানে আমেরিকার সেনা ঘাঁটি রয়েছে, ইরান সেই কেন্দ্রগুলিকেই লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ছোঁড়ে। 
চলতি বছরে ব্রিকস-র সভাপতিত্ব করছে ভারত। দিল্লিতে শীর্ষ বৈঠকেই ঠিক হয়েছে আগামী বছর চীন সভাপতিত্ব করবে। 
শনিবার মোদী বলেন, ভারতের সভাপতিত্বের অভিমুখ জনগণ কেন্দ্রীক এবং মানবতাকে অগ্রাধিকার। তিনি বলেন, ভারতের অগ্রাধিকার হলো উদ্ভাবন, সমন্বয়, স্থায়িত্ব এবং যুঝে ওঠা। 
মোদী বলেছেন, শীর্ষ সম্মেলনে অর্জিত সর্বসম্মতিকে কাজে পরিণত করা দরকার। তিনি বলেছেন, ভারত কোনও দেশেরই বিরুদ্ধে নয়। সেই সঙ্গে রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদে ভারতের অন্তর্ভুক্তির পক্ষেও সওয়াল করেন তিনি। 
আন্তর্জাতিক বিশেষ মহলের একাংশের মত, ইরানের সঙ্গে সৌদির বিরোধকে কারণ হিসেবে দেখালেও ভারত নিজেও আমেরিকার নির্দিষ্ট উল্লেখ করে সমালোচনায় আগ্রহী নয়। 
এই অংশের যুক্তি, প্যালেস্তাইনে লাগাতার গণহত্যা, শিশুহত্যা বা ইরানে একতরফা হামলার পরও ভারতের বিদেশ মন্ত্রক ইজরায়েল বা আমেরিকার নিন্দা করার সাহস দেখায়নি। বরং, মার্কিন অনুগত বিদেশনীতি নিয়েই এগচ্ছে মোদী সরকার।

Comments :0

Login to leave a comment