শিলিগুড়ি মহকুমা পরিষদের অচলাবস্থা দূরীকরণ সহ সাত দফা দাবিকে সামনে রেখে সারা ভারত কৃষক সভা দার্জিলিঙ জেলা কমিটির পক্ষ থেকে আগামী ১০ সেপ্টেম্বর ‘শিলিগুড়ি মহকুমা পরিষদ চলো’ কর্মসূচি হবে। মঙ্গলবার দুপুরে হিলকার্ট রোড অনিল বিশ্বাস ভবনে সংগঠনের পক্ষ থেকে সাংবাদিক বৈঠক করে এই কর্মসূচি বিষয়ে জানান নেতৃবৃন্দ। বলেন, ওইদিন দুপুর একটা নাগাদ শিলিগুড়ি মহানন্দা সেতুর নীচ থেকে মিছিল করে শিলিগুড়ি মহকুমা পরিষদে গিয়ে সাত দফা দাবিতে অতিরিক্ত কার্যনির্বাহী আধিকারিকের কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হবে। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে দ্রুত আইনসম্মত ও গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে অচলাবস্থার অবসান, গ্রাম এলাকার রাস্তা, পানীয় জল নিকাশি, সেচ, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা সংক্রান্ত প্রকল্পগুলির বাস্তবায়ন, দরিদ্র মহিলাদের অন্নপূর্না যোজনার আওতায় আনা, ১০০ দিনের কাজ চালু, কৃষকদের স্বার্থে গরুর হাট খুলে দেওয়া, শারদোৎসবের আগে নদীঘাট খুলে দেওয়া ইত্যাদি। এদিনের সাংবাদিক বৈঠকে ছিলেন গণতান্ত্রিক আন্দোলনের নেতৃত্ব সমন পাঠক।
সংগঠনের রাজ্য কমিটির অন্যতম সদস্য তাপস সরকার ও সারা ভারত কৃষক সভার দার্জিলিঙ জেলা সম্পাদক ঝরেন রায় বলেন, শিলিগুড়ি মহকুমা পরিষদের সভাধিপতি পদত্যাগ করেছেন। ফলে গত প্রায় চারমাস ধরে শিলিগুড়ি মহকুমার ২২টি গ্রাম পঞ্চায়েত, একটি মহকুমা পরিষদ ও চারটি পঞ্চায়েত সমিতি অভিভাবকহীন অবস্থার মধ্যে পড়েছে। শিলিগুড়ি গ্রামীণ এলাকার বিভিন্ন সমস্যা এবং পঞ্চায়েত ও মহকুমা পরিষদে ব্যাপক অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। শিলিগুড়ি মহকুমা পরিষদ সহ শিলিগুড়ি ত্রিস্তরীয় গ্রাম পঞ্চায়েতে কোনরকম উন্নয়নের কাজকর্ম হচ্ছে না। এই অচলাবস্থা থেকে মুক্তি পেতে ১০ সেপ্টেম্বর গ্রামীন এলাকার কৃষক সহ খেটে খাওয়া মানুষ শিলিগুড়ি মহকুমা পরিষদে গিয়ে তাদের দাবিদাওয়া বিষয়ে জবাব চাইবেন। গ্রামীণ এলাকায় নালা নর্দমা, রাস্তাঘাটের সংষ্কার কিছুই হয়নি। জল উপছে পড়েছে। ড্রেনগুলো নোংরা আবর্জনায় ভরে গিয়ে উপছে পড়ছে। ডেঙ্গুর প্রকোপ দেখা দিচ্ছে। পঞ্চায়েতগুলোতে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। শিলিগুড়ি মহকুমা পরিষদের অচলাবস্থার কারণে এখনও পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর আবাস যোজনার প্রকল্পের সার্ভের কাজ গ্রামাঞ্চলে সঠিকভাবে হয়নি। অন্নপূর্না যোজনা প্রকল্পে বহু গরীব মহিলাদের নাম বাদ পড়েছে। তৎকালীন বামফ্রন্ট পরিচালিত শিলিগুড়ি মহকুমা পরিষদে আশি জনের বেশী কর্মচারি ছিলেন। কিন্তু এই সময়ে প্রয়োজনীয় সংখ্যক কর্মচারি নেই। মাত্র ২৬জন কর্মচারি দিয়ে মহকুমা পরিষদের কাজকর্ম পরিচালিত হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, এসআইআরে প্রকৃত ভোটার বহু মানুষের নাম পড়েছে। শিলিগুড়ি গ্রামীণ এলাকায় গরুহাটিগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ফলে যারা গরু পালন করেন তারা সমস্যার মধ্যে পড়েছেন। শিলিগুড়ি মহকুমার নদীগুলোকে কেন্দ্র করে গ্রামীণ এলাকায় অসংখ্য মানুষের রুটিরুজি চলে। কিন্তু নদীগুলো এই সময়ে বন্ধ হয়ে রয়েছে। নদী বন্ধ থাকার কারণে অনেক নির্মান শ্রমিক কর্মহারা হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি বালি মাফিয়াদের দাপট বেড়েছে। সরকারের ট্যাক্স ফাঁকি পড়ছে। অন্যদিকে সাধারণ মানুষের হাতে কাজ নেই। গ্রামাঞ্চলের মানুষেরা পঞ্চায়েতের সুযোগ সুবিধা থেকে শুরু করে ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। নদীঘাট বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে তারা কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। মানুষের মধ্যে ত্রাহি ত্রাহি রব উঠেছে। তাদের চাহিদা মিটছে না। মহকুমা পরিষদের বর্তমান শাসকের হাতে হলুদ কার্ড ধরানো হবে। নির্দিষ্ট সময়ের আগে শিলিগুড়ির গ্রামাঞ্চলকে বেহাল অবস্থায় রেখে নির্বাচিত সভাধিপতি সহ জনপ্রতিনিধিরা সবাই পালিয়ে গেছে। প্রশাসনিক জটিলতার কারণে সভাধিপতি নির্বাচিত করা যাবে না। আইনী জটিলতা থেকে মুক্ত করে শিলিগুড়ি গ্রামীণ এলাকার উন্নয়ন তরান্বিত করতে সরকারকে পদক্ষেপ গ্রহন করতে হবে। এই সমস্ত দাবিতেই মহকুমা পরিষদে কর্মসূচি হবে। সকলের অংশগ্রহনে কর্মসূচিকে সফল করার আহ্বান জানান তারা।
Siliguri Krishak Sabha Press Meet
১০ সেপ্টেম্বর 'শিলিগুড়ি মহকুমা পরিষদ চলো’ কর্মসূচি কৃষক সভার
×
Comments :0