পারিবারিক অশান্তি ও দীর্ঘদিনের টানাপোড়েনের জেরে মর্মান্তিক পরিণতি বানারহাট ব্লকের দুরামারি এলাকা। বুধবার সন্ধ্যায় মরাঘাট জঙ্গলের মধুবনী সেকশন থেকে স্ত্রী চুমকি রায়ের (৩৮) ক্ষতবিক্ষত দেহ উদ্ধারের পর, বৃহস্পতিবার সকালে উদ্ধার হলো স্বামী বিমল রায়েরও(৪৫) ঝুলন্ত দেহ। দিশেহারা দম্পতির একমাত্র সন্তান।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে খবর, পেশায় ব্যাটারি ব্যবসায়ী বিমল রায়ের সঙ্গে স্ত্রী চুমকি দেবীর সম্পর্ক বেশ কিছুদিন ধরেই তিক্ত ছিল। পরিবারের অভিযোগ, বিমলের এক ভাইয়ের সঙ্গে চুমকি দেবীর বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক রয়েছে—এই সন্দেহে বিমলের সঙ্গে স্ত্রীর প্রায়ই অশান্তি হত। এ নিয়ে গ্রামে একাধিকবার সালিশি সভাও হয়েছিল।
ঘটনার সূত্রপাত বুধবার, স্থানীয়রা স্বামী-স্ত্রীকে একসঙ্গে জঙ্গলের দিকে যেতে দেখেছিলেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই বিমলের ১৫ বছর বয়সী ছেলে বিরাজ রায়ের মোবাইলে বাবার পাঠানো একটি হোয়াটসঅ্যাপ ভয়েস মেসেজ আসে। তাতে বিমল জানান, তিনি স্ত্রীকে খুন করেছেন। এরপরই তাঁর ফোন বন্ধ হয়ে যায়। মেসেজটি পাওয়ার পর পরিবারের লোকজন বিষয়টি নিয়ে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন এবং পুলিশে খবর দেন।
বুধবার সন্ধ্যায় পুলিশ মরাঘাট জঙ্গলের মধুবনী সেকশন থেকে চুমকি দেবীর দেহ উদ্ধার করে। ঘটনাস্থল থেকে একটি রক্তমাখা ছুরিও পাওয়া যায়। এরপর পুলিশের তল্লাশিতে বৃহস্পতিবার জঙ্গল থেকেই বিমল রায়ের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, স্ত্রীকে খুনের পর বিমল নিজেই আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন।
এই ঘটনায় একমাত্র সন্তান বিরাজ রায় এখন অভিভাবকহীন। শোকে কাতর কিশোরকে সান্ত্বনা দেওয়ার সময় বানারহাট থানার আইসি সুরাজ থাপার মানবিক রূপ প্রত্যক্ষ করেছেন এলাকাবাসী। ঘটনার তদন্তে জলপাইগুড়ি জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (গ্রামীণ) সত্যম ব্যানার্জি ও ধুপগুড়ির এসডিপিও অনিরুদ্ধ পাল চৌধুরী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, মৃতদেহ দুটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। পারিবারিক কলহ, বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের অভিযোগ এবং হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজের সত্যতা সব দিকই খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ফরেনসিক দল ঘটনাস্থল থেকে তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহ করেছে।
Comments :0