তৃণমূলের দুই গোষ্ঠীকে প্রতীক নিয়ে বিবাদের মীমাংসা করতে বৈঠকে ডাকা হয় নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে। শনিবার দিল্লিতে ইন্ডিয়া ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ ডেমোক্র্যাসি অ্যান্ড ইলেকশন ম্যা নেজমেন্ট-এ বৈঠক হয়। এদিন তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতীকের দাবি সংক্রান্ত বিবাদের চূড়ান্ত শুনানিতে কমিশনের দপ্তরে উপস্থিত হয় ঋতব্রত শিবির। ছিলেন ঋতব্রত ব্যানার্জি, অরূপ রায়, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, আখরুজ্জামান, আইনজীবী আমন ঝাঁ। নির্বাচন কমিশন শনিবার ঋতব্রত ব্যানার্জি গোষ্ঠীর কাছে অতিরিক্ত নথি চেয়েছে। মমতা ব্যানার্জির নেতৃত্বাধীন তৃণমূলের প্রতিনিধিরাও শনিবার কমিশনের সঙ্গে দেখা করেছেন। তাদের পাঁচ সদস্যের প্রতিনিধিদলে ছিলেন ডেরেক ও'ব্রায়েন, কল্যাণ ব্যানার্জি, সাগরিকা ঘোষ, সাকেত গোখলে এবং আইনজীবী অভিনব সিং। তৃণমূলের দুই গোষ্ঠীর বক্তব্য শুনল নির্বাচন কমিশন, বিদ্রোহী শিবিরের কাছে চাইল আরও নথিপত্র।
বৈঠক শেষে ঋতব্রত ব্যানার্জি বলেছেন, কমিশনের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চের সামনে মৌখিকভাবে তাদের বক্তব্য তুলে ধরেছেন এবং সব প্রশ্নের উত্তর দিয়েছে। কিছু নথিও দেখানো হয়েছিল, পরে কমিশন অতিরিক্ত নথি জমা দিতে বলেছে। প্রতীক নিয়ে ১০০ শতাংশ আশাবাদী ঋতব্রত ব্যানার্জি। রেজিনগর ও নন্দীগ্রাম বিধানসভা উপনির্বাচনের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার আগে ঋতব্রত শিবির নির্বাচনী প্রতীক নিয়ে কোনো আশ্বাস পেয়েছে কিনা, জানতে চাইলে ব্যানার্জি বলেন, তারা নির্দিষ্ট সময়সীমার আগেই বিষয়টি নিষ্পত্তি করার জন্য কমিশনকে বিশেষভাবে অনুরোধ করেছেন। আমাদের এখন নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের জন্য অপেক্ষা করতে হবে। কল্যাণ ব্যানার্জি জানান, আমাদের কাছে নতুন কোনও নথি চাওয়া হয়নি। আমরা আমাদের প্রয়োজনীয় বক্তব্য রেখেছি।'
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের পরাজয়ের পরেই নির্বাচিত বিধায়কদের অধিকাংশ ঋতব্রত ব্যানার্জির নেতৃত্বে পৃথক শিবিরে যোগ দেন। মমতা এবং অভিষেক ব্যানার্জি নেতৃত্ব অস্বীকার করেন তাঁরা। বিধানসভাতেও তৃণমূলের সংখ্যাগরিষ্ঠ জয়ী বিধায়ক অভিষেক ব্যানার্জির পাঠানো চিঠি অনুযায়ী শোভনদেব চ্যাটার্জিকে না মেনে ঋতব্রত ব্যানার্জিকে বিরোধী দলনেতা হিসাবে বেছে নেন। ঋতব্রত শিবিরের দাবি, তাঁরাই আসল তৃণমূল, কারণ সংখ্যাগরিষ্ঠের সমর্থন তাঁদের কাছে রয়েছে। কালীঘাট শিবিরও দলের নিয়ন্ত্রণ কিংবা প্রতীক ছাড়তে নারাজ। এই সংক্রান্ত সমস্যার সমাধান চেয়ে দুই শিবিরই নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দিয়েছিল।
দুই শিবিরের কাছে প্রথমে ব্যাখ্যা চেয়েছিল কমিশন। কালীঘাটপন্থীরা ব্যাখ্যা দেন। সময় চেয়েছিলেন ঋতব্রতেরা। তার মধ্যেই রাজ্যে জোড়া উপনির্বাচনের দিন ঘোষণা হয়ে যায়। পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রাম ও মুর্শিদাবাদের রেজিনগরে উপনির্বাচন হবে আগামী ৬ অক্টোবর। তার ভোটগণনা রয়েছে ৯ অক্টোবর। মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ১৬ সেপ্টেম্বর। তৃণমূলের দুই শিবিরই উপনির্বাচনে প্রার্থী দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। কিন্তু একই দলের নামে, একই প্রতীকে দু’জন প্রার্থীর ভোটে লড়া সম্ভব নয়। তাই দিল্লিতে এই সমস্যা নিয়ে আলোচনার জন্যই দুই শিবিরকে বৈঠকে ডাকে কমিশন।
এদিন কমিশনের সঙ্গে তৃণমূলের দুই গোষ্ঠীর গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের পর মনে করা হচ্ছে, ‘ঘাস ফুলের’ তৃণমূলের প্রতীক কার সেই প্রশ্ন উত্তর সম্ভবত ৬ অক্টোবর হতে চলা নন্দীগ্রাম এবং রেজিনগর বিধানসভার উপনির্বাচনের আগে পাওয়া যাবে না। উপনির্বাচনের আগে অন্তর্বর্তী কোনও সিদ্ধান্ত নিতে পারে নির্বাচন কমিশন। দলের নাম ও প্রতীক নিয়ে তৃণমূলের দুই গোষ্ঠীর দাবি খতিয়ে দেখা শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন। অনুমান, আপাতত প্রতীক জোড়াফুল ফ্রিজ করে উপনির্বাচনের জন্য দু-পক্ষকে অস্থায়ী নাম ও প্রতীক দিতে পারে নির্বাচনকমিশন।
Faction Over TMC Name Symbol
প্রতীক কার? কমিশনের শুনানি তৃণমূলের দুপক্ষের!
×
Comments :0