Hungary Orban Trump

হাঙ্গেরিতে ওরবানের পরাজয়ে ধাক্কা ট্রাম্পেরও

আন্তর্জাতিক

নির্বাচনে মানুষের মতামত প্রতিফলত হতো কিনা তা নিয়েই ছিল সংশয়। শেষ পর্যন্ত যদিও হার স্বীকার করে নিতে হলো হাঙ্গেরির অতি দক্ষিণপন্থী নেতা ভিক্টর ওরবানকে। 
পূর্ব ইউরোপের হাঙ্গেরির ফলাফলের প্রভাব আন্তর্জাতিক স্তরে পড়বে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞদের বড় অংশ। প্রভার পড়বে আমেরিকার রাজনীতিতে। আমেরিকায় মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে এই ফলাফল ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং তাঁর অনুগামীদের পক্ষে সুখকর নয়।
ওরবানকে বলা হয় ইউরোপে ট্রাম্পের সবচেয়ে বিশ্বস্ত সঙ্গী। টানা ১৬ বছর হাঙ্গেরিতে নির্বাচিত হয়েছেন ওরবান। অতি দক্ষিণপন্থী ফিদেশ পার্টি প্রসারিত হয়েছে তাঁর নেতৃত্বেই। এই নির্বাচনেও ওরবানের পক্ষে প্রচারের জন্য আমেরিকার উপরাষ্ট্রপতি জেডি ভ্যান্সকে পাঠিয়েছিলেন ট্রাম্প।
ওরবান এবং তাঁর রাজনীতির উত্থানের পিছনে একাংশ দায়ী করেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের আগ্রাসনকে। পূর্ব ইউরোপে এই আর্থিক আগ্রাসনকে রুখে দেওয়ার গ্যারান্টি দিয়েই ওরবান বারবার জয়ী হয়েছে নির্বাচনে। কায়েম করেছেন একচ্ছত্র কর্তৃত্ব। রাষ্ট্রবাদকে এমন পর্যায়ে তুলে নিয়েছেন যে নাগরিক অধিকার কার্যত আস্তাকুঁড়ে ফেলে দেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে দেশে শিক্ষা, স্বাস্থ্য জনকল্যাণের মতো খাতে হয়েছে গুরুতর ছাঁটাই। 
ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিরোধিতা করলেও সরকারি ব্যয় সঙ্কোচনের নীতিতেই চলেছেন ওরবান। একাধিক বড় আন্দোলন হয়েছে হাঙ্গেরিতে। 
ওরবানকে হারিয়ে প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী পিটার ম্যাগেয়ার বলেছেন যে আমরা সবাই মিলে হারিয়েছি ওরবানকে। এই জয় সম্মিলিত ইচ্ছার জয়। ম্যাগেয়ারের রেসপেক্ট অ্যান্ড ফ্রিডম পার্টি ‘টিসা‘ জয়ী হয়েছে ১৩৮ আসনে। ফিদেশ পেয়েছে ৫৫ আসন। 
ট্রাম্পের পাশাপাশি ওরবানকে পশ্চিম ইউরোপের সংবাদমাধ্যমে রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির পুতিনেরও ঘনিষ্ঠ ধরা হয়। তার একটি কারণ, ওরবান প্রচার করতেন হাঙ্গেরির কাছে বড় বিপদ ইউক্রেন।
ওরবানের পরাজয়ের পর হাঙ্গেরির একটি বড় অংশ বলেছে যে ‘নির্বাচনী স্বৈরতন্ত্রকে’ হারানো যায় দেখিয়েছে এই ভোট। তাঁরা বলছেন, অতি দক্ষিণপন্থী এবং ‘পপুলিস্ট‘ রাজনীতি এই ভোটে পরাজিত হয়েছে।  

Comments :0

Login to leave a comment