দীপশুভ্র সান্যাল: জলপাইগুড়ি
রাতের অন্ধকারে সিপিআই(এম) জলপাইগুড়ি জেলা দপ্তরে হামলার সঙ্গে জড়িত বিজেপি দুষ্কৃতীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে হলো মিছিল। জেলা দপ্তর সুবোধ সেন ভবনে হামলা ও অগ্নি সংযোগ করা হয় সোমবার রাতে। মঙ্গলবার মিছিল জলপাইগুড়ি শহরের বিভিন্ন পথ পরিক্রমা করে। সিপিআই(এম) ডাকে এই মিছিল হওয়ার কথা থাকলেও পরবর্তীতে বামপন্থী দলসমূহের মিলিত উদ্যোগে মিছিল হয়।
মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, মিছিল সুবোধ সেন ভবনের সামনে থেকে শুরু হয়ে কদমতলা, বেগুনটারি, মার্চেন্ট রোড থানা মোড় হয়ে জেলা বামফ্রন্টের কার্যালয় সুবোধ সেন ভবনের সামনে এসে শেষ হয়। মিছিল চলাকালীন দেখা যায় ডিবিসি রোড বিজেপির জেলা দপ্তরের সামনে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা পাহারা দিচ্ছে।
মিছিল শেষে জেলা দপ্তরে পার্টির রক্ত পতাকা উত্তোলিত হয়। এই পতাকা দণ্ডেও হামলা করেছিল বিজেপি’র দুষ্কৃতীরা। এদিন পতাকা উত্তোলন করেন সিপিআই(এম) রাজ্য সম্পাদক মন্ডলী সদস্য শ্রমিক নেতা জিয়াউল আলম। পাশে থাকা শহীদ বেদীর উপরের নির্মাণে মুষ্টিবদ্ধ হাত তখনো ভাঙা অবস্থায় রয়েছে। সেখানেই পুষ্পার্ঘ্য নিবেদন করেন জিয়াউল আলম, রাজ্য কমিটির সদস্য সলিল আচার্য, জেলা সম্পাদক পীযূষ মিশ্র, সিপিআই(এম)’র প্রবীণ নেতা প্রাক্তন সাংসদ জিতেন দাস, পার্টির রাজ্য কমিটির সদস্য ময়ূখ বিশ্বাস, ফরওয়ার্ড ব্লকের রাজ্য নেতা প্রাক্তন বিধায়ক গোবিন্দ রায়, সিপিআই(এমএল)-এর নেতা প্রদীপ গোস্বামী সহ অন্যান্য বামপন্থী দলসমূহের নেতৃবৃন্দ।
উল্লেখ্য সোমবার রাত ১০.৩০ নাগাদ সিপিআইএম জেলা পার্টি দপ্তর সুবোধ সেন ভবনে ভাঙ্গা ইট, কাটা পাথর, লাঠিসোটা ধারালো অস্ত্র, পেট্রোল বোমা নিয়ে হামলা করে বিজেপির দুষ্কৃতী বাহিনী। ইট পাথর ঢিল মেড়ে পার্টি অফিসের বাইরের কাঁচের জালনা , সিঁড়িতে লাগানো কাঁচের ফ্রেম, হোস্টিং ফ্ল্যাগের স্টিলের দন্ড ভেঙে পেট্রোল দিয়ে পতাকা পুড়িয়ে দেওয়া হয়। হোস্টিং ফ্ল্যাগ আধপোড়া অবস্থায় উদ্ধার করে যুব নেতা দেবরাজ বর্মন, পিন্টু দাস। তখন দেবরাজ বর্মন ও গেটের সামনে থাকা পিন্টু দাস সহ ছাত্র যুব নেতৃত্ব ও পার্টি কর্মীদের উপর ইট পাটকেল ছুড়ে বিজেপি কর্মীরা ভিতরে প্রবেশ করতে চায়। দুষ্কৃতী বাহিনীর পথ আটকে প্রতিরোধ গড়ে তোলে তাঁরা। দীর্ঘক্ষণ এভাবে তান্ডব চালানোর পরও পুলিশের দেখা মেলেনি। আক্রান্ত হন দেবরাজ বর্মন, সোহিনী রায়, প্রভাকর সরকার, দিয়া সাহা, পূর্না দত্ত ভৌমিক, পঞ্চম ঘোষ, বেদব্রত ঘোষ সহ ভেতরে থাকা অন্যান্য পার্টির নেতৃবৃন্দ ও ছাত্র যুবরা।
রাতে জলপাইগুড়ি কোতোয়ালি থানায় ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ জানিয়ে এজাহার দাখিল করা হয়। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত প্রশাসনের তরফে বিজেপির দুষ্কৃতীদের আটক করা হয়নি।
মঙ্গলবার মিছিল শেষে সংক্ষিপ্ত সভায় জিয়াউল আলম বলেন, লাল ঝাণ্ডা শ্রমিক কৃষক মেহনতি মানুষের রক্ত ঘামে তৈরি। হামলা করে, আগুন জ্বালিয়ে লাল ঝান্ডাকে শেষ করা যাবে না। রাজ্যের বিজেপি সরকার মাত্র কয়েক দিনেই প্রমাণ করে দিয়েছে তারা কতখানি গণতন্ত্র-বিরোধী। রাতের অন্ধকারে সিপিআই(এম) জেলা দপ্তরে হামলাকারীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করতে হবে।
পীযূষ মিশ্র বলেন, বিজেপি গণতান্ত্রিক পরিবেশ নষ্ট করতে চায়। বহু মানুষ বিজেপি’র বিরুদ্ধে সিপিআই(এম)’র সঙ্গে যুক্ত হচ্ছেন। তাই জেলা পার্টি দপ্তরে এই আক্রমণ। এই আক্রমণ গণতন্ত্রপ্রিয় মানুষ মেনে নেবেন না। হামলা করে পতাকা পুড়িয়ে বা পার্টি অফিস ভেঙে সিপিআইএম-কে রোখা যায়নি।
জেলা শহরের পাশাপাশি জেলার বিভিন্ন স্থানে এদিন হামলার ঘটনায় যুক্ত বিজেপি দুষ্কৃতীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে প্রতিবাদ মিছিলে পা মেলান অসংখ্য মানুষ। জলপাইগুড়ি জেলা শহরের প্রতিবাদ কর্মসূচিতে বিরাট সংখ্যক খেটে খাওয়া মানুষ ও কম বয়সীদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।
Comments :0