একের পর এক চিকিৎসকের বদলি, তার সঙ্গে ভয়াবহ কর্মী সংকট। দুইয়ের জেরে কার্যত নাজেহাল ধূপগুড়ি মহকুমা হাসপাতালের স্বাস্থ্য পরিষেবা। মহকুমা হাসপাতালের প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো ও জনবল এখনও পুরোপুরি গড়ে না উঠলেও চিকিৎসক সরিয়ে নেওয়া এবং দীর্ঘদিন ধরে শূন্যপদ পূরণ না করার অভিযোগ স্বাস্থ্য দপ্তরের বিরুদ্ধে উঠছে। এরই মধ্যে প্রায় এক মাস ধরে বন্ধ সিজার পরিষেবা। ফলেপ্রসূতি ও তাঁদের পরিবার সমস্যায় পড়ছেন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, নিয়ম অনুযায়ী মহকুমা হাসপাতালে ৩৯ জন চতুর্থ শ্রেণির কর্মী প্রয়োজন। সেখানে বর্তমানে কর্মরত মাত্র ৮ জন। অর্থাৎ প্রয়োজনের তুলনায় বিপুল ঘাটতি নিয়েই হাসপাতাল চলছে। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়, হাসপাতালে কোনও স্থায়ী সাফাই কর্মী নেই। মাত্র দু’জন অস্থায়ী সাফাই কর্মীর উপর নির্ভর করে বিশাল হাসপাতালটির পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ চালাতে হচ্ছে।
হাসপাতাল সূত্রে খবর দীর্ঘদিনের কর্মী সংকটের বিষয়টি স্বাস্থ্য দপ্তরের আধিকারিকদের পক্ষ থেকে লিখিত ভাবে স্বাস্থ্য ভবনকে জানানো হয়েছে। কিন্তু এখনও শূন্যপদ পূরণ হয়নি। ফলে হাতে গোনা কর্মী নিয়েই পরিষেবা চালাতে গিয়ে হাসপাতালের কর্মীরা চাপে পড়ছেন। রোগী ও তাঁদের পরিজনদের পরিষেবা পাওয়ার ক্ষেত্রেও তার প্রভাব পড়ছে বলে অভিযোগ।
এর পাশাপাশি চিকিৎসক সংকটও পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। আউটডোর -সহ একাধিক বিভাগে চিকিৎসকের ঘাটতি দেখা দিয়েছে। ভর্তি থাকা রোগীদের নিয়মিত চিকিৎসকের নজরদারি নিয়েও অভিযোগ উঠছে। রোগীর পরিজনদের একাংশ সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চিকিৎসকের দেখা না পাওয়ার অভিযোগ করছেন। প্রসূতিদের ক্ষেত্রেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পরিষেবা নিয়ে রোগীর পরিজনদের সঙ্গে নার্সদের বচসার ঘটনাও ঘটছে বলে অভিযোগ।
পূর্বতন সরকারের সময়ে চিকিৎসক নিয়োগ এবং মহকুমা হাসপাতাল নির্মাণের কাজ শুরু হলেও বর্তমান সময়ে প্রয়োজনীয় জনবল ও পরিষেবা নিশ্চিত না হওয়ায় হাসপাতালের পরিকাঠামো নিয়েই প্রশ্ন উঠছে।
সিপিআই(এম) ধূপগুড়ি এরিয়া কমিটির সম্পাদক জয়ন্ত মজুমদার বলেন, ‘‘মহকুমা হাসপাতাল হিসেবে প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো ও জনবল এখনও পুরোপুরি গড়ে ওঠেনি। তার মধ্যেই ১০ জন চিকিৎসককে একসঙ্গে বদলি করে দেওয়া হল। বিকল্প চিকিৎসকের ব্যবস্থা না করে এভাবে চিকিৎসক সরিয়ে নেওয়া সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য পরিষেবার উপর সরাসরি আঘাত। প্রায় এক মাস ধরে সিজার পরিষেবা বন্ধ। অবিলম্বে বদলি হওয়া চিকিৎসকদের জায়গায় চিকিৎসক নিয়োগ, সিজার পরিষেবা চালু এবং চতুর্থ শ্রেণি ও সাফাই কর্মী-সহ সমস্ত শূন্যপদ পূরণ করতে হবে।’’
হাসপাতালের মতো গুরুত্বপূর্ণ সরকারি পরিষেবায় দীর্ঘদিন ধরে এত বিপুল কর্মী ও চিকিৎসক ঘাটতি কেন পূরণ করা হচ্ছে না, তা নিয়েই এখন প্রশ্ন উঠছে। দ্রুত শূন্যপদ পূরণ না হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
Dhupguri Sub-divisional Hospital
চিকিৎসক বদলি, কর্মী সংকটে ধুঁকছে ধূপগুড়ি মহকুমা হাসপাতাল
×
Comments :0