Sonam Wangchuk CJP

১৯ তম দিনে কমল ৯ কেজি ওজন, অনশনে থেকেই সংসদ অভিযানে যোগ দেওয়ার ডাক ওয়াংচুক'র

জাতীয়

অনির্দিষ্টকালীন অনশনের ১৯ তম দিনে, বৃহস্পতিবার শিক্ষাবিদ সোনাম ওয়াংচুকের ওজন ৯ কেজি কমে গিয়েছে। সেইসঙ্গে, ডাক্তাররা সতর্ক করেছেন যে অনির্দিষ্টকালীন অনশনের কারণে তার শারীরিক অবস্থা সঙ্কটজনক জায়গায় পৌঁছেছে, তাঁর অঙ্গে ও সেই প্রভাব পড়তে পারে। 
বুধবার গভীর রাতে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় রাজনৈতিক নেতা ও সমর্থকদের অনুরোধ সত্ত্বেও সোনাম ওয়াংচুক অনশন ভাঙার সম্ভাবনা নাকচ করে দেওয়ার কয়েক ঘণ্টা পরই তাঁর শারীরিক অবস্থার এই তথ্যটি সামনে এসেছে। 
তিনি সেই ভিডিও বার্তায় বলেন যে, সরকারের কাছ থেকে কোনও  সাড়া না পেয়ে অনশন ভঙ্গ করলে তা ভুল বার্তা দেবে। এর পরিবর্তে, তিনি ২০ জুলাই ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-র ডাকা 'চলো সংসদ' মিছিলকে আরও জোরদার করার জন্য জনগণকে আহ্বান জানান। 
দিল্লি হাইকোর্ট যদিও বৃহস্পতিবার বলেছে,  "যে কোনও নাগরিকের জীবনই মূল্যবান"। কর্তৃপক্ষকে প্রত্যেকদিন সোনাম ওয়াংচুকের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করার নির্দেশ দিয়েছে। চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য নির্দেশ দিয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকার ও দিল্লি সরকার আদালতকে জানায় যে, নিয়মিত স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণের বিষয়ে তাদের কোনও আপত্তি নেই।
ডা.সতীশ লাম্বার দেওয়া সর্বশেষ মেডিকেল বুলেটিন অনুযায়ী, অনশন শুরুর পর থেকে ওয়াংচুকের ওজন নয় কেজিরও বেশি কমেছে। পরীক্ষায় তাঁর রক্তে শর্করার মাত্রা ৮০ মিগ্রা/ডেসিলিটার সহ  নাড়ির গতি ৭২\ প্রতি মিনিট পাওয়া গেছে। এ ছাড়া রক্তচাপ ছিল শুয়ে থাকা অবস্থায় ১০৫/৬১  এবং বসে থাকা অবস্থায় ১০১/৬৫। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন যে তাঁর শরীরে জলের ভারসাম্য মোটামুটি ভালো রয়েছে।  সেইসঙ্গে , তিনি মানসিকভাবে সজাগ আছেন।
দিল্লি হাই কোর্টের নির্দেশিকার আগে একটি ভিডিও বার্তায় ওয়াংচুক তার স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বিগ্ন না হওয়ার বার্তা দিয়ে বলেন, এখনও পর্যন্ত হওয়া স্বাস্থ্য পরীক্ষায় এখনও পর্যন্ত কোনও তাৎক্ষণিক বিপদের ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি। তিনি বলেন, "আমার অবস্থা এমন নয় যে আমি দুই-চার দিনের মধ্যে মারা যাব। অনেক ডাক্তারি পরীক্ষা করা হয়েছে। একটি ইসিজি-ও করা হয়েছিল এবং সেটির রিপোর্টও খারাপ নয়। আমি আরও অনেক দিন চালিয়ে যেতে পারব। হ্যাঁ, দুর্বলতা আছে এবং আমার পেশীগুলো দুর্বল হয়ে পড়ছে, কিন্তু আমার হৃৎপিণ্ড এবং শরীরের মূল অংশ এখনও ঠিক আছে।" 
ওয়াংচুক তাঁর সমর্থকদের অনশন ভাঙার জন্য অনুরোধ না জানিয়ে বরং, ২০ জুলাই ‘চলো সংসদ’ মিছিলে বিপুল সংখ্যায় অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের উচিত বিষয়টিকে ‘রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও গণতন্ত্রের এক বাস্তব পাঠ’ হিসেবে দেখা।
তিনি ওয়েবসাইট অথবা মিসড-কল পরিষেবার মাধ্যমে এই পদযাত্রায় অংশগ্রহণের জন্য নিবন্ধন করতেও মানুষের প্রতি আহ্বান জানান।
সিজেপি জানিয়েছে যে, ২০ জুলাইয়ের মিছিলে এ পর্যন্ত প্রায় দেড় লক্ষ মানুষ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করেছেন।
পাশাপাশি, কৃষক নেতা রাকেশ টিকাইত জানিয়েছেন যে, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তিনি যন্তর মন্তরে ওয়াংচুকের সঙ্গে দেখা করবেন। তিনি অভিযোগ করেন যে, ১৯ দিন ধরে অনির্দিষ্টকালের অনশন চালিয়ে যাওয়া সত্ত্বেও সরকার ওয়াংচুকের শারীরিক অবস্থার বিষয়ে খুব একটা গুরুত্ব দিচ্ছে না।
এছাড়া, দিল্লির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালেরও আজ যন্তর মন্তরে ওয়াংচুকের সঙ্গে দেখা করতে যাচ্ছেন।

Comments :0

Login to leave a comment