Job Fraud

চাকরির টোপে প্রায় ৭ লক্ষ গায়েব! খুনের হুমকি, দুই বিজেপি নেতার বিরুদ্ধে থানায় এফআইআর

জেলা

এক সপ্তাহ আগেই এক ব্যবসায়ীকে ফোনে ডেকে নিয়ে অপহরণ করে টাকা লুঠের অভিযোগে বিজেপির জেলা কমিটির আমন্ত্রিত সদস্য পঙ্কজ সাহাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তিনি এখন জেল হেপাজতে বিচারাধীন বন্দী।
দলের মুখ রক্ষা করতে বিজেপি দল তাকে পদ থেকে অব্যাহতি দিয়েছে। সেই রেশ কাটতে না কাটতেই ফের সেই শীতলখুচিতে চাকরি পাইয়ে দেবার নাম করে ৬.৮০ লক্ষ টাকা নিয়ে প্রতারণা ও খুনের হুমকির অভিযোগ জমা পড়লো সেই শীতলখুচি থানাতেই। এবারেও নাম জড়ালো বিজেপি দলের দুই নেতার বিরুদ্ধে!
শীতলখুচির খারিজা ধাপেরচাত্রা গ্রামের বাসিন্দা সত্যেন বর্মন লিখিত অভিযোগ করেছেন, নিজেদের স্বাস্থ্য দপ্তরের আধিকারিক পরিচয় দিয়ে কমলকান্তি রায় ও মনোজ কুমার রায় আমায় স্বাস্থ্য দপ্তরে "গ্রুপ -সি" পদে চাকরির টোপ দেয়। এরজন্য আমায় ৬ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা দিতে বলে। জমি বিক্রি করে আমি ওই দুজনকে পুরো টাকাটাই দিই। পরে বুঝতে পারি আমি প্রতারনার শিকার হয়েছি। ওই দুই ব্যক্তি হলেন রাণীরহাটের বিজেপির ছয় নং মন্ডলের সাধারণ সম্পাদক। অন্যজন পশ্চিম গোসাইরহাটের বাসিন্দা। ইনি আবার দলের জেলার নেতা!


বুধবার শীতলখুচি থানায় লিখিত অভিযোগ করার পর প্রতারিত সত্যেন বর্মন বলেন, ২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাসে ওই দুই ব্যক্তি নিজেদের স্বাস্থ্য দপ্তরের আধিকারিক পরিচয় দিয়ে চাকরির টোপ দেয়। প্রথমে বেশ কয়েকবার ওদের ফিরিয়ে দিই। পরে চতুর্থ বারে ওদের প্রস্তাবে রাজি হই।
তার জন্য আমার মাধ্যমিক, স্নাতক শিক্ষাগত যোগ্যতার আসল নথিও নিয়ে যায়। দফায় দফায় আমি ৬.৮০ লক্ষ টাকা দিয়েছি। যার মধ্যে ৪.৭৯ লক্ষ টাকা অন লাইনে পেমেন্ট করেছি। প্রতিশ্রুতি ছিল টাকা দেবার এক মাসের মধ্যে নিয়োগপত্র মিলবে।
অন লাইন পেমেন্টের সব নথি আমি পুলিশের কাছেও জমা দিয়েছি। বাকি টাকা নগদে দিয়েছি। টাকা ও শিক্ষাগত যোগ্যতার মূল নথি দেওয়ার পরেও যখন চাকরি হচ্ছিল না তখন খোঁজ নিয়ে জানতে পারি ওরা মিথ্যে পরিচয় দিয়েছে। দুজনের কেউই স্বাস্থ্য দপ্তরের আধিকারিক নয়। দুজনেই বিজেপির নেতা। প্রথম দিকে ফোন করলেও ওরা আমার ফোন রিসিভ করছিল না।এরপর ওদের বাড়ি গিয়ে টাকা ফেরত চাইতেই আমায় খুনের হুমকি দেয় দুজনেই। বাধ্য হয়ে বুধবার পুলিশের কাছে সবটা লিখিত আকারে জানিয়েছি।
দুই অভিযুক্ত বিজেপি নেতার সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা টাকা নেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করলেও চাকরি পাইয়ে দেবার বিষয়টি অস্বীকার করেন। পুলিশ অভিযোগ পেয়ে তদন্ত শুরু করেছে।
এদিকে সিতাইতে বিজেপির চার মাসের শাসনকালেই দলের অন্য গোষ্ঠীর হামলা ও হুমকির কারণে সিতাই বিধানসভার ৬ নং মন্ডলের যুব সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক স্বপন বর্মন বাড়ি ছাড়া রয়েছেন। তার ওকরাবাড়ির গ্রামের বাড়িতে গত মঙ্গলবার বিজেপি কর্মীরা হামলা, ভাঙচুর এমনকি খুনের হুমকি দেওয়া হয়েছে। স্বপন বর্মনের স্ত্রী পুনম বর্মন মোট ৬ বিজেপি কর্মীর বিরুদ্ধে দিনহাটা থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। স্বপন বর্মন প্রাণ বাঁচাতে এখন ঘরছাড়া!

Comments :0

Login to leave a comment