Dilapidated School

ভগ্নপ্রায় স্কুল, প্রশাসনে জানিয়েও ব্যবস্থা হয়নি বলছেন প্রধান শিক্ষক

জেলা

ইন্দপুরের হরিডিহি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বিপদজনক ছবি। ছবি: মধুসূদন চ্যাটার্জি।

‘‘আমাদের ছেলে মেয়েরা পড়াশোনা করতে গিয়ে কী স্কুলের ছাদের চাঙড় চাপা পড়ে মারা যাবে? নতুন সরকারের মুখে বহু ভাষন শুনছি আমরা, কিন্তু গ্রামাঞ্চলে একের পর স্কুল যে বেহাল অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছে তার কী হবে? এর সমাধানের কথা তো শুনতে পাচ্ছিনা’’ বৃহস্পতিবার সকালে বাঁকুড়া জেলার ইন্দপুর থানার প্রান্তিক গ্রাম হরিডিহি গ্রামের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে একাধিক অভিভাবক অভিভাবিকা এই প্রশ্ন তোলেন। তাঁরা জানান, একবার স্কুলে গিয়ে দেখে আসুন কেমন অবস্থায় স্কুলটা চলছে? এখন তো প্রতিদিনই বাঁকুড়া জেলার সমস্ত প্রান্তে ঝড়, বৃষ্টি, বজ্রপাত হচ্ছে। বাদ নেই ইন্দপুরও। সেখানে কোন ভরসায় ছেলে মেয়েদের স্কুলে পাঠাব? কিন্তু ছেলে মেয়েগুলোতো ঘরে থাকতে চায়না। মাষ্টারমশাইরা তাদের যত্ন নিয়ে পড়ান, আর নিজেদের মধ্যে একটা দারুন বন্ধুত্ব সম্পর্কও গড়ে উঠেছে। তার টানেই সবাই স্কুল যেতে চায় বন্ধু বান্ধবীদের সঙ্গে কথাবার্তা হবে। এটা পড়াশোনার পাশাপাশি একটা আলাদা আনন্দের ক্ষেত্র শিশুদের কাছে। এটা আমরা কজন উপলব্ধী করি? কিন্তু যে বিপদজনক অবস্থা হয়ে আছে স্কুলটি তাতে তো ভয় পাওয়ারই কথা। জানান, গ্রামের অভিভাবক উদয়ভানু হাজরা। 


স্কুলে গিয়ে দেখা গেল আক্ষরিক অর্থেই ভয়াবহ অবস্থায় চলছে হরিডিহি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি। আশে পাশে গ্রামের মধ্যে এটিই একমাত্র শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। বামফ্রন্ট সরকারের সময়ই এখানে এই প্রাথমিক বিদ্যালয়টি গড়ে ওঠে। হরিডিহি ছাড়াও বামুনডাঙ্গা গ্রামের শিশুরা এই স্কুলে পড়াশোনা করতে আসে। দেখা গেল দুই কক্ষ বিশিষ্ট স্কুলের দুটি কক্ষই ও বারান্দায় চাঙড় ফেটে পড়ছে। ঢালাই ছাদের পাথর, রড বেরিয়ে আছে। একটু ঝিরঝিরে বৃষ্টি হলেই জল পড়ে। ‘‘ আমাদের খাতা, বই, মাথা সব ভিজে যায়’’ জানায় পড়ুয়ারা। তারা জানায় স্কুল চলাকালীন অবস্থাতেও বেশ কয়েকবার চাঙড় এসে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে স্কুল কর্তৃপক্ষ ঐ বিপদজনক জায়গা গুলিতে তারের জাল লাগিয়েছেন। কিন্তু তাতেও রক্ষা নেই। 
স্কুলের শিক্ষকরা জানান, দুটি কক্ষে শিশু শ্রেনী থেকে চতুর্থ শ্রেনী পর্যন্ত শিশুরা গাদাগাদি করে বসে। কিন্তু ছাদের নানা অংশ তো ফাটা, আবার যেখানটা দেখা যাচ্ছে ঠিক আছে সেই অংশ থেকেও চাঙড় পড়ছে। আসলে পুরো স্কুলের ছাদ, প্রাচীর সবটাই গেছে। এই বিপদজনক বারান্দাতে বসেই শিশুরা মিড ডে মিলের খাবার খায়। 
এদিন স্কুলের প্রধান শিক্ষক সলিল মন্ডল জানান, প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে বারে বারে জানিয়েও কিছু ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। স্কুলের জন্য আরও শ্রেনীকক্ষও দরকার। দ্রুত এর সংস্কার দরকার। ইন্দপুরের বিডিও প্রসেনজিৎ চৌধুরী জানান, স্কুলের সমস্যাটি খতিয়ে দেখা হবে। এলাকার মানুষের প্রশ্ন এতদিন ধরে এই অবস্থায় স্কুল চলছে কারুর কোন নজর পড়লনা? এই বর্ষায় টিকবে তো স্কুলটি? এই আশংকায় বহু অভিভাবক তাঁদের ছেলে মেয়েকে পাঠাতে চাইছেনা। ছেলে মেয়েরাও একটা মানসিক যন্ত্রনায় ভুগছে।

Comments :0

Login to leave a comment